শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৮ এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায়, যেখানে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এই সময়, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।
দুই প্রধানমন্ত্রী একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীদের দ্বারা।
মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি এবং ঠিকাদারদের হয়রানির মতো বিভিন্ন অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন যে, শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সম্মুখীন হন। বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পরিবর্তন আসলেও শহিদুল ইসলাম বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বহাল রয়েছেন।
যদিও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, তবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এই কারণে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এর আগে, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডারবাজি এবং ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ তুলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে ২৪ জন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছিলেন।
লিখিত অভিযোগে ঠিকাদাররা উল্লেখ করেন যে, নির্বাহী প্রকৌশলীর চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে কমিশন প্রদান না করলে কাজ সম্পন্ন হলেও বিল পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
এছাড়া, তার বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার পরও কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখিয়ে বিলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা আরও অভিযোগ করেন যে, কাজের জামানতের টাকা ফেরত পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কথা বললে বিল আটকে দেওয়ার কিংবা কাজের সাইটে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীতে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে একাধিক নার্সিং ভর্তি কোচিং পরিচালনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে, যেখানে একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করে ভর্তি করানো হচ্ছে এবং পরে ওইসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নগরীর বটতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে গত কয়েক বছরে একই নামের সাথে ‘কেয়ার’, ‘স্পেশাল’সহ বিভিন্ন শব্দ যুক্ত করে একাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে গিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনই একটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন, স্বরূপকাঠি থেকে আসা শিক্ষার্থী তহুরা। তার দাবি, তিনি বরিশালের বটতলা এলাকায় মূল ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ে’ ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্যে এসে ভুলবশত ‘নিউরন কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নোমান তাকে ভর্তি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন, যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেটি তার কাঙ্ক্ষিত কোচিং নয়। এরপর টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি। শুধু তহুরা নন, একইভাবে নামের মিলের কারণে আরও অসংখ্য শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সাফল্যের তথ্য ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অপরদিকে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন মূল ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল বটতলা শাখার পরিচালক আনিসুজ্জামান রাইয়ান বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন নামে কোচিং পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তার দাবি, গত তিন বছরে তাদের বরিশাল শাখা থেকে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী সাফল্য পেয়েছেন। রাইয়ানের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রথম বছরে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন, দ্বিতীয় বছরে ২৫০ জনের মধ্যে ৫৯ জন এবং পরবর্তী বছরে ৮১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী ভালো ফলাফল করে আসছেন।
তার অভিযোগ, একই নাম ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারণে ‘নিউরন’ নামের মূল প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র ও পরিচালন কাঠামো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি তিনি আহবান করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে ‘নিউরন কেয়ার নার্সিং ভর্তি কোচিং’ এর পরিচালক নোমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়া 'নিউরন স্পেশাল নার্সিং ভর্তি কোচিং' এর পরিচালক তিমন মজুমদার জানান, তাদের বৈধ কাগজপত্র আছে কিন্তু পরে তা দেখাতে পারবেন। অপর 'নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং অফিস' পরিচালক ফারজানা আক্তার বন্যা বলেন, সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে, একই নামে আগে প্রতিষ্ঠান থাকায় এখনো অনুমোদন পাইনি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নগরীতে বিভিন্ন কোচিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয়, অনুমোদন, সাফল্যের তথ্য ও ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত। ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যেন বিভ্রান্ত বা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, সকল প্রতিষ্ঠানকে ফোন দিয়ে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য বলা হয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে রাতভর থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফরহাদ তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাত দুইটার দিকে রত্নপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ফরহাদ তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফরহাদ দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তবুও, অসুস্থ ফরহাদ তালুকদারকে হয়রানির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান জানিয়েছেন, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় ফরহাদ তালুকদারকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভুঁইয়ার বাড়িতে থানা ও জেলা ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালান। তবে অভিযানের সময় উল্লেখিতরা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকের সংবাদ পাওয়ার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হয়রানীর উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলায় আটদিন কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেন, যিনি ইতালী ফরহাদ নামেও পরিচিত। ফরহাদ হোসেন বরিশালের গৌরনদী পৌর শাখার সদস্য এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
ফরহাদ হোসেনের আইনজীবীরা জানান, জনৈক নয়ন প্যাদা কর্তৃক দায়ের করা হয়রানীমূলক মামলায় আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক ফরহাদ হোসেনের জামিন আবেদন মঞ্জুর না করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, ওই মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আদালতের বিচারকের কাছে জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ