০৭:৪৮ পি.এম
বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটা বিষয় আপনি সবসময় ধরে রাখার চেষ্টা করবেন। সেটি হচ্ছে রুলস অফ ল অ্যান্ড জাস্টিস, ইনসাফ। যদি আমরা এই দুইটি জিনিস ধরে রাখতে পারি, তাহলে সমাজকে অনেকখানি এগিয়ে দিতে পারব।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে বিগত সময়গুলোতে আমরা এই জায়গাগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছি এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এসব বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর গুরুত্ব
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি গোটা ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নয়নের জায়গায় নিয়ে যেতে। এখানে একটি ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্রুভাল হয়ে গেছে, ভিসি নিয়োগ হয়ে গেছে এবং ইউনিভার্সিটি তৈরি করার জন্য জমি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তার বরাদ্দের জন্য আমরা কাজ করছি। আমাদের মেডিকেল কলেজ হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ছাত্রছাত্রী ভর্তি শুরু হবে। পুরাতন হাসপাতালে ক্লাস শুরু হবে। জায়গা প্রায় নির্ধারণ হয়ে গেছে এবং বহুতল ভবন নির্মাণ হলে সেখানে আমরা কাজ করব।
ঠাকুরগাঁও শহরের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, শহরে একটি ডাইভার্স রোড বা রিং রোডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁও শহরে মাস্টারপ্ল্যান করতে চাই। এখানে আনপ্ল্যান্ড (অপরিকল্পিত) বৃদ্ধি হয়ে গেছে। আমরা পরিকল্পিতভাবে এই শহরটাকে নির্মাণের জন্য কাজ করছি।
দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এত সহজ নয়। এখানে ২০ কোটি মানুষ, আমরা মাত্র ৫৪ হাজার বর্গমাইল এলাকার মধ্যে বাস করি। এখানে দারিদ্র্য খুব বড় সমস্যা। ঠাকুরগাঁও জেলা অত্যন্ত গরিব অঞ্চল, এখানে সেভাবে কলকারখানা নেই। একটি ছিল সেই সুগার মিল, সেটাও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে তেমন কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই যেখানে হাজার হাজার লোক কাজ করবে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এখানে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায়। জনগণের আয়ের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমরা কৃষিভিত্তিক শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলতে চাই, তাহলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।
আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
সামাজিক সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের চেষ্টায় এমন সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেন মাদকমুক্ত সমাজ গড়া যায়। এটা আমাদের সারা বাংলাদেশের জন্য এবং ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমাদের ছেলেরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, সম্ভাবনাময় সব ছেলেরা নষ্ট হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি দীর্ঘ লড়াই হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে। আমরা একটি ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার। যদি গণতন্ত্র সঠিকভাবে চলে, তাহলে বাকি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। যদি আমরা প্রভাবমুক্ত একটি জুডিশিয়াল তৈরি করতে পারি, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা উপকৃত হবে। যদি প্রশাসনকে দক্ষ প্রশাসন গড়তে পারি, তাহলে রাষ্ট্র উপকৃত হবে। সেই সঙ্গে পার্লামেন্টের কমিটি গুলোকে কার্যকরী করতে পারলে গণতন্ত্র অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সমস্যা আছে অনেক। সমস্যা থাকবে, বিরোধিতা থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, আন্দোলন হবে। তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি শক্তিশালী করতে পারি, তাহলেই আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে পারব।
তিনি প্রতিবেশী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, পাশাপাশি দেশ ভারতে অনেক প্রবলেম রয়েছে, সমস্যার শেষ নেই। তারপরও তাদের গণতন্ত্র টিকে যায়। কেন টিকে যায়? তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে গেছে। বিচার বিভাগ এসেছে সম্পূর্ণ স্বাধীন। প্রশাসন যথেষ্ট দক্ষ এবং মিডিয়া অনেক শক্তিশালী।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র মেজর নিদালের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন