ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
দাবি রাহুল গান্ধীর

এক বছরও টিকবেন না মোদি, জরুরি অবস্থা জারি করার বিষয়েও সতর্কতা


এক বছরও টিকবেন না মোদি, জরুরি অবস্থা জারি করার বিষয়েও সতর্কতা

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও টিকবেন না। তিনি বলেন, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উপরে সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় রাহুল গান্ধী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, দেশে সিস্টেমের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যে সিস্টেম এক সময় নরেন্দ্র মোদি নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সিস্টেমই এখন তাকে তথ্য দিচ্ছে। গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য নিয়মিতভাবে তার কাছে পৌঁছাচ্ছে। এই ঘটনার ভিত্তিতে তিনি মন্তব্য করেন, 'আমার হিসাবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।'

রাহুল গান্ধী দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, ভারতের সামনে একটি বড় অর্থনৈতিক সংকট আসছে, যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বা 'শক অ্যাবজরবার' ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি ধ্বংস করে ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব আরও তীব্রভাবে দেশের ওপর পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি নিজে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে মনে করা হয়, সেই নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকেও তার কাছে বার্তা আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিয়মিত তথ্য পাঠান।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে লেখা জেলেনস্কির খোলা চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ এম


ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে লেখা জেলেনস্কির খোলা চিঠি

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুতিনকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি খোলা চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ যখন আবার যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসবে, তখন শুধু অপেক্ষা করা ভুল হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততা থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি প্রস্তাবিত আলোচনা চলাকালীন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানিয়েছেন, যেটি বৃহস্পতিবার পুতিন নাকচ করে দিয়েছিলেন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে যদি সাক্ষাৎ হয় তবে তিনি মনে করেন এটি খুব ভালো হবে।

ক্রেমলিন এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে যে, তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

চিঠিটির সুর ছিল উদ্ধত ও বিদ্রূপাত্মক, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

জেলেনস্কি এর মধ্যে মন্তব্য করেছেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর পুতিনের ওপর বয়সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’

চিঠিটিতে উল্লেখযোগ্য ছিল কিয়েভের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিষয়ে পুরোপুরি মনোযোগী হয়ে উঠেছে।

জেলেনস্কি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত শুধু অপেক্ষা করাটা সঠিক হবে না।

এদিকে, সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, যিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক, তবে কিছু কিছু ছাড় দিতে হবে।

পুতিন এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন যে, যেহেতু ট্রাম্প ইরান নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি করাতে পারে।

কিন্তু ইউক্রেন তার ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রোধ করেছে। তাদের মতে, এটি রাশিয়াকে আবারও আগ্রাসন চালাতে উৎসাহিত করবে, যেমনটি তারা ২০২২ সালে করেছিল, যখন অবৈধভাবে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করেছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত থমকে গেছে, এবং জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ চিঠিতে জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন: ‘আপনাদের যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু ঘটিয়েছে তা নিয়ে রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে আমরা ইউক্রেনবাসীরা চিন্তিত নই।’

‘কিন্তু আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে চিন্তা করি। আমরা আমাদের লোকজনকে হারাচ্ছি, এবং প্রতিটি ক্ষতিই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।’ বলেন জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পেট্রোলের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে রুশরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নিতে ভয় পাবেন না। এখন আপনাদের কাছে এটাই প্রধান প্রত্যাশা।’ বলেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।

তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জন্য সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে। সুইজারল্যান্ড অথবা তুরস্কের মতো কোনো দেশে মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, এই খোলা চিঠিটি যুদ্ধ শেষ করার একটি গুরুতর ও অর্থবহ প্রস্তাব।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এই অভিনন্দন প্রকাশ করেন।

পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের presidente নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।"

এর আগে, ২ জুন, ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের presidente হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিসকে হারিয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

১৯০টি ভোটের মধ্যে, খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৮১তম অধিবেশনে, বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক ফোরামের নেতৃত্ব দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১২ এম


বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল

দেশের বন্ধ এবং আংশিক সচল শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন এবং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)-১ থেকে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মন্থর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে বন্ধ ও উৎপাদন সক্ষম শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যেই ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে।

স্কিমের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বন্ধ প্রতিষ্ঠান, কিন্তু পুনরায় চালুর সক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান এবং আংশিক সচল প্রতিষ্ঠান, যেগুলো পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না, তারা ঋণ সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংককে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে গ্রাহক পর্যায়ে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। রফতানিমুখী এবং প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা ভাড়া নিয়ে চালু হয়, তবে তারাও অগ্রাধিকার পাবে।

তবে ঋণ দেওয়ার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের প্রয়োজনীয়তা, বন্ধ হবার কারণ এবং সম্ভাব্য ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা যাবে। সিআইবিতে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ঋণগ্রহীতা, অর্থপাচার, জালিয়াতি, ফান্ড ডাইভারসন অথবা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।

এছাড়া, স্কিমের অর্থ ব্যবহার করা যাবে শ্রমিক-কর্মচারী বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের জন্য। তবে বিদ্যমান কোনো ঋণের সমন্বয় কিংবা পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এ স্কিমের আওতায় এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ সুবিধা নিতে পারবে না। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বাধিক এক বছর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নের সুযোগ থাকবে। তিন বছরের মেয়াদি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) এ স্কিম পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩।

প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ মঞ্জুরিপত্র, হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট, উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে) এবং গ্রাহকের ঘোষণাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই শেষে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা দেবে।

তবে কোনো ঋণ স্কিমের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে তা পরিচালনা করতে পারবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঋণ আদায় এবং তদারকির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। একই সাথে ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিক্রয় প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং কারখানা পরিদর্শন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণ যে কোনো সময় সরেজমিনে যাচাই করা হতে পারে। ঋণের অপব্যবহার, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজনে তথ্য সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া, স্কিমের আওতায় অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখা ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে দেশজুড়ে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানসার গবেষণায় বড় অগ্রগতি, নতুন চিকিৎসায় আশার আলো বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২১ এম


ক্যানসার গবেষণায় বড় অগ্রগতি, নতুন চিকিৎসায় আশার আলো বাড়ছে

সংযুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যানসার গবেষকদের বার্ষিক সম্মেলন মঙ্গলবার (২ জুন) শেষ হয়েছে। সম্মেলনে গবেষকরা ক্যানসার চিকিৎসার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ওজন কমানোর ওষুধের সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কিত প্রাথমিক হলেও আশাব্যঞ্জক তথ্যও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (এএসসিও)’র বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত সর্বশেষ অগ্রগতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি

উপস্থাপিত সাত হাজারেরও বেশি গবেষণার মধ্যে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার বিষয়ক একটি গবেষণা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর মধ্যে একটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত এ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে কয়েক দশকের মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন স্টার্টআপ রেভল্যুশন মেডিসিনস উদ্ভাবিত এ চিকিৎসায় ‘ডারাক্সোনরাসিব’ নামে একটি নতুন অণু ব্যবহার করা হয়েছে।

এটি রোগটির একটি আক্রমণাত্মক কিন্তু সাধারণ ধরনে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের অর্ধেকের বেশি ১৩ মাসেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন, যা কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মন্টি পাল বলেন, ‘উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন।’

গবেষণাটি অন্যান্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাবনাও উন্মোচন করেছে, কারণ এই অণুটি এমন একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি পর্যন্ত ওই প্রোটিনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি।

ওজেম্পিক কি ক্যানসারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?

গবেষকরা প্রাথমিক পর্যায়ের হলেও আশাব্যঞ্জক তথ্য উপস্থাপন করেছেন যে, ওজন কমানোর জনপ্রিয় ওষুধ ওজেম্পিক এবং উইগোভি ক্যানসারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের একটি হরমোন (জিএলপি-১) অনুকরণকারী এ ওষুধগুলো মূলত ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে হৃদ্রোগসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও এগুলো উপকারিতা দেখিয়েছে।

স্থূলতা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেক মার্কিন নাগরিক এই ওষুধ ব্যবহার করেন এবং এসব রোগের কারণে তাদের নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।

এ প্রেক্ষাপটে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেন, ওষুধগুলো ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মেটাস্ট্যাটিক বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া পর্যায়ে অগ্রগতি ঠেকাতে পারে কিনা।

ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত ডায়াবেটিস চিকিৎসা গ্রহণকারীদের তুলনায় জিএলপি-১ অ্যাগোনিস্ট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, স্তন, কোলোরেক্টাল ও লিভার—এ চার ধরনের ক্যানসারে রোগের অগ্রগতি ৩৮ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক অরল্যান্ড বলেন, তথ্যগুলো আশাব্যঞ্জক হলেও এলোমেলোভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এগুলোর আরও নিশ্চিত প্রমাণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল শুরু।’

আরও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা

সম্মেলনে উপস্থাপিত কয়েকটি গবেষণায় ক্যানসার চিকিৎসার অপ্রয়োজনীয় অংশ কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি গবেষণায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বগলের লসিকাগ্রন্থি অপসারণের অস্ত্রোপচার (অ্যাক্সিলারি লিম্ফ নোড ডিসেকশন) পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ক্যানসার যদি মাত্র এক বা দুটি লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ওই অস্ত্রোপচার না করলেও রোগীদের জন্য তা নিরাপদ হতে পারে।

এ ধরনের অস্ত্রোপচারের উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এএসসিওর সহ-সভাপতি জুলি গ্রালো বলেন, ‘আমরা সম্ভবত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি লসিকাগ্রন্থি অপসারণ করছি, যা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হচ্ছে।’

প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি

গবেষকরা প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ট্রায়ালের ফলাফলকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

নতুন গবেষণাটি জিনগত মিউটেশন বহনকারী রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ তাদের ক্ষেত্রে রোগটি সাধারণত বেশি আক্রমণাত্মক হয়।

গবেষকরা দুটি চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করেছেন- টিউমার বৃদ্ধিতে সহায়ক হরমোন সংকেত বন্ধ করতে ‘এনজালুটামাইড’ এবং ক্যানসার কোষের ডিএনএ মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে ‘টালাজোপারিব’।

যেসব রোগীর মধ্যে ইজঈঅ২ জিনের মিউটেশন ছিল, তাদের ক্ষেত্রে টালাজোপারিব যুক্ত করায় টিউমারের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ কমেছে।

গবেষণার সমন্বয়কারী ফরাসি-মরক্কোর অধ্যাপক করিম ফিজাজি ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ এবং ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রক্ত পরীক্ষা: এখনও চূড়ান্ত সমাধান নয়

কিছু গবেষণায় ‘লিকুইড বায়োপসি’ বা রক্তভিত্তিক পরীক্ষার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসার প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে।

এছাড়া যেসব ক্যানসারের জন্য প্রচলিত স্ক্রিনিং পদ্ধতি নেই, সেগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতেও রক্ত পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

একটি গবেষণায় ‘গ্যালারি’ নামের একটি রক্ত পরীক্ষার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়, যা উপসর্গ প্রকাশের আগেই ৫০ ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার দাবি করে।

তবে গবেষণার ফলাফল সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি।

যুক্তরাজ্যের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও ১২ ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ নির্ণয়ের হার কমানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%