ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ


শেরপুরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ

শেরপুরে সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি ও বাইসাইকেল এবং নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এগুলো বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

এ সময় পুলিশ সুপার এ কে এম জাহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, উপকারভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার ২৩ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ১ লাখ ৩ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১১ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৩৩ হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৭ জন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৫ হাজার টাকা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ৫ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের দুই নারীকে সেলাই মেশিন এবং তিন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মন্তব্য করেন যে, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। সরকারের এ ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে এবং স্বাবলম্বী হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: ত্রিশালে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেসটি অনুষ্ঠিত হয়। এই কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেন কৃষক, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল। প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন।

এই সময় বক্তারা আলোচনা করেন যে, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, এবং কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়নে এক বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়, যাদের জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পরে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ, মরিচ বীজ, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘোড়াঘাটে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


ঘোড়াঘাটে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন

‘করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ বারো মাস’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার শুরু হয়েছে।

দেশীয় ফল সবার কাছে পরিচিত করা এবং উন্নত জাতের ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় প্রদর্শিত ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, মাল্টা, কমলা, আনারসসহ নানা জাতের ফল দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উল্লেখযোগ্য হল, মেলাটি আগামী তিন দিনব্যাপী চলবে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‌্যালি শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবানা তানজিন প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং দেশীয় ফলের উৎপাদন ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিনামুল্যে গাছের চারা বিতরণও করা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, ফল মেলার মাধ্যমে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ফল চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

মেলায় উপজেলা কৃষি অফিস ও দীপশিখার বৃহৎ স্টলে প্রদর্শন করা হয় শতাধিক জাতের দেশীয় ও উন্নত জাতের ফল।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষি উপপরিদর্শক মোছাঃ খাতিজাতুল কুবরা ও সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ‘বালিশকাণ্ড’ চলবে না : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ‘বালিশকাণ্ড’ চলবে না : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অপচয়, অনিয়ম বা ‘বালিশকাণ্ড’ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উন্নয়ন সংক্রান্ত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে এবং এ ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ইস্কাটনের নিজস্ব জমিতে একটি আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভবনটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সংরক্ষণের উপযোগী করে নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবনটির জন্য একটি নান্দনিক, কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও যুগোপযোগী নকশা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। এ লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান রক্ষা মামলায় নতুন অগ্রগতি”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


“২০০ বছরের পুরোনো শ্মশান রক্ষা মামলায় নতুন অগ্রগতি”

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত সিদ্ধিরগঞ্জ শ্মশান ও মন্দির। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় প্রায় ৭০০ শতাংশ (সাত একর) জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল আম্বার পেপার মিলসকে। বর্তমানে ওই এলাকার প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হিসাব করলে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় শত কোটি টাকারও বেশি।

এই স্থায়ী বন্দোবস্তের বৈধতা, জমির প্রকৃত মালিকানা এবং প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি শ্মশান ও মন্দিরের অস্তিত্ব নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এক টাকায় স্থায়ী বন্দোবস্ত- এসব বিষয় নিয়ে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

এ ঘটনায় শিল্প প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মধ্যে আইনি লড়াইয়ে আদালত চূড়ান্ত রায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নারায়ণগঞ্জের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ইনজাংসন ও স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

শ্মশান কর্তৃপক্ষ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ও মন্দিরটি ১৭৯৩ সাল থেকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ নয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড এবং পাশের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য একমাত্র শ্মশান এটি।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় সাত একর জমির মধ্যে শ্মশান ও মন্দিরের জন্য ব্যবহৃত ৩১ শতাংশ জায়গা।

স্থানীয়দের দাবি, এই জমিতে দীর্ঘদিন ধরে শ্মশান ও মন্দির থাকলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানটি পুরো জমির মালিকানা দাবি করছে।

এর মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্মশানটির আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক দাহ চুল্লি, গোসলখানা ও কার্যালয় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। উন্নয়ন কাজ শুরু হয়ে একাধিক পাইলিং পিলারও বসানো হয়।

এদিকে, পারটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আম্বার পেপার মিলস উচ্চ আদালত থেকে স্থিতাবস্থার আদেশ নিয়ে এলে হঠাৎ করেই উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতে সিটি করপোরেশন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়।

শ্মশান কমিটির অভিযোগ, ১৯৮৯ সালে পারটেক্স গ্রুপের লিজ নেওয়ার সময় শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি গোপন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, বর্তমানে শত কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পদ মাত্র এক টাকায় স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল, যা তদন্তের দাবি রাখে।

অন্যদিকে আম্বার পেপার মিলসের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির সব বৈধ রেকর্ড, বন্দোবস্ত ও মালিকানার কাগজপত্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। সরকারি রেকর্ডে শ্মশান বা মন্দিরের দাবির পক্ষে কোনো উল্লেখ নেই বলেও দাবি তাদের। তাদের ভাষ্য, জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত সব অর্থ পরিশোধ করেই বৈধভাবে লিজ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে একবার শ্মশানের জমি দখলের চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় আদালতের রায়ে শ্মশানের অস্তিত্ব স্বীকৃতি পায় এবং সেখানে নিয়মিত দাহকাজ চলতে থাকে। তবে আধুনিকায়ন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর নতুন করে আইনি বিরোধ সামনে আসে।

এদিকে, উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নিম্ন আদালতে আবেদন করে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই আদালতে উপস্থিত হয়ে শুনানিতে অংশ নেন।

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাড. সাখাওয়াত বলেন, সরকারি তদন্তে জমিটি শ্মশানের জমি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী হাট-বাজার, সড়ক, মসজিদ, মন্দির বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। এভাবে শ্মশানটির উন্নয়ন কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা শুরু হলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ফিরে যাবে।

অ্যাড. সাখাওয়াত আরো বলেন, 'এরশাদ সরকারের আমলে মাত্র এক টাকায় বিপুল পরিমাণ এই সম্পদ স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি হাস্যকর এবং এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।'

তবে আম্বার পেপার মিলসের পক্ষে আইনজীবী অ্যাড. মজিদ খন্দকার বলেন, 'শ্মশান দাবিদারদের কোনো আইনি ভিত্তিসম্পন্ন কাগজপত্র নেই। আরএস, এসএ, সিএস কিংবা বিডিআরএস- কোনো জরিপেই সংশ্লিষ্ট স্থানে শ্মশান বা মন্দিরের অস্তিত্ব রেকর্ডভুক্ত নয়। বরং আরএস, এসএ ও সিএস রেকর্ডসহ সবশেষ বিডিআরএস জরিপেও ৯৯ বছরের স্থায়ী বন্দোবস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে। তবে এক টাকায় স্থানীয় বন্দোবস্ত বিষয়টি আমার জানা নেই। কাগজপত্র দেখলে বিষয়টি বোঝা যাবে।'

অ্যাড. মজিদ আরো বলেন, 'আমরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে জমা দিয়েছি। রায় আমাদের বিপক্ষে গেলে উচ্চ আদালতে যাব।'

এদিকে, ২০০ বছরের পুরনো এই শ্মশান ঘিরে এখন মুখোমুখি অবস্থানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং আম্বর পেপার। একপক্ষ এটিকে ঐতিহাসিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দাবি করলেও অন্যপক্ষ জমির বৈধ মালিকানা দাবি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%