০৯:০৯ এম
ভারতের অন্যতম দ্বীপপুঞ্জ লাক্ষাদ্বীপে ৪৭ বছর পর মদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হচ্ছে। শুক্রবার (৫ জুন) একটি সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ‘লাক্ষাদ্বীপ মদ্যপান-নিষেধাজ্ঞা আইন’ কার্যকরীভাবে সরানো হয়েছে।
লাক্ষাদ্বীপের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৯৭ শতাংশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির কারণে ১৯৭৯ সাল থেকে এখানে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ভারতের গুজরাট ও বিহার অঞ্চলে যেখানে মদ নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, লাক্ষাদ্বীপ তাতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানের মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রণে এখানে মদ কেনাবেচা সম্ভব হবে।
নতুন নিয়মের পরিবর্তনের মূল কারণ হলো লাক্ষাদ্বীপকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপের তুলনায় লাক্ষাদ্বীপ পর্যটকদের কাছে একটু পিছিয়ে পড়ছিল। কারণ মালদ্বীপসহ কিছু মুসলিম দেশগুলোর নির্দিষ্ট পর্যটন এলাকায় মদ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর এই দ্বীপে পর্যটকদের আগমন রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
২০২০ সালে সেখানে মাত্র ৩,৮৭৫ জন পর্যটক এসেছিলেন, কিন্তু ২০২৪ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৬৮,৩২৮ জনে। পর্যটকদের এই প্রবল আগ্রহকে কাজে লাগাতে কেন্দ্র সরকার মদের নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও লাক্ষাদ্বীপে মদের বাজার সবার জন্য খোলা হবে না। প্রশাসন কিছু নিয়ম ও ট্যাক্স চালু করেছে এবং ২১ বছরের নিচের কাউকে মদ বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এছাড়া লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক কোনো সময়ে মদ কেনাবেচার ওপর সীমা নির্ধারণ বা পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবেন। লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল খোদা প্যাটেল ২০২০ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ২০২১ ও ২০২৩ সালে এই সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব সংবাদে এসেছে। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, মদের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির ফলে দ্বীপে অপরাধ, আসক্তি এবং সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হতে পারে।
লাক্ষাদ্বীপের ৩৬টি দ্বীপের মধ্যে মাত্র ১০টিতে বসবাস রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ জনগণ মুসলিম এবং তারা প্রধানত তফসিলি উপজাতির সদস্য। তবে কেন্দ্র সরকার মনে করে, জম্মু-কাশ্মীর কিংবা মালদ্বীপের মতো মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলোর সঙ্গে তুলনা করে, লাক্ষাদ্বীপেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন