ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ, ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ


৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ, ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ

ঢাকার ধামরাইয়ে পশ্চিম দেপাশাই বংশী নদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চলাচলের জন্য বাঁশের সাকো নির্মাণ করলেও সেটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবক মো. রায়হান নিহত

ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকো ব্যবহার করে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটে।

যার কারণে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি উঠেছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেতুটির কাজ চলছে।

তবে টেন্ডারে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারীসহ আটক ১২

স্থানীয়রা জানায়, ২০০৪ সালের দিকে বংশী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করে তৎকালীন বিএনপি সরকার।

ব্রিজটি সরু হওয়ায় ২০২২ সালের ৩১ মে এটি ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য।

উপজেলা এলজিইডি দপ্তর থেকে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামার জান আনোয়ারা জেবি উদ্বোধনের পর কাজ শুরু করে।

তাদের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৩ জুন ২০২৩, কিন্তু তারা পূর্বের ব্রিজ ভেঙে মালামাল নিয়ে চলে যায়।

আরও পড়ুন: রংপুরের কাউনিয়ায় পূজামণ্ডপে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণের মৃত্যু

এরপর থেকেই স্থানীয়দের ভোগান্তি শুরু হয়।

পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে রিটেন্ডারে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৮ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নতুন চুক্তি পায় মেসার্স উপকূল করপোরেশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তাদের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে।

প্রায় ২ বছর সম্পন্ন হলেও ৬০ শতাংশ কাজ এখনও শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতীক থাকবে না, প্রার্থী পক্ষে কাজ করতে হবে

ধীর গতিতে কাজ করায় ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত রডের মধ্যে মরিচা পড়ছে।

এতে কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্থানীয় একজন মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যনগরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আর্থিক অনুদান দিলেন যুবদল নেতা মোঃ রনি মিয়া

শিশুরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

বারবার কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

রহিমা খাতুন নামের এক নারী জানান, ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হন বাঁশের নড়বড়ে সেতু দিয়ে।

অনেক সময় পা আটকা পড়ে।

আরও পড়ুন: নির্ভেজাল ও পুষ্টিকর ফল উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

এছাড়া এর আগে একটি শিশু পানিতে পড়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, কাজটি দ্রুত শেষ হলে সবার উপকার হয়।

ধীরগতির কাজ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার আমজাদ হোসেনকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কারণে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিসহ সামাজিক কিছু কারণে কাজের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে তিনি জানান, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য তারা নিয়মিত মনিটরিং করছেন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ চলছে।

তিনি জানান, যাতে কাজ দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয় মাঠে ট্রাক্টর রাখায় থমকে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


বিদ্যালয় মাঠে ট্রাক্টর রাখায় থমকে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পার্কিং করা হচ্ছে মাটি বহন করা ট্রাক্টর। এ ছাড়াও, পানি নিষ্কাশনের পথে মাটি রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গেছে। এই কারণে মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী ট্রাক্টর চলাচল ও পুকুরের ভাঙনের ফলে সংলগ্ন বিদ্যালয় ভবনে অসংখ্য ফাটল দেখা দিচ্ছে, দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। এতদসত্ত্বেও বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৬৫ সালে ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এখানে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৯। আর তাদের শিক্ষক রয়েছেন আটজন।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান বেশ ভালো। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের দখলের পাশাপাশি, বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে রয়েছে আব্দুস সাত্তার ফকির নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার পুকুর। পাড় ভাঙতে থাকায় বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ পুকুরে ধসে পড়েছে।

চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার ও জুবাইদ রায়হান আবিরের ভাষ্য, 'স্কুলের মাঠে রাখা ট্রাক্টর ও কাদার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করতে আমাদের ভয় লাগে, কখন জানি ভেঙে পড়ে। খেলাধুলার জন্য আমাদের পরিষ্কার মাঠ এবং পড়ালেখার জন্য নতুন বিল্ডিং দরকার।'

স্থানীয় আব্দুল বারেক, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল হেলিম ও আরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, 'যারা স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা। মাঠে ট্রলি রাখা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। এতে তাদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে; বিদ্যালয়ের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা কাকে কী বলবো, সবাই তো এলাকার মানুষ।'

সরেজমিন স্কুল মাঠে গিয়ে কোনো ট্রাক্টর চালককে পাওয়া যায়নি। কিন্তু মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর ফকির নামের এক ট্রাক্টরচালক জানিয়েছেন, ‘স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখা মোটেও উচিত নয়। আমার ট্রাক্টর বাড়িতে রাখি। যারা মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তাদের বার বার নিষেধ করলেও তারা কথা শোনে না।'

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শরিফুন নাহার বলেন, 'আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং ড্রেসআপ শতভাগ। ভালো ফলের পাশাপাশি, খেলাধুলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম হয়েছে আমাদের স্কুল। কিন্তু স্কুলমাঠে দখল করে মাটি বহন করা ট্রাক্টর পার্কিং করছে। এ ছাড়া, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ নিয়ে ট্রাক্টর চালকদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা কথা শোনে না। বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।'

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, 'প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল স্কুল মাঠে ট্রাক্টর না রাখার ব্যাপারে কঠোর হওয়া। তিনি যদি ব্যর্থ হন তাহলে আমাদের জানাতে পারতেন। যেহেতু এখন জেনেছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'এসব বিদ্যালয়ের প্যালাসাইডিং ও মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। সেইসঙ্গে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও অন্যান্য সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেছেন, 'স্কুলমাঠে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দুই বোট আটক, ২১ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


পাচারকালে সিমেন্টবোঝাই দুই বোট আটক, ২১ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অভিযানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া এক হাজার ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ দুটি ফিশিং বোট জব্দ করেছে।

এই ঘটনায় ২১ জনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে টহলরত নৌবাহিনীর একটি জাহাজ পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সিমেন্ট বহনকারী ‘এফবি ফাতেমা হোসনা’ এবং ‘এফবি নিঝু রাব্বি’ নামের দুটি কাঠের ফিশিং বোট আটক করা হয়।

পরে বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে ‘এফবি ফাতেমা হোসনা’ থেকে ১০ জনের সঙ্গে ৬৫০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। একইভাবে ‘এফবি নিঝু রাব্বি’ থেকে ১১ জনের সঙ্গে ৮০০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট উদ্ধার করে।

আটক ব্যক্তিদের, জব্দ করা বোট এবং উদ্ধার করা সিমেন্টের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সমুদ্রসীমায় চোরাচালান, মাদক পাচারসহ সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, নারী আটক

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়, এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে বাহার (৩০) নামের একজন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয় পুলিশ কর্তৃক। ঘটনার পর ঝুমু আক্তার নামক একজন নারীকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে দাবি করেছেন যে তিনি ‘আত্মরক্ষার্থে’ এ কাজ করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তদন্ত চলছে পুলিশ কর্তৃক।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে, উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে যা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। নিহত বাহার ওই এলাকার রশিদ মিয়ার ছেলে এবং তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রতিবেশী প্রবাসী রাসেলের স্ত্রী ঝুমু আক্তার মোবাইল ফোনে বাহারকে তাঁর ঘরে ডেকে নেন। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় লোকজন ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাহারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। অভিযোগ উঠেছে যে, ধারাালো অস্ত্র দিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ গ্রামে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নেয়।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে প্রবাসীর স্ত্রী ঝুমু আক্তারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এই খুনের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পরকীয়া বা পারিবারিক গভীর সম্পর্কসহ অন্য কোনো মোটিভ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা কাপড় এবং ধারালো অস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় ঝুমু আক্তার নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আত্মরক্ষার্থে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এটি তদন্তের একটি প্রাথমিক অংশমাত্র। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, উদ্ধারকৃত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে ফরাসি নারীকে ১২ বছর বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


পাকিস্তানে ফরাসি নারীকে ১২ বছর বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

পাকিস্তানে ১২ বছর ধরে ফরাসি স্ত্রী এবং সন্তানদের বন্দি রেখে নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনার স্থান খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত এলাকা বারায়তে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি নাগরিক সিলভি ইয়াসমিনা নামক মহিলা পুলিশকে জানান যে তাঁর স্বামী অত্যন্ত হিংসাত্মক প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিন তাঁদের শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন ইয়াসমিনার এক ছেলে পালিয়ে পুলিশকে সাহায্য চেয়ে আসে। পরে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে। বাড়ির ভিতরে তদন্তকারীরা ইয়াসমিনা এবং তাঁর সন্তানদের একটি সঙ্কীর্ণ ঘর থেকে উদ্ধার করে। জানা গেছে, তাঁদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরবর্তীতে ইয়াসমিনা এবং তাঁর সন্তানদের পেশোয়ারের একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁরা ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ৫৪ বছর বয়সি ইয়াসমিনা দাবি করেন, ২০০৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি পাকিস্তানে আসার আগে বড় দুই সন্তান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতেন। পাকিস্তানে আসার পর বাইরের জগতের সঙ্গে তাঁদের কোন যোগাযোগ ছিল না বলেও তিনি জানান। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তানে আসার পরে স্বামী তাঁদের কার্যত বন্দি রেখেছিল। বিবিসি উর্দুকে পাক পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ফরাসি নারীকে অন্য কারো সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। তাঁদের বড় দুই সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ছোট তিন সন্তানের জন্ম পাকিস্তানে হয়েছে। এবং কখনও তাদের স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি। এদিকে পুলিশ আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করলেও তিনি পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানা গেছে। ইয়াসমিনার সঙ্গে যখন তাঁর পরিচয় হয়, ত তখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ইয়াসমিনা দীর্ঘদিনের কষ্টের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, 'আমরা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। স্বামী এবং সন্তানদের বাবা হিসাবে আমার স্বামীর আমাদের যেভাবে দেখাশোনা করা উচিত ছিল, তিনি তা করেননি। তিনি আমাদের মারধর করতেন এবং প্রতিনিয়ত আমাদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন।'' ইয়াসমিনা যোগ করেন, 'আমার মনে হয়েছিল আমার ভবিষ্যৎ তো ধ্বংস হয়েই গিয়েছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎও ধ্বংস হয়ে যাবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%