০৮:৪৪ পি.এম
নেত্রকোনায় যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী পারভীন আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার কারণে শফিকুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে। একই মামলায় অপর দুই আসামি, শফিকুলের বাবা এবং মা, বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস করা হয়েছে। পিপি অ্যাডভোকেট মো. নূরুল কবীর রুবেল বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ.কে.এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ডান্ডপ্রাপ্ত শফিকুল ইসলাম কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের তোরাব আলী ও সখিনা খাতুনের ছেলে। শফিকুলকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন আদালত। মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী জানান, গেল প্রায় ১০ বছর পূর্বে শফিকুলের বিয়ে হয় পারভীনের সঙ্গে। তাদের সংসারে ৯ ও ৫ বছরের দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তবে গত ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল শফিকুল পারভীনকে যৌতুকের টাকা না পেয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করেন। তিনি বলেন, বিয়ের সময় থেকেই শফিকুল পারভীনের কাছ থেকে এক লাখ টাকার দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতনের কারণে ২৫ মার্চ পারভীন বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে স্থানীয় মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ-বৈঠকে পারভীনের স্বামী শফিকুল অঙ্গীকার করেন যে ভবিষ্যতে আর নির্যাতন করবেন না। এরপর পারভীনকে আবারও স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করেন। প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানালে পারভীনের ভাই ও স্বজনরা পুলিশ নিয়ে এসে বারান্দায় লাশ পড়তে দেখতে পান। তারা নিশ্চিত হন যে পারভীনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন সকালে কলমাকান্দা থানায় পারভীনের ছোট ভাই মো. আবু ইউসুফ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন এবং আসামিপক্ষের দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই আসামিকে আটক করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি দোষ স্বীকার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন