শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
ঢাকা, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে।
সরকার ঘোষিত ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের এই অভিযানটি নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অপারেশনের মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানের সময় ২১২টি অপারেশন পরিচালনা করা হয়, যার ফলে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার ও ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল, ৪টি বোট, ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয় এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রীর মোট ভিত্তিমূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা।
‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে নৌবাহিনী দেশের ৯টি জেলায় প্রতিনিয়ত ৭টি জাহাজ ও কন্টিনজেন্টের মাধ্যমে টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মৎস্যযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে জাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও, নৌবাহিনীর বোট ও কন্টিনজেন্টসমূহ সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন স্থানসমূহ সংরক্ষণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করে।
স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অবৈধ ইলিশ আহরণ প্রতিরোধে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত জাটকা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় দান করা হয়।
এছাড়াও, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত বোটসমূহের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, সরকারের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই ধরনের অভিযান মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মৎস্য আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার পথও সুগম হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হংকং সিক্সেস টুর্নামেন্টে জয়ী হতে আবারও শেষ মুহূর্তে লড়াই করেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচে ৯৪ রান করে লড়াই জমিয়ে তুলেছিল সাব্বির ও সোহান। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে ১২৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। লঙ্কান ব্যাটার ভিশেন হালাম্বেজের অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পায় দ্বীপরাষ্ট্রের দলটি।
এটি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সফল রান তাড়ার রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করল।
টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়া শ্রীলঙ্কার বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির রহমান। এই দুই তারকার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মাত্র ৯৫ রানের একটি দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি গড়ে দল। সাব্বির রহমান ১২ বলে ১টি চার ও ৫টি ছক্কা মারতে সক্ষম হয়ে ৩৯ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান।
তবে হাবিবুর রহমান সোহান ছিলেন আরও বেশি বিধ্বংসী। মাত্র ১৪ বলে ২টি চার ও ৭টি ছক্কা মারার পর নিয়ম অনুযায়ী মাঠ ছাড়েন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ববর্তী ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রিটায়ার্ড আউট হওয়া সোহানকে পরে আবারও মাঠে নামায় টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন সোহান। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ৩ বলে ১৪ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ৬ ওভারে ৪ উইকেটে ১২৭ রানের বিশাল পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান লঙ্কান ব্যাটাররা। ফিফটি পূর্ণ করে একবার মাঠ ছেড়ে গেলেও দলের পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ায় শেষদিকে আবারও ক্রিজে ফেরেন ভিশেন হালাম্বেজ। মাত্র ১৭ বলে ১১টি ছক্কা ও ৩টি চারের সাহায্যে ৮০ রানের বিধ্বংসী ও অপরাজিত ইনিংস খেলে ৪ বল হাতে রেখেই দলকে রোমাঞ্চকর জয় উপহার দেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ ‘বি’-এর পয়েন্ট তালিকার তলানিতে (তৃতীয় স্থানে) অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিযান এখানেই শেষ হচ্ছে না।
গ্রুপপর্বের বাধা পার হতে না পারলেও এবার ‘বোল পর্বে’ খেলার সুযোগ পাচ্ছে দল। এই পর্বে গ্রুপ ‘ডি’-এর তৃতীয় স্থানে থাকা দলের মুখোমুখি হবে তারা। যেখানে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা আফগানিস্তানের মতো দলগুলো। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা মূল সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে লড়বে, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা খেলবে প্লেট পর্বে এবং তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলো অংশ নেবে বোল পর্বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার পাইকাড়া গ্রামের বড় বাড়ি নামক চৌধুরী বাড়িতে সামান্য জমির জটিলতায় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি চরমে। যে বাড়িটা নলতা পাক রওজা শরীফের প্রয়াত খাদেম আনসার উদ্দিন আহমেদের বাড়ি নামে পরিচিত। অথচ ওয়ারেশ সূত্রে পৌনে ২ শতক জমির দ্বন্দ্ব নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে মামলা-মকদ্দমা, অশান্তি, বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। আর এই অভিযোগগুলো উঠেছে ওই পরিবারের ভাবি আনজুমান আরার বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে সরকারি কর্মকর্তাদের তদন্ত রিপোর্টে।
অভিযোগপত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, মৃত এজাহার হোসেন এর ১মপুত্র ইলিয়াস হোসেন এর স্ত্রী আনজুমান আরা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৬৩/২৬ নং মোকাদ্দামায় ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটি করেন মৃত এজাহার হোসেনের অপর পুত্র এমদাদ, ইমরান ও চৌধুরী আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। মামলার অভিযোগ মূলত বাড়ির সামনে ১.৫০ বা প্রায় পৌনে ২ শতক জমির দখল নিয়ে।
আদালত তদন্তের নির্দেশ দিলে ১১ জুন২০২৬ ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ সরেজমিনে তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুল জলিল এবং অমলকান্তি ঘোষ সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তের সময় এলাকার গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮২ নম্বর পাইকারা মৌজার বিআরএস ৩৬১ ও খতিয়ান ২৫৭৩-৭৪ দাগ সহ অন্যান্য ৭টি দাগ মিলে বাদী আনজুমান আরা পাবেন পৌনে ২ শতক। কিন্তু সে দখল দেখাতে চায় বাড়ির পূর্ব পাশের অভিযুক্ত জায়গাটি। তবে তদন্ত রিপোর্টে আঞ্জুমান আরার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।
এদিকে আঞ্জুমান আরা দাবি করেন, অভিযুক্ত জায়গাটিতে তার একটি কাঠের ঘর ছিল। এবং বিবাদী পক্ষের দুইটি ঘর ছিল।
তবে সাক্ষীগন ও সরজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে অভিযুক্ত জায়গাটিতে কোন পক্ষের কোন ঘরই নেই। উপস্থিত খড় বিক্রেতা আনারুলসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে জানা যায়, বিবাদী পক্ষের কাঠের ও খড়ের ঘর সেখানে ছিল। বর্তমান সেগুলো ভেঙে ইট ও টিনের ঘর বানানোর প্রস্তুতি চলছে বিবাদীদের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস কর্মকর্তা আব্দুল জলিলের সারেজমিনে তদন্তের দিন বাদিপক্ষ আনজুমান আরাসহ তার লোকজন ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তা বাদীপক্ষকে বারবার ফোন দিলেও তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি।
স্থানীয়দের অভিমত- যেহেতু আঞ্জুমান আরা দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া অর্থাৎ এখানে বসবাস করেন না সেহেতু তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দ্বন্দ্ব সংঘাতের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে বড় বাড়ির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ যে, মামলার বাদী আঞ্জুমান আরার স্বামী ইলিয়াস হোসেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২০০১ সালে। তারপর থেকে আঞ্জুমান আরা ওই বাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসে অর্থাৎ নলতায় বসবাস করে এবং নলতা কেজি স্কুলে চাকরি শুরু করে। চাকরির সুবাদে সোনাটিকারি গ্রামের আমির আলীর সাথে পরিচয় হয় আঞ্জুমান আরার। এবং তাদের মধ্যে পুনরায় বিয়ে হয় ২০১০ সালে। বিয়ের পর আমির আলীর গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি হয় এবং চাকরির সুবাদে সে নলতার বাইরে চলে যায়। এদিকে আনজুমান আরার একমাত্র শিশুসন্তান ইশতিয়াক আহসানকে লালন পালন করে চাচা আমজাদ চৌধুরী ও তার পরিবার। আমির আলীর সাথে আনজুমান আরার বিয়ের পর গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরির সুবাদে খুলনায় বসবাস করে তারা। কিন্তু সেখান থেকে আঞ্জুমান আরা চলে আসে পাইকগাছায় আত্মীয়ের বাড়িতে। পাইকগাছায় কোর্টের মাধ্যমে আমির আলীকে ডিভোর্স দেয় আঞ্জুমানারা। এভাবে প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর আঞ্জুমান আরার বাকি জীবন কেটে যায় বাড়ি বা এলাকার বাইরে বাইরে।
যে কারণে অভিযুক্ত জায়গাটিতে আঞ্জুমান আরার যে একটি কাঠের ঘর ছিল এটি উপস্থিত সাক্ষীগন স্পষ্ট বলতে পারেননি। একই সাথে আমজাদ হোসেন সহ বিবাদীগণ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত স্থানটিতে আঞ্জুমান আরার কখনোই কোন কাঠের ঘর বা কোন ঘর ছিল না। সে চক্রান্ত করে আমাদেরকে হয়রানি করছে এবং এই বাড়ির সম্মান মর্যাদা নষ্ট করে বেড়াচ্ছে।
এজন্য স্থানীয় ও সচেতন মহল মনে করেন সরজমিন ও তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দ্রুত বিবাদকৃত বা অভিযুক্ত জায়গাটির সুষ্ঠু বিচার বা সুরহা করে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটির মর্যাদা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি রেলস্টেশনে যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এ খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দমিছিল করেছেন বিএনপির নেতাকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে হিলি রেলস্টেশন থেকে আনন্দমিছিলটি বের করা হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
আনন্দমিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া হিলি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আনন্দমিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, যোগ্য মানুষকে ভোট দিলে যে এলাকার উন্নয়ন হয়, হিলির ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন তারই প্রমাণ। বিগত দিনে হিলি অনেক অবহেলিত ছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সময় আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, তাঁকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করলে এলাকার মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমানে হিলির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের উন্নয়নে বিশ্বাসী। দিনাজপুর-৬ আসনের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে। মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তিনি কাজ করবেন। ইতিমধ্যে চার উপজেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হিলিবাসী যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত ছিলেন। হিলি স্থলবন্দর থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও সে অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দুটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদন তাদের দীর্ঘদিনের দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি কার্যকর হলে হিলি ও আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে গত ২৮ অক্টোবর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে হিলি রেলস্টেশনে দুটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৭৬৫ নম্বর আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং ৮০৫ নম্বর আন্তনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন হিলি রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির অনুমতি পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের চাহিদা ও রেলওয়ের রাজস্ব আয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির অনুমোদনের পাশাপাশি হিলির ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এখন দ্রুত ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন হিলি ও আশপাশের এলাকার যাত্রীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা এবং সহকারী অর্থমন্ত্রী মিমুরা আতসুসির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
এই বৈঠকটি শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাপানের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজমান ছিল। বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করার পাশাপাশি বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘকালীন ঐতিহ্যগত এবং দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা বৈঠকে স্মরণ করা হয়। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এবং সহযোগিতা গভীর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তারা মনে করেন যে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
আলোচনায় বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য প্রসার এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) বাইরে বিকল্প অর্থায়ন (Alternative Financing) ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে এবং নতুন নতুন খাতে একসঙ্গে কাজ করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী জাপানি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান যে, রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এবং উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। বর্তমানে জাপানের অর্থায়নে ৮০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট, যমুনা রেলসেতু এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ