ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা


‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে তিনি এ বার্তা দেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে— গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব উদ্বৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি।

তিনি বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪২ পি.এম


গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জামায়াত আমিরের

গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মাস্টারমাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।  

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) এ দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই দিনে আমরা গুমের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাদের শোকার্ত ও প্রতীক্ষারত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। প্রিয়জন হারানোর নির্মম যন্ত্রণা কতটা দুঃসহ, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও প্রিয় মানুষের সন্ধান না পেয়ে অগণিত পরিবার আজও গভীর মানসিক ট্রমা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে; অনেক পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক সভ্যতার যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্বৈরাচারী শাসকদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত গুম হচ্ছেন। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা, যেখানে বছরের পর বছর ধরে নিরীহ মানুষের ওপর ইতিহাসের বর্বরতম নির্যাতন চালানো হয়েছে। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে এভাবে নাগরিকদের গুম করে রাখা কেবল মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনেরও সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৮ বছরের অবর্ণনীয় বন্দিদশা ও গুম থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে আসলেও, জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি আজও ফিরে আসেননি। তাদের ভাগ্য এখনও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঝুলছে।

তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নবগঠিত সরকার অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করতে অস্বীকৃতি জানায়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, অধ্যাদেশটির বিভিন্ন বিধানে অসঙ্গতি রয়েছে। তাই এগুলো অনুমোদন না করে সরকার বলেন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অধিকতর পরামর্শ ও যাচাই বাছাইক্রমে ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেবে।

‘সংসদের প্রথম অধিবেশন আহবানের ৩০ দিন পরে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ এর কার্যকারিতা লোপ পায়। সরকার পরবর্তীতে উক্ত অধ্যাদেশটিতে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করেছেন। কিন্তু উক্ত খসড়া বিলে আইনটি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যকেই অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন খসড়া বিলে গুম সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গুমের মতো গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তার অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছে। তদন্তের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গুম একটি বিশেষ ধরনের অপরাধ যার মোকাবিলায় বিশেষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অপরাধের তদন্তভার পুনরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেই তুলে দেওয়া একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। 

তাছাড়া, গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমের ঘটনার সাথে ক্ষমতাসীন সরকার নিজেই সম্পৃক্ত থাকে। তাই সরকারের অধীনে এই তথ্যভাণ্ডার কতটা নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষিত হবে এবং জনগণের সামনে গুমের সঠিক তথ্য প্রকাশ পাবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, নতুন বিলে গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও অনুসন্ধানসহ সমস্ত কার্যক্রম থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ গুমের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও  যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতেই থাকা উচিত ছিল। এছাড়া সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’-এর জন্যেও একটি নতুন খসড়া বিল প্রণয়ন করেছে, যেখানে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত একটি নখদন্তহীন বাঘ-এ পরিণত করা হয়েছে।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান সরকার এই মানবিক সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। নিখোঁজ ও গুম হওয়া সকল নাগরিককে দ্রুত সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, গুমের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তি ও মাস্টারমাইন্ডদের বিচারে আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। 

আমরা আরও প্রত্যাশা করি যে, সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসবে। জনগণের মৌলিক অধিকারের কথা চিন্তা করবে। জনগণের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে একটি বিশেষ অপরাধ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করবে। একইসঙ্গে এই বিশেষ ধরনের অপরাধের সঠিক অনুসন্ধান, সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের জন্য একটি বিশেষ ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসছে শীতকাল, চরম গ্যাস সংকটের মুখে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ পি.এম


আসছে শীতকাল, চরম গ্যাস সংকটের মুখে ইউরোপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষভাগে এসে গ্যাস সংরক্ষণের পরিমাণ ইতিহাসের অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় এই ‘শীতকালীন আতঙ্ক’ তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সংঘাত এবং রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অব্যাহত নিষেধাজ্ঞার জেরে গ্যাস ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ও তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইউরোপীয় গ্যাস ট্রান্সমিশন সিস্টেম অপারেটরস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের শেষ নাগাদ ইইউর গ্যাস মজুত রয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশে। অথচ বিগত বছরগুলোতে এই মৌসুমে সাধারণত গড়ে ৮০ শতাংশ মজুত বজায় থাকত। ২০২১ সালের আগস্টের শেষ দিকেও এই হার ছিল প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ২০১৩ সালে ছিল ৭২ শতাংশ। শীতকালে যখন গ্যাসের ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে যায়, তখন এই মজুত আরও আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। গ্যাস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইউরোপের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর ধারণক্ষমতা বর্তমানে মাত্র ৫০ শতাংশের কিছুটা ওপরে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের মজুত রয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং বেলজিয়ামের প্রায় ৫০ শতাংশে। নেদারল্যান্ডসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিশেষভাবে অভিযোগ করেছেন যে তারা শীতকালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হতে পারেন। কারণ হিসেবে তারা ধীরগতির গ্যাস সরবরাহ এবং ব্যবসায়ীদের বর্তমানে গ্যাস কিনে তা শীতকালের জন্য সংরক্ষণ করার বাণিজ্যিক উৎসাহের অভাবকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর ধারণক্ষমতা মাত্র ৩০ শতাংশের ঘরে রয়েছে, যদিও দেশটি অতীতে মজুতের চেয়ে নিরবচ্ছিন্ন আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।

এই সরবরাহ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৬৬ ইউরো বা ৭৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বছরের শুরুর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এসইবি-র প্রধান কমোডিটি বিশ্লেষক বিজর্ন শিলড্রপ দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হবে—এই আশায় বাজার গ্রীষ্মকালে তুলনামূলক শান্ত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ আর সহসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন না। এর ফলে বিগত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাস বাজারে এক প্রকার শীতকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মজুতের এই দুর্বল অবস্থা ইউরোপীয় বাজারকে ঠান্ডা আবহাওয়া, কম বায়ু শক্তি উৎপাদন এবং অপ্রত্যাশিত সরবরাহ ব্যাঘাতের মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। জ্বালানি বিশ্লেষক গ্রেগ মোলনার জানিয়েছেন যে এই কম মজুত স্তর শীতকালে দামের চরম অস্থিরতার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমান এই তীব্র চাপের তাৎক্ষণিক কারণ হলো হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার ফলে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যদিও ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে কাতার ইইউর মোট এলএনজির মাত্র ৬.৬ শতাংশ সরবরাহ করেছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করেছিল ৫৭ শতাংশ; তবুও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইউরোপীয় ও এশীয় ক্রেতাদের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, যা গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য করেছে।

এদিকে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখে এবং দেশটি থেকে জ্বালানি নির্ভরতা সম্পূর্ণ কাটিয়ে তোলার যে ঘোষণা ইইউ দিয়েছিল, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে সেটিও। ২০২১ সালে ইউরোপের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে, যা ২০২৫ সালের মধ্যে নেমে আসে মাত্র ১২ শতাংশে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইউরোপ কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা ৩০০ ইউরোর বেশি হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র: আরটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সপরিবারে উধাও পিন্টু দাস, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ পি.এম


সপরিবারে উধাও পিন্টু দাস, তার বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

 

গ্রাহকদের বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস (৪৫) কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দলঘাট দাসপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে সপরিবারে আটক করা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিন্টু দাস চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটে ‘এস কে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর মালিক। তিনি ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরসংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে ঘরের অধিকাংশ মালামাল নিয়ে সপরিবারে পালিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন গ্রাহক ও ক্রেতা-বিক্রেতা পুলিশ এবং স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির কাছে তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের সূত্র ধরে আমরা পিন্টু দাসকে ধরতে অভিযান শুরু করি। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে তাকে সপরিবারে আটক করে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।’ শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশের ঢাকা ও চাঁদপুরের একাধিক তদন্তকারী দল পিন্টু দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তার কাছ থেকে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় একজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আজ (শনিবার) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান বাদী হয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রয়োজনে তিনি এবং আরও ৫-৬ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, লকেটসহ নানা অলংকার বন্ধক রেখে নগদ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পরে ঋণের মূল টাকা পরিশোধ করে বন্ধকি স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে পিন্টু দাস টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পিন্টু দাসের কাছে বর্তমানে তার প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার পাওনা আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহরাস্তিতে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


শাহরাস্তিতে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ

 

জেলা পরিষদ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী, কালিয়াপাড়া ও হোসেনপুর বাজারে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জি. মমিনুল হকের সহযোগিতা ও ইচ্ছার ভিত্তিতে এই উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সারা দিন শাহরাস্তির কালিয়াপাড়া, চিতোষী ও হোসেনপুর বাজার পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম এই তথ্য প্রকাশ করেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসক পরিদর্শনকালে মন্তব্য করেন, "জেলা পরিষদ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণের জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে এবং উন্নয়নমূলক এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।

পরিদর্শনের সময় জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের প্রকৌশলীগণ এবং স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মার্কেটগুলো নির্মিত হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেক গুণ ত্বরান্বিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%