ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পিছিয়ে গেল চীনের মানববিহীন চন্দ্রাভিযান উৎক্ষেপণ


পিছিয়ে গেল চীনের মানববিহীন চন্দ্রাভিযান উৎক্ষেপণ

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : চীন জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যে বেইজিংয়ের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত একটি গবেষণামূলক চন্দ্রাভিযান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একটি বিরল উৎক্ষেপণ ব্যর্থতার প্রায় দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থার বরাত দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি জানিয়েছে, ‘সমন্বিত মূল্যায়নের’ পর দেখা গেছে, লং মার্চ-৫ ক্যারিয়ার রকেটের মাধ্যমে চ্যাং’ই-৭ চন্দ্রযান পাঠানোর এই মিশনটি ‘উৎক্ষেপণের শর্ত পূরণ করছে না’ এবং এ বছর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন: মিসরে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ৩৪ জন আহত

সংস্থাটি জানায়, উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সতর্কতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং মিশনের সাফল্য নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতে। তবে ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ হয়নি বা নতুন করে কবে উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য জানানো হয়নি।

এই মিশনের লক্ষ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির সন্ধান করা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চন্দ্রযানটি সপ্তাহান্তে অথবা সোমবার উৎক্ষেপণ করা হতে পারে।

গত সপ্তাহে চীনা মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছিল, চন্দ্রযান ও ক্যারিয়ার রকেটটি দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে উৎক্ষেপণের জন্য নেওয়া হয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত উৎক্ষেপণস্থল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো ভালো অবস্থায় ছিল এবং সেগুলোর পরিদর্শন শেষে ‘শিগগিরই’ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ছিল।

আরও পড়ুন: ইনফ্লুয়েন্সারের আত্মহনন, বাবার অভিযোগ সিইওকে দুষলেন

চ্যাং’ই-৭ মিশন পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনা এমন সময় ঘটছে, যখন হাইনান থেকে উৎক্ষেপিত একটি রকেট বিস্ফোরিত হওয়ার ভিডিও ও ছবি প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহও হয়নি। এতে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে আগুনের গোলার মতো দৃশ্য দেখতে পান।

ব্যর্থ ওই মিশনে লং মার্চ-৭এ ক্যারিয়ার রকেট ব্যবহার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছিল, রকেটটি ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

রকেটটি একটি ঝংসিং-৪বি যোগাযোগ স্যাটেলাইট বহন করছিল। উড্ডয়নের সময় এতে একটি ‘অস্বাভাবিকতা’ দেখা দেয় বলেও সিনহুয়া জানিয়েছিল।

ব্যর্থতার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যাকে দেশের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেইজিং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

চীনের মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটি প্রথমবারের মতো একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। মহাকাশ কর্মসূচির উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়ন এবং উৎক্ষেপণ ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীন ২০৩০ সালের আগে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রও তার আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের সারি দীর্ঘ হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ সপ্তাহে বাংলা কিউআরে ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার লেনদেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


৮ সপ্তাহে বাংলা কিউআরে ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার লেনদেন

দেশে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। ‘এক দেশ, এক কিউআর’ নীতি বাধ্যতামূলক করার পর থেকে ক্যাশলেস লেনদেনে অভাবনীয় সাড়া মিলছে। এই গত ৮ সপ্তাহে ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জানাচ্ছে, গত ২৮ জুন থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সময়ে এই লেনদেন সংঘটিত হয়েছে।

বাংলা কিউআর চালুর পর বাধ্যতামূলকভাবে এর মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে, যেমন একই সময়ে লেনদেনের আর্থিক মূল্য বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।

দেশে সব ধরনের কিউআর এর পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পর এই প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে দেশের সব প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কিউআর এর পরিবর্তে বাংলা কিউআর রাখার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে বাংলা কিউআর এর মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ১.৭৮ লাখ লেনদেন হতো। এসব লেনদেনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭.৩৩ কোটি টাকার কেনাকাটা হতো। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়ে ৩.০৩ লাখে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০.৩৮ কোটি টাকা।

এদিকে, বাংলা কিউআর গ্রহণকারী মার্চেন্টের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। গত ১ জুলাই প্রায় ১৬ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে।

বাংলা কিউআর ব্যবহারে বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ফলে দেশের ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে বাংলা কিউআরকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে এই লেনদেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় ভাইকে হত্যায় ৩ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন বারেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫২ পি.এম


বড় ভাইকে হত্যায় ৩ হাজার টাকায় খুনি ভাড়া করেন বারেক

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর ফারুক শেখ (৪৬) হত্যা মামলার রহস্য পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের আপন ছোট ভাই বারেক শেখসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা, রক্তমাখা পোশাক, মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেউটিল জামতলা এলাকার মো. খালেক শেখের ছেলে ও নিহত ফারুকের ছোট ভাই মো. বারেক শেখ (৪৪), দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন মন্ডলপাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) এবং একই এলাকার মো. বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ (৩০)।

নিহত ফারুক শেখ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকার খালেক শেখের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বসতঘরে ফারুক শেখকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে ওই দিনই গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি हत्या মামলা করেন। মামলার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক কলহ, জীবদ্দশায় মাকে মারধর এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বারেক শেখ হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি দৌলতদিয়া এলাকার সহকর্মী মো. আলমগীর হোসেন এবং মো. রুবেল শেখকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে নিয়োগ করেন।

পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে গেলে তিনি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা দুটি ধারালো দা তাদের হাতে তুলে দেন এবং নিজে অন্যত্র চলে যান। পরে আলমগীর ও রুবেল ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়ার হোসেন মন্ডলপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ নিজ বাড়ি থেকে মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রুবেল ও আলমগীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতার তিন আসামিকেই বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিপইয়ার্ডে ‘শূন্য প্রাণহানি’ নিশ্চিতের তাগিদ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০১ পি.এম


শিপইয়ার্ডে ‘শূন্য প্রাণহানি’ নিশ্চিতের তাগিদ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য জাহাজভাঙা শিল্পকে জিরো ক্যাজুয়ালটি বা শূন্য প্রাণহানির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে হবে।

একই সঙ্গে এখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।’ রবিবার (২৩ আগস্ট) সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৪ আগস্ট ওই ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত ১০ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক ও নগদ অর্থ তুলে দিতে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দুর্ঘটনাটি হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণে ঘটেছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাসটি তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদে অপসারণের মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ছিল না।

স্থানীয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের কাছেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ছিল না। বিশেষ করে এলএনজি বা গ্যাসবাহী জাহাজ কেনা ও কাটার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে থাকায় তদন্তকারীরা শুরুতে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি।

পরে গ্যাস বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারের জন্য বিএসবিআরএ ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলোকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। শিল্পনীতির বিধান অনুযায়ী দুই লাখ টাকা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার বাকি সাত লাখ টাকার চেক নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিধান অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ডে বসবাসকারী পাঁচ নিহত শ্রমিকের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচটি পরিবার তাদের স্থায়ী ঠিকানার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই অর্থ পাবে। মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের জীবনের কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে কোনো পরিবার যেন পথে না বসে কিংবা অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য না হয়, সে জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা দেয়।’

জেলা প্রশাসক বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে আরো প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে মালিকপক্ষ এবং শ্রম দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে হবে।

শিল্পের কোনো দুর্বলতা বা নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই তা চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প যেন কোনো ধরনের সংকটে না পড়ে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী নিহত শ্রমিকদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি শিল্পে নিয়োজিত সবার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে কাজ করার সময় শ্রমিকেরা বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলে নয়jonের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় সোমবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় সোমবার

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণা হবে সোমবার (২৪ আগস্ট)। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শেষ করার পর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চে এ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন), আপিল এবং জেল আপিলের শুনানি গ্রহণের পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ওই বেঞ্চে এ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির উপস্থিত ছিলেন। আসামি পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনির এবং অন্যান্য আইনজীবীরা।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি। গত ১৪ জুন থেকে এ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ জুলাই চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল।

নথিপত্রের সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর তা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দগ্ধ করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাসহ ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যান্য আসামিরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদদিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম এবং মহি উদ্দিন শাকিল।

নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্সের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলাটি হওয়ায় ডেথ রেফারেন্সের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। এসবের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের দিন ধার্য হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নিম্ন আদালতের দ্বারা দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি উচ্চ আদালতেও নিশ্চিত থাকবে এবং তাদের পরিবার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ন্যায়বিচার পাবে।

মেয়ের বিচারে আদালতের প্রতি আস্থা জানানোর পাশাপাশি বেঁচে থাকা অন্যান্য সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদেরকে প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে এবং মামলার বাদী-সাক্ষী হিসেবে পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকার কারণে প্রতিনিয়ত এক অদৃশ্য ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। অপরাধীদের সহযোগীরা যেকোনও সময় প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় ছেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত এবং সরকারের কাছে স্থায়ী নিরাপত্তা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%