০২:৫৬ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপ জল, আগরবাতি ও একটি হুমকিমূলক চিরকুট পার্সেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘ফাতান হোমিও চিকিৎসালয়’-এর ঠিকানায় এস.এ পরিবহনের মাধ্যমে একটি পার্সেল পাঠানো হয়। উল্লেখ্য যে, এই প্রতিষ্ঠানটি নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুকের স্ত্রীর মালিকানাধীন। পার্সেলের প্রেরক হিসেবে ‘হরিদাস, আশুগঞ্জ’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, প্রাপক হিসেবে মো. ফারুকের নাম ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।
দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই দিন বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তার ছেলে মুন্তাসির মাহমুদ ঈশান পার্সেলটি গ্রহণ করেন। পরে বাসায় গিয়ে পার্সেল খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে ছিল এক গজ সাদা কাফনের কাপড়, একটি গোলাপ জল, একটি আগরবাতি এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট।
আরও পড়ুন: জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত বরিশালের তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান, এক দশকের কাজের স্বীকৃতি
চিরকুটে লেখা ছিল, “আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে ভৈরব ছেড়ে দিন। না হলে আপনার পরিণতি ভয়ংকর হবে।” এই ঘটনার পর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, “আমি চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভৈরব পৌরসভায় সততা, নিষ্ঠা ও সরকারি নিয়মকানুন মেনে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা বিধিবহির্ভূত আবদারকে কখনো প্রশ্রয় দিইনি। সরকারের বিধি রক্ষায় সবসময় কঠোর অবস্থান নিয়েছি। ধারণা করছি, আমার এই আপসহীন অবস্থানের কারণেই কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপরাধী চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি মানুষকে কাফনের কাপড় ও মৃত্যুর হুমকি পাঠানোর মতো ঘটনা শুধু আমাকে নয়, আমার পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করেছে।”
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, “পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলের প্রেরক এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এদিকে, সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তাকে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন