০২:০৬ পি.এম
রাজধানীর সিংহভাগ ডাকাতির ঘটনায় একটি চক্র জড়িত, এমন তথ্য প্রদান করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করতে পারলে, রাজধানীতে ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
সম্প্রতি উত্তরা এলাকায় একটি ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার সময়, ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাটি ঘটে যখন আসামিরা র্যাবের পোশাক (ভেস্ট), আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে তাসীন আক্তার হকও রয়েছেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম হলো- ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) এবং সাগর বাড়ৈ (৪০)।
এ সময় এই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
শনিবার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট, সকাল সাড়ে ১০টার সময় উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের চার জন ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তারা বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছলে মোটরসাইকেলে আসা ডাকাতরা তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে তাদের কাছ থেকে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে র্যাব লেখা ৩টি ভেস্ট, ২টি ক্যাপ, ২টি নম্বর প্লেট, র্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ৩টি ওয়াকিটকি সেট, ৪ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন এবং ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে, তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
ডিবিপ্রধান জানান, রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় এবং মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাড়ি থেকে র্যাব লেখা ৪টি ভেস্ট, স্টিলের ২টি এবং অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট, র্যাবের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার, ৩ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন এবং ১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারদের ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার সাগর বাড়ৈ তার ভাগে ৯ লাখ টাকা পেয়েছিল, কিন্তু সে সেই টাকা ব্যয় করতে পারেনি। ডাকাতির টাকা বিভিন্নজনের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে; এদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীরা বড় অংশ নিয়েছে এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানকারীদের ভাগ প্রদান করা হয়েছে।
ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র পুলিশ কর্তৃক লুট হওয়া অস্ত্র কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে কোনোটি পুলিশের চুরি হওয়া অস্ত্র নয়, বরং অবৈধভাবে সংগৃহীত।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন