রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০৯:১৪ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ এবং মশার উপদ্রব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে নিজস্ব অর্থায়নে ব্যাপক মশা নিধন কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার উত্তর বাজার, দক্ষিণ বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, অলিগলি এবং আবাসিক এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের ওষুধ ও ধোঁয়া স্প্রে করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কাউখালীতে মশার বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পাশাপাশি এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। জনগণের এই ভোগান্তি লাঘব এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই মশা নিধন কার্যক্রম হাতে নেন।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম দুলাল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত হোসেন তালুকদার, মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ জাহিদুর রহমান ফিরোজ প্রমুখ।
অভিযান চলাকালে রাকিব তালুকদারের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সরাসরি সহায়তায় অংশ নেন। সকালে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কর্মসূচি গ্রহণের কারণ জানতে চাইলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার জানান,
সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের কাউখালীতে মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে এবং অনেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি ও আতঙ্ক আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। কোনো সরকারি অনুদান বা সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন, "জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যেকোনো বিপদে পাশে দাঁড়ানোই স্বেচ্ছাসেবক দলের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এলাকার যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের পাশে স্বেচ্ছাসেবক দল এভাবেই ঢাল হয়ে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড, অগ্নি আতঙ্কের ফলে হতাহত ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চ বিক্ষোভ করেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভের সময় বক্তারা উল্লেখ করেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য অন্যতম ভরসাস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলার লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার পর রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র একটি চালু থাকায় শত শত মানুষ একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এই হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হন এবং কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া যায় বলে তারা দাবি করেন।
তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর হতাহতের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে নিহতদের স্বজনদের বক্তব্যেরও অসঙ্গতি রয়েছে। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানানো হয়নি বলেও তারা অভিযোগ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় একাধিকবার বাড়ানো হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। পরপর দুটি তদন্ত হয়েছে—তাহলে প্রতিবেদন কোথায়?
তাদের দাবি, এই ঘটনা কোনো গোপন বিষয় নয়; এটি জননিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। তাই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ময়মনসিংহ মঞ্চ।
ময়মনসিংহ মঞ্চের মুখ্য সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আবু বকর ছিদ্দিক রুমেল, আব্দুল হান্নান আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ, আনোয়ার হোসেন, আরিফুল হাসান, শাহরিয়ার আহমেদ আশিক, সাদ্দাম হোসেন, সুশান্ত শীল, আবু সাইফ মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই তালিকাটি প্রকাশ করে।
বিস্তারিত আসছে...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাইপ্রাসের একটি আদালত মঙ্গলবার ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিয়ার আহমেদ ইমনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ঘাতকও ২২ বছর বয়সী। গত ৭ জুন একটি বাসে ইমনের সাথে তার পরিচয় ঘটে এবং তারা একে অপরের যোগাযোগ নম্বর বিনিময় করে। তবে বাসে চলাকালীন সময়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে জানা যায়।
৯ জুন ঘাতক একটি ছুরি ক্রয় করে এবং ১১ জুন ইমনের সাথে যোগাযোগ করে জানায় যে, সে দৈনিক ৫০ ইউরো বেতনের একটি কাজ খুঁজে পেয়েছে। ইমনের রুমমেটের তথ্য অনুযায়ী, ইমন তাকে জানিয়েছিল যে সে লার্নাকা জেলার কোফিনু গ্রামের একটি মুরগির খামারে নতুন কাজে যোগ দিতে যাচ্ছে, তবে সে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিনই ইমনের বাবার কাছে একটি এসএমএস আসে, যেখানে লেখা ছিল—"আমাকে বাঁচান, তা না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।"
মুক্তিপণ দাবি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
কিছু মিনিট পর ইমনের বাবার কাছে আরও কিছু বার্তা আসে, যেখানে আগামী ১৪ জুনের মধ্যে ৩৫,০০০ ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর ছেলের কিডনি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ইমনের বাবা দ্রুত তাঁর ছেলের রুমমেটদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং বার্তা প্রেরককে ফেরত পাঠিয়ে লেখেন যে, তিনি "পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং তাঁদের দাবি পূরণের চেষ্টা করবেন।" একই সাথে তিনি তাঁর ছেলেকে কোনো ক্ষতি না করার জন্য আকুতি জানান।
এরপর রাত ১১:৩৭ মিনিটে অপহরণকারী আবার বার্তা পাঠায় এবং জানায় যে, ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ১০,০০০ ইউরো না দিলে ইমনের কিডনি কেটে নেওয়া হবে। ইমনের বাবার কাছে সেটিই ছিল শেষ বার্তা। সরকারি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির আওতায় ১৬ জুন ইমনের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে লার্নাকা বিমানবন্দরে সে অনুপস্থিত থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে ওই ২২ বছর বয়সী আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, সে ইমনকে কোফিনু কসাইখানার কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ও পরে শ্বাসরোধ করে। এরপর সে ইমনের দেহ টেনে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে আবারও শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যার পর লাশ খড় দিয়ে ঢেকে রেখে সে ঘরে ফিরে যায় এবং হাত ও জুতো ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে ঘাতকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ উল্লেখিত স্থান থেকে ইমনের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফজরের আজান দিতে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈগ্রাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত মুয়াজ্জিনের নাম মো. শাহজাহান মিস্ত্রী। তিনি ওই গ্রামের মৃত সুজত আলীর পুত্র।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোরে ফজরের আজান দেওয়ার উদ্দেশ্যে শাহজাহান মিস্ত্রী মসজিদে যান। প্রথমে তিনি হুজুরখানায় গিয়ে মসজিদের ইমামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর তিনি আজানের জন্য মসজিদে প্রবেশ করে নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মসজিদ থেকে হঠাৎ শব্দ শুনে ইমাম ভেতরে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয় মুসল্লিরা এসে পরীক্ষা করে শাহজাহান মিস্ত্রীকে মৃত অবস্থায় পান। এরপর স্থানীয় এক মুসল্লি ফজরের আজান সম্পন্ন করেন। নামাজ শেষে স্বজন ও মুসল্লিরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম জানান, আজান দেওয়ার জন্যই মসজিদে এসেছিলেন তিনি। "আমাকে ডেকে ঘুম থেকে তুলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মুয়াজ্জিন আর বেঁচে নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ