ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ


চিকিৎসাসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

 

জামালপুর শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেওয়ানগঞ্জের মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার ভরসা হলো দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

এই উপজেলার আটটি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, এবং পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রাজীবপুর এলাকার বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। তবে সেখানে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পরিচ্ছন্নতা সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার ভয়ে অনেকেই সরকারি হাসপাতাল এড়িয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরের হাসপাতালের দিকে ঝুঁকছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১১টি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, অর্থোপেডিকস ও চক্ষু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে ২০টি মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। তাদের মধ্যে কিছু কর্মী প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা বা অন্যান্য কারণে বেশিরভাগ সময় ছুটিতে থাকেন। হাসপাতালের একটি কর্মচারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংখ্যা নেই। কেউ কেউ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় নিয়মিত এই সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং বিশেষ করে নারী ও শিশু রোগীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালে ওয়ার্ড, বারান্দা ও টয়লেট অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ওয়ার্ডবয়ের তিনটি পদও শূন্য রয়েছে। আয়ার দুটি পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, দিনে মাত্র একবার চিকিৎসক রাউন্ড দেন। ওষুধ সরবরাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ ও তদারকি সবসময় সফর করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

রোগী ইউসুফ আলী বলেন, নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দেন। কিন্তু ডাক্তারদের দেখা খুব কম পাওয়া যায়। নার্সিং সুপারভাইজার মনোয়ারা জেসমিন বলেছেন, ৩১টি নার্সের পদের বিপরীতে বর্তমানে ২৫ জন কর্মরত রয়েছেন এবং সীমিত জনবল নিয়েও তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালের জনবলেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। বর্তমানে তিনটি ওয়ার্ডবয়ের পদ খালি রয়েছে এবং দুটি আয়ার পদও শূন্য। পাঁচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে কর্মরত মাত্র দুজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টার দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক চিকিৎসক সেখানে থাকতে আগ্রহী নন এবং ফলে বদলি হয়ে এলেও অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র চলে যান। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীবের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ময়মনসিংহ থেকে যাতায়াত করেন। এই বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রতিবেদক পরপর কয়েকদিন হাসপাতালে গিয়ে তাকে কর্মস্থলে পাননি।

আরও পড়ুন: ‘মেম্বার-চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবা, নালা ভেঙে ফেলব’: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেছেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। সকলেই নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। আমি আমার অনুপস্থিতির অভিযোগও ভিত্তিহীন।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে আমাকে মাসের অনেক দিন হাসপাতালের বাইরে থাকতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য জনবলের সংকট রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
২০২৫-২৬ অর্থবছর

সরকার ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ এম


সরকার ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে

সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত হলো, তিনটি কারণের জন্য সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। এই তিনটি কারণ হল রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মন্তব্য করে বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে সরকার ব্যয় নির্ধারণ করে। তবে বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে, যার ফলে সরকারকে ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বেড়ে ওঠা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৭১ কোটি টাকা। ফলে এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।

সকল তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের এ স্থিতি ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও পরে তা সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবছর বাজেটে এক বড় অঙ্কের ঘাটতি রাখা হয় এবং এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেয়। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রত্যাশিত অর্থায়ন না এলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর, যেমন ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিনেও ফারজানার সন্ধান মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ এম


২২ দিনেও ফারজানার সন্ধান মেলেনি

ফেনী জেলার ছনুয়া গ্রামে নিজাম উদ্দিন ভূইয়া বাড়ির আবুল বশরের মেয়ে ফারজানা আক্তার গত ২২ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন জায়গায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি চালিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, নিখোঁজ ফারজানাকে উদ্ধারের ব্যাপারে তারা সক্রিয় রয়েছে। তবে ফারজানার স্বামীর পরিবারের অসহযোগিতার কারণে তার সন্ধানে কাজটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ফারজানার বিবাহ হয় ২০১৮ সালে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার হেসাখাল দায়েমছাতী মজুমদার বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে, দুবাই প্রবাসী শাহাদাতের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকে দেবর শাহপরানের কারণে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। গত ৯ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে ফারজানা নিখোঁজ হয়ে যায়।

ফারজানার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, দেবর শাহপরানের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি ফারজানাকে গুম করেছেন। ফারজানার মা সাবিনা ইয়াসমিন তার অভিযোগে বলেন, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দেবর শাহপরান ফারজানাকে গুম করে নানা কল্পকাহিনি রটাচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৯ জুন থেকে ফারজানা নিখোঁজ হলেও তার স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি। অন্যদিকে, ফারজানার মা, ফুপু ও বাবার দাবি, তারা ফারজানাকে খুঁজে পেতে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।

নাঙ্গলকোট থানার এসআই ও ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তার আশরাফ জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছর ব্যবধানে পেঁয়াজ-রসুনে স্বস্তি, কাঁচামরিচ-ডাল-তেলে বাড়তি চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ এম


বছর ব্যবধানে পেঁয়াজ-রসুনে স্বস্তি, কাঁচামরিচ-ডাল-তেলে বাড়তি চাপ

নিত্যপণ্যের দামের সামান্য পরিবর্তনও একটি পরিবারের মাসিক বাজেটে সরাসরি প্রভাব ফেলে। কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে চাল, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। তবে অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ডাল, কাঁচামরিচ, ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম বেড়েছে।

চাল, ডাল, তেল, সবজি সহ সকল প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সঙ্গে জড়িত। এসব পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তন সাধারণত কখনো স্বস্তির সৃষ্টি করে, আবার কখনো বাড়তি চাপ তৈরি করে পরিবারের মাসিক খরচে।

কৃষি বিপণন অধিদফতর জানাচ্ছে, জুন মাস শেষে গত এক বছরে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে গেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। ডালের বাজারে, মসুর ডালের দাম কেজিতে ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। আবার খেসারির ডালের দাম প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ কমেছে।

মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং রসুনের দাম ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে। তবে শুকনা মরিচের দাম বেড়ে গেছে ৪৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পাম তেলের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। ব্র্যান্ড অনুসারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এবং খোলা সরিষার তেলের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ।

মাংসের বাজারেও দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, দেশি মুরগির দাম ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, গরুর মাংসের দাম ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছাগলের মাংসের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তবে স্বস্তির খবর হলো, এক বছরের ব্যবধানে ডিমের দাম ২ শতাংশের উপরে কমে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে স্বর্ণ ও রূপার দাম বেড়ে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ এম


দেশে স্বর্ণ ও রূপার দাম বেড়ে কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে আজ

দেশের বাজারে সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বর্ণ ও রূপার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) মূল্যবান এই ধাতু দুটি বিক্রি হচ্ছে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে।

গত ২ জুলাই সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে। সেদিন ভরিতে এই দুই ধাতুর দাম যথাক্রমে ২ হাজার ২১৬ টাকা ও ২৯১ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না, কারণ স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।

এর আগে, সবশেষ গত ৩০ জুন সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা সকালের ১০টা থেকেই কার্যকর ছিল।

এবার চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ৪২ দফা বাড়ানো হয়েছে, ৪২ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাটের সমন্বয় করা হয়েছে। পূর্বে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৯৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫২ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ২৬ দফায় দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল মোট ১৩ বার, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার দাম কমেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%