ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাবুগঞ্জে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতামূলক সভা


বাবুগঞ্জে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতামূলক সভা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) এলাকায় মাদক, চুরি, ডাকাতি ও সব ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় দক্ষিণ ভূতেরদিয়া (নতুনচর) এলাকার শিকদারপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়। ফরিদগঞ্জ বহুমুখী ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবক মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকাশ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল কবির, সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, দক্ষিণ কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন বাবুল বিশ্বাস, সমাজসেবক হাসানুজ্জামান (আর্মি খোকন), বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এবং কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আরিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সমাজসেবক আব্দুল হাকিম বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম, মো. সারোয়ার শরীফ, সমাজসেবক নুরুল হক চৌকিদার, গোলাম মোস্তফাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন: নলতা পাক রওজা শরীফ জিয়ারত ও আহ্ছানিয়া মিশন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক, চুরি, ডাকাতি ও কিশোর অপরাধসহ সামাজিক অবক্ষয় রোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বক্তাগণ অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি জোরদার এবং পুলিশ-জনতার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় উপস্থিত জনসাধারণ মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবুগঞ্জে চুরি-ডাকাতির হিড়িক, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ এম


বাবুগঞ্জে চুরি-ডাকাতির হিড়িক, সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় চলতি জুলাই মাসজুড়ে একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং উদ্বেগ বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব ঘটনার মধ্যে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান মালামাল এমনকি গুরুত্বপূর্ণ জমিজমার দলিল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, বর্ষাকালে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা বাড়লেও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিকতায়, ২৬ জুলাই গভীর রাতে বাবুগঞ্জ কলেজ গেট এলাকার খান স্টোরস নামে একটি মুদি দোকানে দুর্বৃত্তরা টিনের চাল কেটে প্রবেশ করে। সেখান থেকে তারা ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। দোকানের মালিক মোশারফ হোসেন খান বলেন, "বাবুগঞ্জ থানার মাত্র কয়েকশ গজের মধ্যে এমন ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। আমরা ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে আছি।" এর আগে, ১৯ জুলাই রাতে কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভুতেরদিয়া নতুন চর এলাকায় সুমন হাওলাদারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে। ২৪ জুলাই গভীর রাতে উপজেলার দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের মনির তামিদার, কবির তামিদার, কালাম হাওলাদার ও রুবেল মল্লিকের বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। চলতি মাসে কেদারপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তালুকদার বাড়ি থেকে পুরোনো ও মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী চুরি হয়েছে। ওই সময় বাড়িতে কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ২৩ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এক সাবেক সচিবের বাড়ির সামনের সাইক্লোন সেন্টারের পানির ট্যাংকের লোহার ঢাকনা চুরি হয়।

১৭ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়সাল মুন্সির বাড়িতে সিঁধ কেটে দুর্বৃত্তরা নগদ অর্থ এবং মূল্যবান মালামাল চুরি করে। এরও আগে ৯ জুলাই কেদারপুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা কামাল হাওলাদারের ভাই এবং বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাড়িতে দুর্বৃত্ত চুরি করে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চোরেরা নগদ অর্থ, মূল্যবান মালামাল এবং গুরুত্বপূর্ণ জমিজমার দলিলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায়।

ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে; অধিকাংশ ঘটনাই গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিঁধ কাটুন অথবা টিনের চাল কেটে ঘরে বা দোকানে প্রবেশ করা হয়েছে। নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও চুরি হয়েছে। একই মাসে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে একই ধরনের কৌশলে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, বর্ষাকালে রাতের নির্জনতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও সব অপরাধ একই চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

পুলিশের বক্তব্যে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, "ইদানীং বর্ষাকাল হওয়ার কারণে কিছু এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি। আগের চেয়ে পুলিশের তৎপরতা এবং রাতের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।" এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান বলেন, "বাবুগঞ্জে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"

অপরদিকে, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। চুরি-ডাকাতির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "এক মাসে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করা, বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি রাতের টহল আরও জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনসচেতনতা বাড়ানো সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের জানমাল সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসে।"

অত্র ঘটনায় সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় বাবুগঞ্জের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা রাত জেগে নিরাপত্তা রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে, অনেকেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। তাদের দাবি, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জনমনে বিরাজমান আতঙ্ক আরও বাড়বে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাবুগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ এম


কাউখালীতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রদান

পিরোজপুরের কাউখালীতে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এবং বর্ষা মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ৫০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন জাতের সবজির বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নির্বাচিত কৃষকদের হাতে এই প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল ৭ ধরনের সবজির বীজ যেমন কলমি শাক, পুঁইশাক, হাইব্রিড লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, বেগুন ও শসা। এছাড়া, প্রতিটি কৃষকের জন্য ডিএপি (উঅচ) ও এমওপি (গড়চ) রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল হুদা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহ ইমরান ফারুক, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক হিরো ও তারিকুল ইসলাম পান্নুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে কক্ষে তালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ এম


বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে কক্ষে তালা

বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এটি রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টার সময়ে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেছেন, 'বিতর্কিত ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে', যা তারা মেনে নিতে প্রস্তুত নন।

পরে তারা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, ডা. মনিরুজ্জামান যোগদানের শেষ দিন হলেও তিনি অফিসে যোগ দেননি। এর পর, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার নির্ধারিত কক্ষের দরজায় প্রতীকীভাবে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, "যার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।"

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, "বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। আমাদের এই আন্দোলন জনস্বার্থেই।" কর্মসূচির শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের অপসারণ এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১ বছর পর দেশে ফিরেছে প্রবাসী মিন্টুর মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ এম


১ বছর পর দেশে ফিরেছে প্রবাসী মিন্টুর মরদেহ

কম্বোডিয়ায় মৃত্যুর এক বছর পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রূপগঞ্জের প্রবাসী মিন্টু মিয়ার (৫১) মরদেহ।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিন্টুর মরদেহ গ্রহণ করেন তার স্ত্রী তোফা খানম।

পরিবারের দীর্ঘ এক বছরের চেষ্টার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

জমি বিক্রি ও ঋণ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম্বোডিয়া গিয়েছিলেন মিন্টু মিয়া। সেখানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি একটি ছোট রেস্টুরেন্ট শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিন পরই বাধার মুখে পড়েন। সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ ওই স্থাপনাটি ভেঙে দেয়। পরে এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন মিন্টু। কিন্তু সেখানেও তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন। পরে গত বছরের ২৬ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর তার মৃত্যুর পরপরই অবশিষ্ট সবকিছুই লুটে নেন অজ্ঞাতরা।

মিন্টু মিয়াই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে। এমনকি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতেও পরিবারের জন্য সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘ চার মাস বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালালেও তারা সফল হয়নি। কারণ মিন্টু ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়া যাওয়ার পর বিজনেস ভিসা নেন। ফলে বাংলাদেশি ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় তিনি দেশে নথিভুক্ত ছিলেন না। এই জটিলতা মোকাবিলা করে মরদেহ পাঠানোর জন্য বিভিন্ন পক্ষ ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করে, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯ লাখের বেশি। ঋণে জর্জরিত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ নভেম্বর মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উইটনেস ফাউন্ডেশনে আবেদন করেন। পরবর্তীতে ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা করে। এরপর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বয় ও ধারাবাহিক অনুসরণের মাধ্যমে অবশেষে সরকারি তহবিলের সহায়তায় মরদেহটি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান জানান, অভিবাসীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং সংকটে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা সংগঠনটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মিন্টু মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%