প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন রেলগেট মহা সমস্যায় রয়েছে। লোকবল সংকট, ত্রুটিযুক্ত ব্যারিয়ারসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রেলগেটগুলো। ট্রেন যখন আসছে, তখন নিয়ম ভেঙে রেললাইন দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে; গেটম্যান কিংবা সিগনাল কিছুই নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার ওপর দিয়ে প্রতিদিন আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এই বিষয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন বৈধ এবং অবৈধ অরক্ষিত রেলগেট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে অসংখ্য মানুষ। ট্রেন আসার আগে সিগনাল দিয়ে গেট বন্ধ থাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা দেখা যাচ্ছে না।
বৈধ রেলগেটে তিনজন দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও, অনেক সময় একজন বা দুজনই দায়িত্ব পালন করেন। ফলে দুর্ঘটনার ঘটনায় কেউ কেউ আহত হচ্ছেন বা প্রাণ হারাচ্ছেন। গেল ছয় মাসে অন্তত আটজন ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ২৭টি বৈধ এবং ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। রেললাইনের ওপর দিয়ে মানব সৃষ্ট মোট প্রায় শতাধিক চলাচলের রাস্তা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে দিনে-রাতে আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে এবং জেলায় রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিভিনগত কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুধপাতিলা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবক মারা যায়। যেখানে বৈধ গেটে লোকবল কম রয়েছে। রেলগেট নির্মাণ ও যথাযথ লোকবল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এই সমস্যার ব্যাপারে জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত আছেন। যেখানে গেট এবং গেটম্যান নেই সেখানে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। লোকবল কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
গত আট দিন আগে দুধপাতিলা রেলগেটে মহানন্দা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু ঘটে। ১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে রেলপথে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন