ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য পূরণ হলো না


রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য পূরণ হলো না

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য পূরণ হলো না। এমনকি আগের অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে যে আয় হয়েছিল, এ বছর অর্জিত আয় তার চেয়েও কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। আর সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়েও প্রায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে রপ্তানি আয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫২৫ জন আটক, মামলা ৪৬

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। দেখা যাচ্ছে লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় কমেছে। এ ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক খাতের রপ্তানি কমে গেছে। ইপিবির তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ১১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে ৩ হাজার ৯৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছিল এ খাতের রপ্তানিকারকদের।

অর্থাৎ, রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় কমার ফলে গত অর্থবছরে সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন: মিরপুর-১০ এ ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ এম


সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল এবং উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের যেকোনো অপচেষ্টা বা অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি এও বলেন, সাইবার অপরাধ এবং অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া বৈঠকে, দুই দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজীকরণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৎকালীন সময়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ভাবে জনমত এবং সমর্থন আদায়ে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত এবং নৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তিনি তাঁদের বাংলাদেশে আগমন এবং পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দেন। তিনি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য। রাষ্ট্রদূত আরো অনুরোধ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যদি কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করেন, তবে সেই আবেদনের একটি অনুলিপি ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানো উচিত, যেন যথাযথ যাচাই করা যায়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে আমরা ফিলিস্তিনকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি ও বিশ্বাস করি। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের কল্যাণে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত তাঁকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ এম


চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

 

জামালপুর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জের মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার ভরসা হলো দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এই উপজেলার আটটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, এবং পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজীবপুর এলাকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তবে সেখানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পরিচ্ছন্নতা সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার ভয়ে অনেকেই সরকারি হাসপাতাল এড়িয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরের হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১১টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিকস ও চক্ষু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যে কিছু কর্মী প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য কারণে বেশিরভাগ সময় ছুটিতে থাকেন। হাসপাতালের একটি কর্মচারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংখ্যা নেই। কেউ কেউ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত এই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে ওয়ার্ড, বারান্দা ও টয়লেট অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদও শূন্য রয়েছে। আয়ার দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ড দেন। ওষুধ সরবরাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও তদারকি সবসময় সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

রোগী ইউসুফ আলী বলেন, নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দেন। কিন্তু ডাক্তারদের দেখা খুব কম পাওয়া যায়। নার্সিং সুপারভাইজার মনোয়ারা জেসমিন বলেছেন, ৩১টি নার্সের পদের বিপরীতে বর্তমানে ২৫ জন কর্মরত রয়েছেন এবং সীমিত জনবল নিয়েও তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালের জনবলেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। বর্তমানে তিনটি ওয়ার্ডবয়ের পদ খালি রয়েছে এবং দুটি আয়ার পদও শূন্য। পাঁচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে কর্মরত মাত্র দুজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক চিকিৎসক সেখানে থাকতে আগ্রহী নন এবং ফলে বদলি হয়ে এলেও অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র চলে যান। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীবের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ময়মনসিংহ থেকে যাতায়াত করেন। এই বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক পরপর কয়েকদিন হাসপাতালে গিয়ে তাকে কর্মস্থলে পাননি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেছেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। সকলেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। আমি আমার অনুপস্থিতির অভিযোগও ভিত্তিহীন।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে আমাকে মাসের অনেক দিন হাসপাতালের বাইরে থাকতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
২০২৫-২৬ অর্থবছর

সরকার ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ এম


সরকার ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে

সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত হলো, তিনটি কারণের জন্য সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। এই তিনটি কারণ হল রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মন্তব্য করে বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে সরকার ব্যয় নির্ধারণ করে। তবে বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে, যার ফলে সরকারকে ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বেড়ে ওঠা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৭১ কোটি টাকা। ফলে এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।

সকল তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের এ স্থিতি ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও পরে তা সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেটে এক বড় অঙ্কের ঘাটতি রাখা হয় এবং এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেয়। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রত্যাশিত অর্থায়ন না এলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর, যেমন ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিনেও ফারজানার সন্ধান মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ এম


২২ দিনেও ফারজানার সন্ধান মেলেনি

ফেনী জেলার ছনুয়া গ্রামে নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বাড়ির আবুল বশরের মেয়ে ফারজানা আক্তার গত ২২ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন জায়গায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি চালিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, নিখোঁজ ফারজানাকে উদ্ধারের ব্যাপারে তারা সক্রিয় রয়েছে। তবে ফারজানার স্বামীর পরিবারের অসহযোগিতার কারণে তার সন্ধানে কাজটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ফারজানার বিবাহ হয় ২০১৮ সালে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার হেসাখাল দায়েমছাতী মজুমদার বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে, দুবাই প্রবাসী শাহাদাতের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে দেবর শাহপরানের কারণে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। গত ৯ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে ফারজানা নিখোঁজ হয়ে যায়।

ফারজানার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দেবর শাহপরানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ফারজানাকে গুম করেছেন। ফারজানার মা সাবিনা ইয়াসমিন তার অভিযোগে বলেন, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেবর শাহপরান ফারজানাকে গুম করে নানা কল্পকাহিনি রটাচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৯ জুন থেকে ফারজানা নিখোঁজ হলেও তার স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি। অন্যদিকে, ফারজানার মা, ফুপু ও বাবার দাবি, তারা ফারজানাকে খুঁজে পেতে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।

নাঙ্গলকোট থানার এসআই ও ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার আশরাফ জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%