০৯:৪০ পি.এম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. আশরাফুল ইসলামের নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) উদঘাটন করেছে। নিকটবর্তী এই ঘটনায় অপহরণের পর তাকে চেতনানাশক খাইয়ে যমুনা নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনার মূল এজাহারনামীয় আসামি মো. রফিকুল ইসলামকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে শাহজাদপুর থানার জামিরতা বাজার এলাকার কাছ থেকে সিআইডি সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিট রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
সিআইডি জানায়, ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় আসামি রফিকুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একাধিকবার আশরাফুলকে জামিরতা বাজারে ডেকে নেয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। আশরাফুলের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে শাহজাদপুর থানায় একজন সাধারণ ডায়েরি করা হয়, তবে দীর্ঘ দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর আশরাফুলের মা মোছা. নাছিমা খাতুন তিনজনকে আসামি করে আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরের কৃষকরা ভাসমান কৃষির মাধ্যমে বদলে দিচ্ছেন দৃশ্যপট
এ সময় আদালত তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. আজমল হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোপন তদন্তের ভিত্তিতে মূল আসামি রফিকুল ইসলামের অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি নিয়মিত এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে রফিকুল অভিযোগ স্বীকার করেন যে, আশরাফুলের সঙ্গে তার একটি অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে, আশরাফুল তার অন্য দুই বন্ধুকে নিয়ে এক যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার কথা জানতে পেরে রফিকুল চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই ক্ষোভের কারণেই তিনি আশরাফুলকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
যখন পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হয়, তখন ঘটনার রাতেই আশরাফুলকে ফুসলিয়ে যমুনা নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটের কথা বলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। অচেতন হয়ে পড়লে তাকে জীবিত অবস্থাতেই যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের টানে তার মরদেহ ভেসে যায়।
আসামি রফিকুল ইসলাম আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সিআইডি আরো জানায়, আসামি রফিকুল একজন অভ্যাসগত অপরাধী। ২০১৫ সালে শাহজাদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধের মামলা হয়েছিল, যা বিচার শেষে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: সিলেটে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২৮৮ প্রাণ
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হলেও আশরাফুলের মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সিআইডি জানিয়েছে, আসামি রফিকুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং যমুনা নদীর ভাটি অঞ্চলের থানাগুলোতে অজ্ঞাত মরদেহের নথিপত্র যাচাই করে আশরাফুলের মরদেহের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন