ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ধস সামলে চালকের আসনে বাংলাদেশ


মিরাজ-হাসানের দৃঢ়তায় ধস সামলে চালকের আসনে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর টাইগারদের ব্যাটিংয়ে দারুণ জবাব এসেছে। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, মমিনুলের হকের ৪৯ রান এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের পর, কিছুটা ব্যাটিং ধসের মাধ্যমে বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়ে। তবে, শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ এবং হাসান মাহমুদের দৃঢ়তায়, তারা সেই চাপ সামলে দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন করেছে।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের বিপরীতে বাংলাদেশের লিড হয়েছে ১৫৩ রানের। মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থাকা হাসান মাহমুদ ৭৬ বলে ১৩ রান করেছেন। দিনের শেষ বলে মিরাজের একটি ক্যাচ ফেলেছেন ক্যামেরন গ্রিন। এভাবে বাংলাদেশ স্বস্তি নিয়েই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে।

অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ বোলারদের সামনে ধীরে ধীরে দারুণ সুযোগ এসেছিল। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। স্টিভ স্মিথ সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। ট্রাভিস হেড ২২, জেক ওয়েদারাল্ড ২৩, অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ ও ক্যামেরন গ্রিন ১৩ রান করেন।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১৭ ওভারে ৫৫ রান খরচায় তিনি ৬ উইকেট নেন। তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট নেন এবং এবাদত হোসেনও দুটি উইকেট লাভ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে শুরু করে। ৪৫ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৫২ রানে দ্বিতীয়, ৬১ রানে তৃতীয় এবং ৭৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় তারা। স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে তাদের ইনিংস শেষ হয়।

তানজিদ হাসান ও মমিনুল হকের জুটিতে শক্ত ভিত গড়া হয়। ৩৬ রানে শাদমান ইসলাম ফিরে যাওয়ার পর তানজিদ এবং মমিনুল মিলে ইনিংসের ভিত শক্ত করে। দুজনের সহায়তায় আসে ১০২ রানের জুটি। মমিনুল ৯৫ বলে ৮ চারসহ ৪৯ রান করে ফিরে যান। এরপর, তানজিদ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান।

তানজিদ দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৯৭ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০১ রান করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জন্য এই ব্যাটারদের ইনিংস দলটির বড় লিডের স্বপ্ন দেখায়। শান্তর ৮৪ রানের পর হঠাৎ ধস দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তানজিদ ২৩১ রানে ফিরে যাওয়ার পর শান্তর সঙ্গে মুশফিকুর রহিমের জুটি বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। শান্ত সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ২৯৭ রানে এসে হঠাৎ ধাক্কা খায়। জশ হ্যাজেলউডের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে শান্ত ফিরে যান। তিনি ১২৬ বল খেলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন।

শান্তর বিদায়ের পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লিটন দাস ১২ বল খেলে কোনও রান না করে মিচেল স্টার্কের বল স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। তারপর প্যাট কামিন্সের বলে একই ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে দেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ৫৫ বল খেলে ৩৬ রান করেন।

অতঃপর, ২৯৭ থেকে ৩০৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বড় ধাক্কায় পড়ে। ৩ উইকেটে ২৯৭ রান থেকে ৬ উইকেটে ৩০৮ রান হয়ে যায় দলের স্কোর। মাত্র ১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ফেরার সুযোগ করে দেয়।

এরপরই মিরাজ এবং হাসানের চালাকির দ্বারস্থ হয় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ধসের পর এই দুইজন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ সামলে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন। মিরাজ ৭৩ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ৩টি চার রয়েছে। অন্যদিকে হাসান মাহমুদ ৭৬ বল মোকাবিলা করে ১৩ রান করেন এবং তাঁর ইনিংসে ২টি চার রয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

বহুত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা নতুন বল নিয়ে আক্রমণে থাকলেও, এই জুটি উইকেট ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। একপাশে মিরাজ রান বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে হাসান মাহমুদ দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন।

দিনের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়া মিরাজকে আউট করার সুযোগও পেয়েছিল। মার্নাস লাবুশেনের করা ওভারের শেষ বলে শর্ট এবং অফের বাইরে থাকা বল কাট করেন মিরাজ। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা ক্যামেরন গ্রিন নিচে নামার চেষ্টা করে ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি। ফলে মিরাজ জীবন পান। এরপরই দ্বিতীয় দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মিরাজ এবং হাসানের এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩০৮ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশের হাতে ছিলেন মূলত নিচের সারির ব্যাটাররা। এ অবস্থায় দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট পড়লে লিড অনেকটাই কমে যেতে পারত।

কিন্তু মিরাজ এবং হাসান অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে দীর্ঘ সময় টিকে থেকে দেশকে ৩৫১ রানে নিয়ে গেছেন। কেবল রান নয়, তাদের ব্যাটিং বাংলাদেশের লিডটিকে ১৫৩ রানে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ব্যাটিং সংশ্লিষ্ট সকলের নজর কেড়েছে। প্রথম ইনিংসে বোলিং করে ৬ উইকেট নেওয়ার পরে তিনি ব্যাট হাতেও দলের প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ৭৬ বল খেলে ১৩ রান ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে বড় নয়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাঁর ৭৬ বলের প্রতিরোধের মূল্য অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

মিরাজের ওপর এখন বড় দায়িত্ব। দিনের শেষে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে আরও চারটি উইকেট। ক্রিজে থাকা মিরাজের ওপর তাই তৃতীয় দিনের শুরুতে বড় দায়িত্ব থাকা জরুরি। তাঁর সঙ্গে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং এবাদত হোসেন আবার ব্যাট করতে নামবেন।

যদি মিরাজ দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের লিড আরও বড় হবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের তুলনায় ইতোমধ্যে ১৫৩ রানের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন যতটা সম্ভব বড় লিড অর্জন করা।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাযেলউড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। প্যাট কামিন্স এবং নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

বাংলাদেশের সামনে এখন বড় সুযোগ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ৩৫১ রান করা বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। বিশেষ করে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪ এবং মোমিনুলের ৪৯ রান পর যখন দ্রুত তিন উইকেট পড়ে যায়, তখন মিরাজ এবং হাসানের প্রতিরোধ দলের স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরাতে সাহায্য করেছে।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে। হাতে রয়েছে চার উইকেট। এই অবস্থান থেকে তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও কিছু রান যোগ করতে পারলে লিড দুই শতাধিক হতে পারে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য তৃতীয় দিনের শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। মিরাজ ও হাসানের জুটি যদি দ্রুত ভাঙতে পারে, তবে স্বাগতিকরা আবার ম্যাচে ফেরার সুযোগ পাবে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ যদি দিনের শুরুতে লিড বাড়িয়ে নিতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ৩৫১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে অপরাজিত, হাসান মাহমুদ অপরাজিত ১৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ছিল ১৯৮ রানের। ফলে বাংলাদেশ ১৫৩ রানে এগিয়ে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ পি.এম


খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, সরকার খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে জাতীয় কিকবক্সিং এসোসিয়েশনের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বেস্ট অব বেস্ট জাতীয় কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে একটি অনন্য ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার, যা তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মতো যুগান্তকারী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান ক্ষুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা হচ্ছে, যারা ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিকবক্সিং-কে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হলে, মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইশতিয়াক আবেদিন। এসময় এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাফিজ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রখ্যাত ক্রীড়াবিদ, প্রশিক্ষক (কোচ), রেফারি, মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, হিন্দু ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোন বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না। ভাইয়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হওয়ার অধিকার দাবি করে করা এক দেওয়ানি রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট এমন তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে, আদালত অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন।

এই রায়টি ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য’ শীর্ষক মামলায় আদায় করা হয়।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম।

রায় ঘোষণার সময় রিভিশন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত। অপর দিকে, বিবাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি জমি-সংক্রান্ত দেওয়ানি রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত ২০০৮ সালে জারি করা রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার অধিবাসী রামকান্ত বিশ্বাসের এক পুত্র ও তিন কন্যাসন্তান ছিল। তিনি ১৯২০ সালে নিজের অর্থ দিয়ে তার ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে পটিয়া উপজেলাধীন ১ দশমিক ৩৫ একর নালিশি জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাস তার বাবার জীবদ্দশাতেই মারা যান। আর ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাস মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর মৃত রামকান্ত বিশ্বাসের কন্যা শৌল বালা দাস উক্ত জমির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করেন। অন্যদিকে, সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী সাবিত্রী বালা জীবিত থাকাকালে ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।

পরে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে (চৌকি আদালত) এই জমির উত্তরাধিকার দাবি করে দেওয়ানি মামলা করেন শৌল বালা দাস। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, উক্ত বিক্রয় দলিলটি জাল, প্রতারণামূলক এবং কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সম্পাদিত হয়েছে।

পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে ২০০০ সালের ২২ জুন বাদীপক্ষের মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে বাদী বিচারিক আদালতের ওই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিলটি খারিজ করে রায় দেন।

আপিল আদালতের ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে বাদী (আপিলকারী) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন। শুনানি শেষে একই বছর আদালত রুল জারি করেন। ২০০৮ সালে জারি করা ওই রুল গত ৯ জুলাই খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সময় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার নেই। রায়ে হাইকোর্ট দায়ভাগা স্কুল অব হিন্দু আইনের অধীনে বিধবা নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকারের বিভাজন ব্যাখ্যা করে বলেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবনভর স্বামীর সম্পত্তিতে স্বত্ব বা অধিকার লাভ করেন। তবে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত।

বিধবা নারী যদি এই সম্পত্তি কারও কাছে হস্তান্তর করেন, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কেবল তিনিই অধিকারী যিনি বিধবার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী। যে ব্যক্তি বা যার উক্ত সম্পত্তিতে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো আইনগত স্বার্থ বা অধিকার নেই তিনি ওই সম্পত্তি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি- এমন কেবল এই যুক্তি দেখিয়ে সম্পত্তিতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে বা হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে বড় বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


হরমুজে বড় বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-বিরোধী যুদ্ধে যুক্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে একটি চরম মানসিক ও সরবরাহ সংকট। দীর্ঘ দুইশত ষাট দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজটিতে অবস্থানরত নাবিক ও সেনাসদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড হতাশা ও মানসিক অবসাদ।

বিভিন্ন খবর রটেছে যে, ক্রমাগত মানসিক চাপে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে, প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে পেন্টাগন। ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি পার হয়ে ভারত মহাসাগরের পথে রয়েছে, যা শিগগিরই লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে।

সাধারণত, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো ছয় থেকে নয় মাসের জন্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে লিংকনের কার্যকাল অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সান ডিয়াগো থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কারণে শুধু যে সেনাসদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তা নয়, বরং জাহাজটিতে সুপেয় পানি, খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও চরম ঘাটতি দেখা দেয়। নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় ডাকসেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, যদিও বর্তমানে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে, লিংকনের নাবিকদের এমন দুর্দশার খবর চাউর হতেই মার্কিন রাজনীতিতে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও, ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এই ঘটনায় পেন্টাগনের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। অ্যারিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগো একে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে পরিদর্শনের জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে এসব অভ্যন্তরীণ সংকট এবং তীব্র উদ্বেগের তোয়াক্কা না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বা পেন্টাগন কোনো পক্ষই ইরান যুদ্ধের অবসান অথবা এই অনির্দিষ্টকালের ব্লকহেড কীভাবে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নিহত বেড়ে ৬, কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নিহত বেড়ে ৬, কারণ কী?

জাপানের রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বর্ষণের ফলে অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রবল বর্ষণের কারণে এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান বন্যা ও ভূমিধসের হুমকির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার। একই সঙ্গে, পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকে ছিলেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী।

জাপানি কর্তৃপক্ষ এই বৃষ্টিপাতকে নজিরবিহীন বলে ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে লেভেল ৫ জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়, কিন্তু শুক্রবার সকালে তা পরিবর্তন করে লেভেল ৪ করা হয়েছে। তবে বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান বলে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করছে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী আছেন, যিনি একটি সড়কে প্লাবিত হয়ে থাকা গাড়ির ভেতরেই মারা যান। অন্যদিকে, আরও দুজন রাস্তার উপর হঠাৎ পড়ে গিয়ে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

চিবা প্রিফেকচারে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছু এলাকা প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেশি। এটি জাপানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাতও বটে।

চিবা প্রিফেকচার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে তিনি অনেক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার হয়নি।

গভর্নর কুমাগাই আরও বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানাচ্ছে, পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ এবং আর্দ্র বায়ু প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিলে যায়, যার ফলস্বরূপ এই প্রবল বর্ষণের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টির অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

প্রবল বর্ষণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার এক লাখেরও বেশি পরিবারের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালেও বেশ কিছু রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃষ্টিপাত এবং পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার ফলে নারিতা বিমানবন্দরেও যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। প্রায় সাত হাজার যাত্রী সেখানে রাতভর আটকা ছিলেন। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীরা আটকা পড়েন। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটান প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষ।

নারিতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকল ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে। তবে কোনো ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা নেই।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে বলেন, বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন যে আগামী কয়েক দিনে তিনি তার ব্যবসা খুলতে পারবেন কি না।

জাপানে এই প্রবল বৃষ্টিপাতের আগে চলতি সপ্তাহে দেশটি এবং এর প্রতিবেশী অঞ্চলে একের পর এক ঝড় এসেছে। জাপান, ফিলিপাইন এবং চীনে একই সময়ে ডলফিন, চ্যান-হোম এবং পেইলু নামে তিনটি ঝড় আঘাত হানে।

ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে, যা হাজার হাজার ভবনকে বিদ্যুৎহীন করে ফেলে, গাছপালা উপড়ে যায় এবং ফ্লাইট বাতিল হয়।

ফিলিপাইনের উত্তরে বন্যার আশঙ্কায় বেশিরভাগ এলাকায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সপ্তাহান্তে চীনের পূর্বাঞ্চলে ডলফিন আঘাত হানার আগে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমান বছরের জন্য চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল ডলফিন।

এই প্রতিবেদন লেখা চলাকালীন, জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পাঁচজন। বন্যা এবং ভূমিধসের তাই ঝুঁকির কারণে সেখানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%