০৯:৪৬ পি.এম
সুনামগঞ্জের এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযোগকারী মামলার ভিত্তিতে মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের একজন বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণপড়া জামে মসজিদের ইমাম পদে নিয়োজিত আছেন। মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ইমামতি করার সুবাদে এলাকার লোকজনের সঙ্গে হুমায়ুনের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে ওই এলাকার কিশোরী দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মে মাসের ২৪ তারিখে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার সময় কিশোরীকে মসজিদসংলগ্ন ইমামের কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন হুমায়ুন। রক্ষিত বিষয়টি কাউকে জানাতে না বলেন তিনি, এবং কিশোরীকে চাকু দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে আটক রাখেন। এর পর, গত ১৭ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের থাকার ঘরে ওই কিশোরীকে নিয়ে দ্বিতীয়বারও ধর্ষণ করার ঘটনা ঘটে। এই সময় তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখান। তবে পরে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে কলেজছাত্রী বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং এরপর উভয়ের মধ্যে ভয়-ভীতি দেখানোর আসল ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে, কলেজছাত্রী জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই ঘটনায়, গত ২৬ জুলাই কলেজছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেছেন, “কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।” আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, এবং অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ইমামকে বুধবার (৫ আগস্ট) আদালতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন