বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৩২ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার ব্যক্তিগত সম্পদের সঙ্গে ফ্লোরিডায় অবস্থিত দুটি বিলাসবহুল রিসোর্ট- মার-আ-লাগো এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরালের আয় রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।
সদ্য প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন সরকারি নৈতিকতা দফতর প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অনুসারে, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র মার-আ-লাগো থেকেই ট্রাম্পের আয় প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এটি ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২০ সালের আয়ের প্রায় তিন গুণ।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে এখানে আয় ছিল প্রায় ১১ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ডলারে।
২০২৫ সালের শুরু থেকে ট্রাম্প মার-আ-লাগো ও ডোরাল সফর করেছেন দুই ডজনের বেশি বার। এসব সফরে তিনি মিলিয়ন ডলার মূল্যের তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজ এবং রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে রিসোর্টগুলোতে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য। ফলে রিসোর্টগুলোর আয় দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
ক্ষমতায় ফেরার আগে ট্রাম্প মার-আ-লাগোর সদস্যপদ গ্রহণের প্রাথমিক ফি বাড়িয়ে ১০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেন, যা আগে ছিল মাত্র এক লাখ ডলার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মত অনুযায়ী, ক্লাবের সদস্যরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, যা তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।
নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ব্যক্তি ব্যবসা একইসঙ্গে পরিচালিত হওয়া বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন পাবলিক সিটিজেনের সহ-সভাপতি রবার্ট ওয়েইসম্যান বলেন, “মানুষ মার-আ-লাগোতে যাচ্ছে কারণ তারা প্রেসিডেন্টের কাছাকাছি থাকতে চায়। প্রেসিডেন্টের কানে কয়েকটি কথা পৌঁছে দেওয়ার মূল্য প্রবেশমূল্যের চেয়েও অনেক বেশি।”
তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের কেউ কখনও স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনা করেই নেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকবেন না। তার সম্পদ বর্তমানে সন্তানদের পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে, যা তার প্রথম মেয়াদেও ছিল।
আর্থিক বিবরণী অনুসারে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস এখন আর গলফ ক্লাব বা রিসোর্ট নয়; বরং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা।
তার নতুন ক্রিপ্টো উদ্যোগ, বিশেষ করে $TRUMP মিমকয়েন এবং তার ছেলেদের সহ-প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে ট্রাম্পের আয় ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি।
গত বছর তিনি ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে যে আয় করেছেন, তা তার গলফ ক্লাব, হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা থেকে পাওয়া মোট আয়ের প্রায় তিন গুণ।
এছাড়া ভিয়েতনাম, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ট্রাম্প নাম ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়ে পরিচালিত হোটেল, গলফ কোর্স ও রিয়েল এস্টেট প্রকল্প থেকে তিনি প্রায় ৬ কোটি ডলার আয় করেছেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, তার আয় বৃদ্ধির একটি বড় কারণ শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি।
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন কেন আমি লাভ করছি? কারণ শেয়ারবাজার বাড়ছে। সবাই লাভ করছে।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার অর্থ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও আলোচনা করেন না।
ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার বিভিন্ন সম্পত্তি রিপাবলিকান পার্টির তহবিল সংগ্রহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে মার-আ-লাগোতে প্রেসিডেন্ট-সমর্থক সুপার প্যাক মাগা ইনকরপোরেটেড-এর উদ্যোগে জনপ্রতি ১০ লাখ ডলারের একাধিক ‘ক্যান্ডেললাইট ডিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এগুলোতে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
একই সময়ে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটিও মার-আ-লাগো ও ডোরালে একাধিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালে এই দুটি রিসোর্টে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংগঠনটি ১০ লাখ ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে।
ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন কোম্পানিও মার-আ-লাগোতে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।
ভার্টিক্যাল ফ্লাইট প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এক্সটিআই অ্যারোস্পেস ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেখানে নৈশভোজের আয়োজন করেছে।
একই বছরের জানুয়ারিতে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার আগে, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজারের শীর্ষ নির্বাহীদেরও মার-আ-লাগোতে বৈঠক করতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়া নিজের নতুন ক্রিপ্টো উদ্যোগের প্রচারেও মার-আ-লাগো ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।
২০২৬ সালের এপ্রিলে তার $TRUMP মিমকয়েনের শীর্ষ ক্রেতাদের জন্য সেখানে বিশেষ গালা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ট্রাম্প বক্তব্য দেন এবং শ্যাম্পেইন সংবর্ধনায় অংশ নেন।
শুধুমাত্র রাজনৈতিক তহবিল সংগ্রহ নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বৈঠকের ক্ষেত্রেও মার-আ-লাগো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে পরিণত হয়েছে।
সেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিদেশি নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিয়মিত এই রিসোর্টে সফর করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একই পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধির অংশবিশেষকে অবৈধ ঘোষণা করে, হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজকের এই রায়ের ফলে, সারা দেশে ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা নিরসন হলো বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে, ২০১৭ সালে রিট করেন।
সেই রিটের শুনানি শেষে, হাইকোর্ট রুল জারির পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রায় দিয়েছিল।
সেই রায়ে ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।
পরবর্তীতে সেই লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
এক পর্যায়ে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর আজ রায় দেন।
আদালতে আপিলকারী পক্ষে শুনানিতে ছিলেন— অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন— সিনিয়র আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের উদ্দেশ্যে সরকার একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
এই কমিটি সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
সম্প্রতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেছেন।
এ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মৌলিক ভিত্তি।
ড. মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, ‘একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক, যোগ্য ও বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ড. মাহ্দী আমিন আরেকটি তথ্য তুলে ধরেন, ‘আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন— আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ৯৮.৮৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অনুদান নিশ্চিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডাররা সবাই এখানে এক হয়েছেন। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব হবে।’
শিক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ও সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। মুখস্থ বিদ্যার চাপ কমিয়ে শিক্ষাকে আনন্দময় করতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘সংস্কৃতি’ ও ‘ক্রীড়া’—এই দুটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।’
শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কাণ্ডারী শিক্ষার্থীদের যারা তৈরি করেন, সেই শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়ন সবচেয়ে জরুরি। এই শিক্ষকদের যদি আমরা দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে না পারি, তবে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুফল মিলবে না।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
ড. মাহ্ধী আমিন বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে আমাদের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই দেশের সব অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন একই মানের পোশাক (ইউনিফর্ম) এবং একই স্কুল ব্যাগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ক্লাসরুম এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের প্রসারের পাশাপাশি ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টেকসই বাস্তবায়নের ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেধা ও মননশীলতায় দীপ্ত একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিগণের উপস্থিতি ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলায় গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সময় গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী আটটি স্থানে একযোগে গণসমাবেশ এবং আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আলীবাবা থিম পার্কের পাশে তিস্তা নদীর তীরে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাটি তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে তিনি জানান, তিস্তা পাড়ের মানুষ এখন আর নতুন প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় নেই। তারা প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার দুই তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, কৃষি এবং সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং উত্তর এলাকার আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর একটি সমন্বিত আয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হতে পারে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কর্মসূচিতে সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, ববিউল ইসলাম, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রকৌশলী শেখ রেজওয়ানও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা, নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন, দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ