প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক আলোচনা এবং ইসরাইলের অধিকৃত গাজার অবস্থান নিয়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈমের সাথে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাসনিম নিউজের খবর অনুযায়ী, হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, বাসেম নাঈম যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনকালে ইরানের অটল অবস্থানের প্রতি গভীর প্রশংসাও করেছেন।
আরাঘচি এদিকে উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, ইরানের আলোচক দল গাজায় ইসরাইলের চলমান আগ্রাসন এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে।
এদিকে, বুধবার দক্ষিণ গাজার একটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। গাজার খান ইউনিস শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। গত মঙ্গলবারও গাজায় ইসরাইল হামলা চালায়, তাতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার একটি চিকিৎসা সূত্র জানায় যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বির আইয়াদে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালালে একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হন। সূত্রটি আরো জানায়, খান ইউনিসের পশ্চিমে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আহত হন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১০২৭ জন নিহত এবং ৩২৮০ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, এর পুনর্গঠন খরচ প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে, জাতিসংঘ মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, গাজার বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৭ লাখ ফিলিস্তিনি, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ, বর্তমানে প্রায় ১,৬০০টি আশ্রয়স্থলে অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় এবং মৌলিক সেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন