০২:৫৯ পি.এম
বরগুনার আমতলী মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন নেতা এবং চার শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে তাদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ ও স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং
এ ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, কুকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল আলম এবং উপজেলা যুবদল নেতা ফরহাদ ফকিরসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে ধরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। এরপর জুমার নামাজ শেষে চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে শিক্ষার্থী মো. আসিফ এবং মো. তামিম নামের আরও দুজনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধরে নিয়ে যান বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মহিষকাটা থেকে তুলে নিয়ে আমতলী বিএনপির পার্টি অফিসে রেখে রাতে থানায় সোপর্দ করেছে।’
ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, ‘নবীনবরণ অনুষ্ঠানে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার কারণে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, মাহবুব আলম এবং জালাল ফকিরের ছেলে ফরহাদ ফকিরের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা সাইফুল কাজী ও সুজা নামের দুই ছাত্রকে ধরে নিয়ে গেছেন। রাতে তাদের থানায় হস্তান্তর করছে বলে শুনেছি।’
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, “দলের নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, কাদের ইন্ধনে তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ধরে আনা শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে রাতেই পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ
ওই ঘটনায় আমতলী থানায় বিএনপির পক্ষ থেকে ৩২ জনকে এজাহার নামীয় এবং ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ (শনিবার) আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন