ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন


প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়াতে জিম্বাবুয়ে সিনেটের অনুমোদন

জিম্বাবুয়ের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল অনুমোদন করেছে।

বুধবার পাস হওয়া এই বিল আইনে পরিণত হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়ার ক্ষমতায় থাকার পথ আরো দীর্ঘ হবে।

এর ফলে তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে থাকতে পারবেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

সিনেটে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন সদস্য। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র চারজন। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহজেই অর্জিত হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন না। পরিবর্তে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হবে। এখন বিলটিতে প্রেসিডেন্ট মানানগাগওয়ার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

বর্তমানে ৮৩ বছর বয়সী মানানগাগওয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে প্রায় দুই বছর আগে থেকেই তিনি ক্ষমতায় আরো দীর্ঘ সময় থাকতে চান—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়। সেই সময় ক্ষমতাসীন দল জ্যানু-পিএফের বিভিন্ন সমাবেশে তার সমর্থকেরা প্রকাশ্যে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, দেশের উন্নয়ন ও চলমান কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন করতে মানানগাগওয়ার আরো সময় প্রয়োজন। পরবর্তীতে গত বছর ক্ষমতাসীন দল প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংবিধান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সমর্থনও পায়।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

এমারসন মানানগাগওয়া ২০১৭ সালে ক্ষমতায় আসেন। ওই বছর সেনাবাহিনীর সমর্থনে সংঘটিত এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক রবার্ট মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মুগাবে ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রায় চার দশক দেশ শাসন করেছিলেন। তার পতনের পর মানানগাগওয়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকেন।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগ নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও সমালোচকদের অভিযোগ, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানানগাগওয়াকে আরো দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় রাখার সুযোগ তৈরি করা। তাদের মতে, এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে এবং ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে আরো বেশি কেন্দ্রীভূত করবে। অন্যদিকে বিলটির সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানো হলে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং সরকারের জবাবদিহিও আরো শক্তিশালী হবে।

তবে বিলটি আইনে পরিণত হলে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে সরাসরি ভোটের পরিবর্তে পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তাব দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৬ পি.এম


ইউক্রেনের হামলা, ক্রিমিয়ায় বিদ্যুৎ সংকট

রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ব্যাপকতা দেখা দিয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।

ড্রোন হামলায় শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন, যেখানে গভর্নর রাজভোঝায়েভ বলেন, কিছু এলাকায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, শত্রুপক্ষ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলা চালাচ্ছে। তবে পরিস্থিতির মধ্যে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে এবং জরুরি সেবাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে বয়স্ক প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের মনুষ্যবিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি জানান, এ হামলায় ৪৮টি সক্রিয় ও পরিকল্পিত সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এদিকে, বাখচিসারাই, কের্চ ও মাউন্ট আই-পেট্রি এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর, ২০১৪ সাল থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ইউক্রেন বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকাটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত নেতা সের্গেই আকসিওনভ রবিবার সব ধরনের পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কিছু গ্যারেজে এখনও পেট্রোল মজুত রয়েছে, তবে তা মূলত সরকারি সেবার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে চিনির ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর এটি সড়ক ও রেলপথে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল দিয়ে একটি স্থলপথ এবং কের্চ প্রণালীর ওপর নির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর মাধ্যমে এই সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতে ইউক্রেন থেকে আসা ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ১০১টি ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার, ইউক্রেনের প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায়। হামলার পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর কালো তেলের মতো পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে রাস্তায় পড়ে। তবে মস্কো কর্তৃপক্ষ এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই তেলমিশ্রিত বৃষ্টিতে তাদের পোশাকও নোংরা হয়ে যায়। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে।

গত ৪ জুন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান। তবে পুতিন ওই চিঠিকে ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেন এবং সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ এবং সিএনজির ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১ জন নিহত, ৩ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ এবং সিএনজির ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১ জন নিহত, ৩ জন আহত

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক কাউছার মিয়া (৩২) নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাউছার মিয়া নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার ভাটেরচর গ্রামের মৃত মুতি মিয়ার ছেলে।

পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঘটনা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সকালে ঢাকাগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান সিলেটগামী শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে পতিত হয়। সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। উক্ত সময়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই পিকআপ ভ্যানের চালক কাউছার মিয়ার মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে, পিকআপ ভ্যানের হেলপার, অটোরিকশাচালক এবং ট্রাকচালক সকলেই গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনা জানার পর শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা শেষে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেন।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, সকালে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ফলে পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন এবং আহত তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়মের তোয়াক্কা নেই রেলগেটে, এত প্রাণহানির দায় নেবে কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


নিয়মের তোয়াক্কা নেই রেলগেটে, এত প্রাণহানির দায় নেবে কে?

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রেলগেট মহা সমস্যায় রয়েছে। লোকবল সংকট, ত্রুটিযুক্ত ব্যারিয়ারসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রেলগেটগুলো। ট্রেন যখন আসছে, তখন নিয়ম ভেঙে রেললাইন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে; গেটম্যান কিংবা সিগনাল কিছুই নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এই বিষয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন বৈধ এবং অবৈধ অরক্ষিত রেলগেট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। ট্রেন আসার আগে সিগনাল দিয়ে গেট বন্ধ থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা দেখা যাচ্ছে না।

বৈধ রেলগেটে তিনজন দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও, অনেক সময় একজন বা দুজনই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দুর্ঘটনার ঘটনায় কেউ কেউ আহত হচ্ছেন বা প্রাণ হারাচ্ছেন। গেল ছয় মাসে অন্তত আটজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২৭টি বৈধ এবং ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। রেললাইনের ওপর দিয়ে মানব সৃষ্ট মোট প্রায় শতাধিক চলাচলের রাস্তা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে দিনে-রাতে আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে এবং জেলায় রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিনগত কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুধপাতিলা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবক মারা যায়। যেখানে বৈধ গেটে লোকবল কম রয়েছে। রেলগেট নির্মাণ ও যথাযথ লোকবল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এই সমস্যার ব্যাপারে জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। যেখানে গেট এবং গেটম্যান নেই সেখানে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। লোকবল কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

গত আট দিন আগে দুধপাতিলা রেলগেটে মহানন্দা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে রেলপথে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাস অনুসারে শিশুদের নীল ও লাল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


মাস অনুসারে শিশুদের নীল ও লাল রঙের ভিটামিন

জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম পর্ব আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুদের এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এ কথা জানান।

৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে। এছাড়া, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন 'এ' খাওয়ানো হবে বলেও তিনি জানান।

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর দেশের সকল অঞ্চলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন। এ দিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তবে ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে দুর্গম অঞ্চলে ক্যাম্পেইন পরবর্তী চার দিন চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এর আগে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেন।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংখ্যা (যাদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে) ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাস্তবায়নের জন্য এরইমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো ইপিআই’র নিয়মিত কেন্দ্র। এছাড়া আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র (লঞ্চঘাট, ফেরীঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন ইত্যাদি) স্থাপন করা হয়েছে।

ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অভিভাবকরা কাছাকাছি কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ব্যবস্থা করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীতে শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন।

অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা (তাদের টিমের মাধ্যমে) স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে তদারকি কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর ২৮ জুন এ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন আমরা আবার হাতে নিয়েছি। ক্যাম্পেইনটি সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দিন, পরিবারে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ ক্যাম্পেইন কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আকুল আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ শুধু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে না, বরং ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয় এবং শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায়।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়েছিল। সে সময় এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম রাখা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%