ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিষাক্ত ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকে দূষিত সিলেটের এক নদী


বিষাক্ত ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকে দূষিত সিলেটের এক নদী

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কুশিয়ারা নদীর তলদেশ বর্তমানে বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই নদীর পলিমাটির ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবেশবিদরা এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে এর প্রভাবে স্থানীয় পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের একটি গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এসবের জন্য কুশিয়ারা নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসমস্ত স্থানের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পলি মাটিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গড় হিসেবে এই সংখ্যা ২ হাজার ৮০০টি।

গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনাগুলির মধ্যে নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে সঙ্গে নদীর তলদেশে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া উচ্চমাত্রায় ধরা পড়েছে। ফলস্বরূপ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এসব মাইক্রোপ্লাস্টিককে খাবার হিসেবে গ্রহণ করছে। এর ফলে বিষাক্ত ভারী ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রচুর বর্জ্য পড়ছে কুশিয়ারা নদীতে। বিভিন্ন খাল-নালা থেকেও নদীতে মিশছে বর্জ্য। ফলে দিন দিন বিষাক্ত ধাতুতে ভারী হয়ে উঠছে নদীর তলদেশ। পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, এই নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ‘ক্লাস ভি’ পর্যায়ের। ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য এবং সরাসরি নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ বলেন, ‘দিন দিন নদীর মাছ কমছে। পানি ভালো না। জাল নিয়ে নদীতে আসলে মাছ পেতাম। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বেঁচে থাকাই কষ্ট।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, কুশিয়ারা নদীতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বাধাহীনভাবে পড়ছে। তিনি পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর দূষণমুক্ত ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। না হলে আমাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, কুশিয়ারা নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পাওয়ার কারণে ক্ষয়সাধন ও পরিবহন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে গভীরতাও কমেছে। নদীর আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশী দরকার নদী তীরবর্তী মানুষের সচেতনতা। তিনি বলেন, এখন থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু, এক মাস পর দেশে ফিরল অনিকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ পি.এম


রাশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু, এক মাস পর দেশে ফিরল অনিকের মরদেহ

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী, খালেকুজ্জামান অনিক (২৮), বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে তার মরদেহ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের স্যাওড়াতলা এলাকায় তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

অনিক কৃষক মানোয়ার হোসেনের ছেলে ছিলেন, এবং তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন, অনিক নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে মারা যান। তবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে এটি হত্যা ছিল কিনা, নাকি দুর্ঘটনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনিকের মৃত্যুর সংবাদ দেশে এসে পৌঁছানোর পর পরিবারের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার এক মাস পর, আজ অনিকের মরদেহ গ্রামবাসীর বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা শোকাহত হয়ে পড়েন। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে, দুপুরের পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত অনিকের চাচা আলী হোসেন বলেন, অনিক ছোট থেকে মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে দুই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, যা তার পরিবার এবং এলাকার মানুষের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। চলতি বছরের ২১ জুন খবর আসে যে, বিশ্ববিদ্যলয়ের পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু, সে কীভাবে পড়েছিল, সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫৯ পি.এম


পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা কোনো রাজনৈতিক পর্যায় থেকে পুলিশের নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে রাজশাহীর বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করার ফলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে।

তিনি জানান, পুলিশ বাহিনীতে পেশাদারিত্ব ও সততার মূল্যায়নে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যারা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পদক, সনদ ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং প্রতিটি জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সাইবার ল্যাব স্থাপন করা হবে। ডার্ক ওয়েব ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে আরও দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কেস ডকেট পুলিশের কাছেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকার পরিবর্তনের পরও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সুরক্ষিত থাকে এবং বিচার কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ দমনে আইনের সংজ্ঞা ও বয়সসীমা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো অপরাধগুলো কঠোরভাবে দমন করে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারী পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে গাইনোকোলজি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আবাসন সংকট নিরসনে ১০০টির বেশি মডেল থানা নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে) নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব নিয়োগ সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে ৮ ঘণ্টার শিফটভিত্তিক ডিউটি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেন ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র ৩ সদস্য আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র ৩ সদস্য আটক

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কম্পানি’র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬।

র‌্যাবের এই অভিযান চলাকালীন তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-৬-এর সিপিসি স্পেশাল কম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের মো. ইলিয়াস সরদার (৪২), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার মো. সুজন (৩৮) এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার আমুয়া বেপারিপাড়া এলাকার মো. নান্না বেপারি (৫৭) রয়েছেন।

র‌্যাবের মিডিয়া সেল জানায়, অভিযানের সময় নান্না বেপারির বসতঘরে একটি তল্লাশি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ইলিয়াস সরদার ও সুজনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। পরে এসব আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) ছাড়াও পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও র‌্যাব-৬ আরো জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মামলা শেষে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টসকর্মী শাহিনা হত্যায় প্রেমিক শরিফুলের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


গার্মেন্টসকর্মী শাহিনা হত্যায় প্রেমিক শরিফুলের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে পোশাক কারখানার কর্মী শাহিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালত সঙ্গে শাহিফুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিচারক মুনির হোসেন ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব রায় ও দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার আগে আসামী শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শাহিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলামের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে গড়ে ওঠে। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের কারণে তারা একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। তবে শরিফুল ইতিমধ্যে বিবাহিত এবং তার দুই সন্তানও ছিল।

এক পর্যায়ে শাহিনা বিয়ের জন্য শরিফুলকে চাপ দিতে শুরু করেন, কিন্তু শরিফুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে গম্ভীর বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন, ওড়না দিয়ে। পরে মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনার তিন দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে, যা বস্তাবন্দী ছিল।

২০২০ সালের ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় নিহত শাহিনার ভাই মো. রাহিন হত্যা মামলা করেন। মামলা করার পাঁচ মাস পর পুলিশ শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে এবং গ্রেপ্তারের পর সুস্পষ্টভাবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলাটি তদন্ত শেষ হওয়ার পর ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফজল আলী। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলা পরিচালনা করার সময় মোট ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তীতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%