১০:৩১ এম
সীতাকুণ্ডে জেলা প্রশাসনের সপ্তাহব্যাপী ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শেষ হয়েছে। তবে সাত দিনের কর্মসূচির পরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি। সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও তিনটি বেসরকারি ল্যাবের হিসাবে ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কর্মসূচির শেষ হওয়ার পরদিন সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইসমাইল (৫২) নামের এক ব্যক্তি ডেঙ্গুতে মারা যান। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিআইটিআইডি এবং বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী।
ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে সপ্তাহব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইড ও ফগার মেশিন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা সীতাকুণ্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাত দিন পর সীতাকুণ্ডে কোনো ডেঙ্গু হটস্পট থাকবে না। আক্রান্তের সংখ্যা না কমলে অভিযানকে সফল বলা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সকলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সাত দিনের কর্মসূচির পর পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ জন। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা ১২ জন বা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
অন্যদিকে, পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও তিনটি বেসরকারি ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০০ জন। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী সাত দিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৯২ জন। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যা ৮ জন বা ৮ শতাংশ কমেছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় শেরপুর-ময়মনসিংহ সীমান্তে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন,
২৬ সেপ্টেম্বরের পর সাত দিনে কেয়ার হাসপাতালে ৫ জন, মডার্ন হাসপাতালে ৮, ন্যাশনাল হাসপাতালে ২, জেনারেল হাসপাতালে ৮, মা ও শিশু হাসপাতালে ৮, পদ্মা ল্যাবে ৪৯, জননী ডায়াগনস্টিকে ৪ এবং ল্যাব সিটিতে ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে এসব বেসরকারি হাসপাতালগুলোর হিসাবে ১১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এর আগে কেয়ার হাসপাতালে ৪ জন, মডার্ন হাসপাতালে ১০, ন্যাশনাল হাসপাতালে ৪, জেনারেল হাসপাতালে ৭, মা ও শিশু হাসপাতালে ৬, জননী ডায়াগনস্টিকে কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি, পদ্মা ল্যাবে ৫৮ এবং ল্যাব সিটিতে ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।
এদিকে, ইসমাইলের মামাত ভাই এইচ এম মাসুম জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগে ইসমাইলের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বেসরকারি মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। মেট্রোপলিটন হাসপাতালের এজিএম আমানউল্লাহও ডেঙ্গুতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছর এর আগে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুতে দুই পুরুষ ও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ইসমাইলের মৃত্যুর তথ্য যোগ হলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়জনে। এছাড়া গত ৩২ দিনে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে মোট ৩১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: চাপরতলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আশায় জামাল আহমদের প্রচারণা শুরু, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী
এসব বিষয়ে জানতে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন