ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বরসহ অন্যান্য স্থাপনার


ক্ষমতার পালাবদলে নাম বদলে গেছে সিলেট চন্ডীপুল গোলচত্বরসহ অন্যান্য স্থাপনার

ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থাপনার নামও পরিবর্তন হচ্ছে। সর্বশেষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চন্ডীপুল গোলচত্বরের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ সুরমা এলাকার স্থাপিত এই গোলচত্বরটির নাম ২০০৯ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় রাজনীতিবিদ প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদের নামে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি চত্বরটির নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান চত্বর’ করা হয়েছে।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর এবং ডা. জুবাইদা রহমানের বাবা। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তিনি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে অভিষিক্ত হন। এছাড়া, তিনি জাতীয় বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলী খান। ১৯৮২ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৪ সালের ১ জুন পর্যন্ত যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দায়িত্বকালে সিলেটের শাহজালাল সেতু, লামাকাজি সেতু ও শেওলা সেতুসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজি সেতুর নামকরণও তার স্মৃতিতে করা হয়েছে। বালাগঞ্জে রয়েছে তার নামে একটি অডিটোরিয়ামও।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

অন্যদিকে, আব্দুস সামাদ আজাদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার ভুরাখালী গ্রামের এই নেতার নামে এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদে একটি অডিটোরিয়াম স্থান পেয়েছে।

নতুন নামকরণের পর চন্ডীপুল এলাকায় গত সোমবার গিয়ে দেখা গেল, নতুন নামকরণে ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত শনিবার বিকেলে পুরানো নামটি মুছে নতুন নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। এ সময় ফেসবুক লাইভে কার্যক্রমটি সম্প্রচার করা হয়েছিল।

লাইভে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ছিল, চন্ডীপুল থেকে জালালপুরমুখী সড়ক হয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের বাড়িতে (বিরাহিমপুর গ্রাম) যাওয়া সম্ভব। এই পথে তার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই দীর্ঘ দিন ধরে তার নামে চত্বরটির নামকরণের প্রশ্ন করা হয়েছে। তাদের দাবি, আগের নামকরণটি বিধি অনুযায়ী হয়নি।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা দেখা গিয়েছে। ‘সিলেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে হুমায়ুন কবির লিটন নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘মাইক হাতে থাকা সাংবাদিক যখন আব্দুস সামাদ আজাদ চত্বরের পক্ষে ছিলেন, তখনো তিনি ছিলেন এখন মাহবুব আলী খান চত্বরের পক্ষেও আছেন। তিনি সবসময়ই আছেন!

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

‘মাইক হাতে থাকা সাংবাদিক’ অভিহিত ব্যক্তি হচ্ছেন এম আহমদ আলী। তিনি ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’র যুগ্ম আহ্বায়ক। সোমবার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আগের নামকরণটি বিধিমোতাবেক হয়নি বলেই নতুন নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আহমদ আলী বলেন, ‘আমি নিজে দেখেছি, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরোধিতার মধ্যেও সিলেট সিটি করর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান চন্ডীপুল গোলচত্বরের নাম আব্দুস সামাদ আজাদের নামে রেখেছিলেন।

নতুন নামকরণের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা এই বিষয়ে লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছি। তার ধারাবাহিকতায় নতুন নামের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

চন্ডীপুল গোলচত্বরটি মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পিকআপ ও ড্রপ-অব পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মহাসড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সিটি বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল হিসেবে নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক। এছাড়া কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর নামে একটি চত্বর এবং পারাইরচক এলাকায় বাম রাজনীতিক পীর হবিবুর রহমানের নামে আরেকটি চত্বর রয়েছে।

চন্ডীপুল গোলচত্বর থেকে আব্দুস সামাদ আজাদের নাম অপসারণের ঘটনায় সিলেটে আর কোনো স্থাপনা তার নামে অবশিষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ। তিনি বলেন, ‘আব্দুস সামাদ আজাদ জীবদ্দশায় নিজের নামে কিছু করার পক্ষে ছিলেন না। তবে মৃত্যুর পর প্রথমে জগন্নাথপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অডিটোরিয়ামের নাম তার নামে রাখা হয় উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া আমার প্রস্তাবে। পরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এবং চন্ডীপুল গোলচত্বরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। কৃতী সন্তানদের নামে নামকরণ সম্মানার্থে হলেও নামহরণ অসম্মানের। এই সংস্কৃতির ইতি ঘটানো দরকার।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

এর আগে দক্ষিণ সুরমার সিটি করর্পোরেশন পরিচালিত পার্কটি এম সাইফুর রহমানের নামে পুনর্বহাল করা হয়। গত ৩ মার্চ সিলেট নগরীর কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের নাম পরিবর্তন করে এম সাইফুর রহমানের নামে পুনর্বহাল করা হয়েছে। তবে এ দুটি স্থাপনার নাম ওয়ান-ইলেভেনের সময় পরিবর্তন হয়েছিল।

নতুন নামকরণ, সংশোধন ও নাম পুণর্বহালের বড় চিত্র দেখা গেছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং ৪৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এম সাইফুর রহমান হল, শহিদ জিয়া হল ও দুররে সামাদ রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হল, সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী হল এবং সমাজসেবী সুহাসিনী দাসের নামে আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছিল। পরে এসব নাম পুণর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, আব্দুস সামাদ আজাদ হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে হযরত শাহজালাল (রহ.) হল, জেনারেল এম এ জি ওসমানী হল এবং সুহাসিনী দাস হল রাখা হয়েছে।

সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থল রিকাবিবাজার এলাকার অডিটোরিয়ামটি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ও উন্নয়ন করা হয়। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকারের সময় সংস্কার শেষে তাঁর নামেই অডিটোরিয়ামটির নামকরণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে প্রথমে এর নাম পরিবর্তন করে ‘সিলেট অডিটোরিয়াম’ এবং পরে ‘কবি নজরুল অডিটোরিয়াম’ রাখে। প্রায় দুই দশক পর আবারও নাম পরিবর্তন করে এম সাইফুর রহমানের নামে ফিরিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে

 ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে পৌঁছেছে। শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা ভারী বৃষ্টি ও আফটারশকের মধ্যেও রাস্তা পরিষ্কার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চালাচ্ছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত সোমবার দেশটির মিন্দানাও উপকূলের কাছে ৭.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়।

শুক্রবার সরকারি এক পরিসংখ্যানে আরও আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য আসতে থাকায় নিখোঁজের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি সারাঙ্গানি প্রদেশে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান রেনে পুঞ্জালান এএফপি’কে জানান, অনেক অবরুদ্ধ সড়ক সচল করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন এলাকায় খাবার ও পানি পৌঁছাতে এখনো হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় বড় পাথর ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য খননযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। আফটারশক এখনো আমাদের কাজ ধীর করে দিচ্ছে। পাশাপাশি গত রাতে বৃষ্টিও হয়েছে, তাই আমাদের কিছু সময়ের জন্য অভিযান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত থাকলেও অনেকের জীবিত উদ্ধার হওয়ার আশা কমে যাচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রেনে পুঞ্জালান বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর কয়েক দিন পেরিয়ে গেছে। তাই জীবিত কাউকে পাওয়া গেলে সেটি হবে অলৌকিক ঘটনা। আমাদের লক্ষ্য এখন মরদেহ উদ্ধার করা।’

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বুধবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শহরের অংশগুলো ঘুরে দেখেন। তিনি একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল এবং একটি ত্রাণ বিতরণ এলাকাও পরিদর্শন করেছেন।

তিনি জানান, শহর পুনর্গঠনের জন্য সরকার ১০ কোটি পেসো (প্রায় ১৬ লাখ ডলার) বরাদ্দ দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কানাডায় উৎসবের পরিবেশ, স্টেডিয়ামের বাইরের ফ্যান জোনও জমে উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কানাডায় উৎসবের পরিবেশ, স্টেডিয়ামের বাইরের ফ্যান জোনও জমে উঠেছে

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কানাডার টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভার শহরে প্রবাসী জনগণের মধ্যে ফুটবলের এক ভিন্ন মাত্রার উন্মাদনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিদেশি পর্যটকরা অন্যদিকে স্থানীয় দর্শকদের সমাগমে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের আয়োজনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে।

এই উপলক্ষে 'কানাডা ওয়েলকামস দ্য ওয়ার্ল্ড' স্লোগানে বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কানাডা। দেশের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যাডাম ভ্যান কুভারডেন বলেছেন, 'এটি শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্বের মানুষের মিলনমেলা।'

সাধারণ প্রবেশের অধিকাংশ টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে প্রিমিয়াম প্যাকেজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের টিকিটের মূল্য০ ১০০ থেকে ৩০০ কানাডিয়ান ডলারের মধ্যে হতে চলেছে, যা কর ও অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশ্বকাপ আয়োজন স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন খাত এবং আতিথেয়তা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিশ্বকাপ চলাকালীন গ্রেটার টরন্টো এরিয়াজুড়ে অসংখ্য ওয়াচ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সমর্থকরা একত্রিত হয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে পারবেন।

ফোর্ট ইয়র্ক এবং দ্য বেন্টওয়ে এলাকায় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অফিসিয়াল 'ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল' চলবে। ১৬ বছরের কম বয়সী দর্শকদের অবশ্যই অভিভাবকের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হবে।

বিশ্বকাপের সময়ে টরন্টোর অনেক জনপ্রিয় বার ও রেস্তোরাঁ বিশেষ নীতিমালা গ্রহণ করেছে। কিছু স্থানে আগাম বুকিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আবার কোথাও ন্যূনতম ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রিজার্ভেশন নিশ্চিত করছে। তাই খেলা দেখতে যাওয়ার আগে পছন্দের ভেন্যুতে যোগাযোগ করে তাদের নীতিমালা জেনে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু খেলা দেখা নয়, বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাদ্য উৎসব এবং বিশেষ অফারের আয়োজন করছে। ফলে টরন্টোর বাসিন্দা এবং পর্যটকদের জন্য পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


কাউখালীতে অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী

পিরোজপুরের কাউখালীতে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পর্যায়ে এ প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার, উপজেলা আইসিটি অফিসার মোঃ মেহেদের হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান।

প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মোট ১৫টি স্টল প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ধারণা উপস্থাপন করে। স্টলগুলো ঘুরে দেখেন অতিথিরা এবং অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কাউখালী থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, "শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার জন্য এ ধরনের প্রদর্শনী অত্যন্ত কার্যকর। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়ে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া হবে।"

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এ আয়োজন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৭ জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৭ জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

সন্ধ্যা সময়ের মধ্যে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে বজ্রপাতও হতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তাতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছার সতর্ক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়টি হতে পারে। এই সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা কেবল রয়েছে, বরং বজ্রপাতও দেখা দিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সাত জেলার নদীবন্দরগুলোর জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%