প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকে মারধর করে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরে তাঁকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য ও এক আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. শরিফ মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভাষানটেক এলাকায় প্রতিবেশী আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। গত শনিবার রাতে সোহেল রানার কথামতো মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে যান শরিফ। সেখানে তাঁকে একটি বাসার ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর সোহেল রানা ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী ও সোনিয়া নামে এক নারী ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা শরিফকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
একপর্যায়ে তাঁদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন শরিফ। তবে ওই টাকা নেওয়ার পরও তাঁরা ক্ষান্ত হননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। বরং তাঁকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় এবং পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন শরিফ। পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে তাঁকে বাসা থেকে নামিয়ে সাদা রঙের একটি টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারে তোলা হয়। গাড়িতে মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম রামেসহ আরও দুজন ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে তাঁকে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে গাড়ির ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা চা পান করতে গাড়ি থেকে নামলে পুলিশের গাড়ি দেখতে পান শরিফ। সুযোগ বুঝে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সহায়তা চান এবং পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে শ্যামলীর শিশুমেলা এলাকায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে একটি গাড়ি থেকে নেমে ওই ব্যক্তি পুলিশের সহায়তা চান। পরে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। ঘটনার সূত্রপাত মোহাম্মদপুর এলাকায় হওয়ায় তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের অভিযানে সার্জেন্ট আল মামুন, ল্যান্স কর্পোরাল মো. নুরুজ্জামান, মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলামকে আটক করা হয়। এ ছাড়া আনসার সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শরিফ। মামলায় চাঁদাবাজি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন