০৬:২১ পি.এম
অভিনেত্রী আসমা আক্তার ঝিলিকের মৃত্যু সংক্রান্ত মামলায় তার স্বামী সাফিউল্লাহ ওরফে মহব্বতকে, রিমান্ড শেষে, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আত্মহত্যায় প্ররোচনার এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রাখতে তাকে কারাগারে রাখা জরুরি। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধানমণ্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আব্দুল মান্নান আসামিকে হাজির করে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানি শেষে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার। আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, এক দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। এই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের কাজ এখনো চলমান। তাই তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ জুন ভোরে সাফিউল্লাহ অসুস্থ হয়ে পড়লে, প্রথমে তাকে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে শয্যা না থাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। ওই সময় ঝিলিক স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে সাফিউল্লাহর সঙ্গে দেখা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এসময় ঝিলিক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ পাঠানোর অনুরোধ জানান।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার কিছু সময় পর দুর্ঘটনার খবর আসে। পরে সাফিউল্লাহ ফোন করে ঝিলিকের পরিবারকে জানান, তিনি হাসপাতালের ভবনে একটি খোলা বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
ঘটনার পর ঝিলিকের বড় ভাই মোজাম্মেল হক ধানমণ্ডি মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সাফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। সেই রিমান্ড শেষে রবিবার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসমা আক্তার ঝিলিক ছোট ও বড় পর্দার পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ সিনেমাতেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন