মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ এম
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঠাকুরগাঁওয়ে আখচাষের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) উদ্যোগে ‘আখের সঙ্গে সবুজের বন্ধন’ প্রত্যয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল গেটসংলগ্ন পাইকপাড়া ও চিলারং এলাকায় আখ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়।
মো. শামছুজ্জামান সুরুজ আজ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান কৃষকদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, জমির আইল ও আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান মো.শামছুজ্জামান বলেন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কার্বন শোষণ বাড়ানোর পাশাপাশি বায়ুর মান ও পরিবেশের ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শহর, গ্রাম, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা, চর ও সরকারি বনভূমিসহ বিভিন্ন স্থানে সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্যা, খরা ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষ ও জলাধারভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় সবুজ আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, একটি চারা আজ ছোট হলেও সময়ের সঙ্গে সেটিই ছায়া, অক্সিজেন ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয় হয়ে উঠবে। তাই প্রতিটি বাড়ির আঙিনা থেকে কৃষকের জমির আইল—সবখানেই গাছ লাগাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আখের মাঠে শুরু হওয়া এই সবুজায়ন একদিন পুরো ঠাকুরগাঁওয়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএসএফআইসি সূত্র জানায়, কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি চিনিকলে ১ হাজার করে গাছ রোপণ করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ১৫টি চিনিকলে মোট ১৫ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগ শুধু গাছ লাগানোর কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়। একই সঙ্গে বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ২৫ কোটি চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে তুলা চাষে অংশ নেওয়া চিলারং গ্রামের কৃষক মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আখের জমিতে সাথী ফসল চাষ কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি জমির চারপাশে গাছ লাগালে পরিবেশও সুন্দর হয়।
আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আফজাল হোসেন বলেন, কৃষকের মাঠ শুধু ফসল উৎপাদনের জায়গা নয়, দেশের সবুজ ভবিষ্যৎ তৈরিরও অংশ। তাই আখচাষের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নেপালে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে দেশটির রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম।
এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, নেপালের এই দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের মানবিক দায়িত্ব। বিপদগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে এ সহায়তা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মানবিক সংহতির নিদর্শন।
সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মো. রফিকুল কবির, ট্রেজারার ডা. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম এবং তহবিল সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. এস. এম. হুমায়ুন কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তহবিল সংগ্রহ বিভাগের উদ্যোগে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বাংলাদেশ বেতার বান্দরবান আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।
আজ সোমবার সকালে তিনি কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণের সঙ্গে এ সভা করেন।
এ সময় বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণ বান্দরবান থেকে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
চেয়ারম্যান মাম্যাচিং স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর বান্দরবান বেতার কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বান্দরবান বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ বেতার বান্দরবান কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, আঞ্চলিক প্রকৌশলী কল্যাণ কুমার সরকার, সহকারী পরিচালক জ্যোতির্ময় গোলদার ও সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক অনুদেব চাকমাসহ বেতারের বিভিন্ন শিল্পী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং সবার আগে বাংলাদেশ শীর্ষক একটি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সোহেল সিকদারের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো বরিশালের বাকেরগঞ্জের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা আক্তারের দুই এতিম শিশু সন্তান সাফওয়ান ও তাসফিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি সোমবার দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে নিহতের বাবার বাড়িতে ছুটে যান। তার সঙ্গে ছিলেন শরশী পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ ওসি আবদুস সালাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা যুবদল আহবায়ক এনায়েত হোসেন খান বিপু।
সেখানে পৌঁছে তিনি নিহতের বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া মুক্তার মা এবং অনাথ দুই শিশু সন্তান—সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)-কে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান। তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই শিশু সন্তানের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এ সময় মুক্তার অবুঝ দুই শিশু ডুকরে কেঁদে উঠে বলে, "বাবাই আমাদের মাকে মেরে ফেলেছে।" অবোধ শিশুদের এই করুণ আর্তি ও স্বজনদের আহাজারিতে সে সময় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মেয়েটিকে মিথ্যা অপবাদ ও যৌতুকের লোভে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আসামি যেন কোনো অবস্থাতেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায় সেজন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন নিহত মুক্তার পরিবারের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিতে সোহেল তাঁর স্ত্রী মুক্তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। নির্যাতনের সেই লোমহর্ষক ভিডিও ধারণ করে মুক্তার ভাই তারেক হাওলাদারের মোবাইলে পাঠিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন ঘাতক সোহেল। তারেক তাঁর বোনকে না মারার জন্য আকুতি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি; মারধরের একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিদ্যুৎ ঘাটতি হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের জন্য কর ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন (৬ মাস) পর্যন্ত আমদানিকৃত যন্ত্রাংশে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূসক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করা হবে। এর ফলে দ্রুত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, শিল্প উৎপাদন বজায় থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হ্রাস পেয়ে বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া, নিম্নস্তরের সিগারেটের নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অবৈধ বাণিজ্য রোধ এবং রাজস্ব ঘাটতি কমাতে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ড রোল ব্যবহার বিধিমালা সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ চুক্তির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয়পক্ষ তা সংশোধনের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ষষ্ঠ বৃহত্তম উৎস হংকং। এই চুক্তি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ অন্যান্য খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ