১২:৫৭ পি.এম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদ ছাড়ার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটিশ লেবার দলের এমপি এবং মন্ত্রীরা তাকে দায়িত্ব ছাড়ার একটি সময়সূচি ঘোষণা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এটি এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
এদিকে, মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিশাল জয়ের পর লেবার দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দলের একাংশ বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে সামনে আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে, স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি কোনো চ্যালেঞ্জ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত নন। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত আছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে চলে যাবেন না।
আরও পড়ুন: সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে সপ্তাহান্তে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে এবং মন্ত্রী, এমপি এবং পরিবারের মতামত শোনার জন্য বলেছেন। একই সঙ্গে, বার্নহ্যাম ও সম্ভাব্য এক অন্য নেতা ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষ থেকে আপাতত কোনো গণমাধ্যমে বক্তব্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বার্নহ্যাম লেবারের ভোটের হার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করে একটি বড় জয় পান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এই ফলাফলটি তার সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) স্টারমার তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের অবস্থান এবং সমর্থন যাচাই করেছেন। পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার তাকে দায়িত্ব ছাড়ার জন্য একটি সময়সূচি ঘোষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস স্টারমারকে পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম
এর আগে, লেবারের নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ও জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডসহ কয়েকজন নেতা স্টারমারকে পদ ছাড়ার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। স্টারমার বলেছেন, তিনি জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, যদি নেতৃত্বের লড়াই ঘটে, তাহলে তিনি তাতে অংশ নেবেন এবং দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন না।
এদিকে, বার্নহ্যাম বলেছেন, তার এই জয় ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি দেশকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
লেবার এমপি পিটার সোয়ালো জানিয়েছেন, তিনি এখন মনে করছেন স্টারমারের পদত্যাগের সময় এসেছে এবং তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন।
তবে, স্টারমারের পক্ষে থাকা নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা মনে করেন যে, দলকে বিভক্ত না করে সরকারের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাদের মধ্যে কিছু নেতার বিশ্বাস, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে আগের সরকারের মতো অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
লেবারের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিতে কোনো প্রার্থীকে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম এই সমর্থন সহজেই পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্টারমার বর্তমান নেতা অবস্থায় থাকাকালে নেতৃত্বের ভোটে অংশ নিতে হলে তাকে কোনো এমপির সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে না।
আরও পড়ুন: কাশ্মীরিদের রক্ষাকর্তা পাকিস্তান! সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ভারতে তোলপাড়
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন