প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার পাইকাড়া গ্রামের বড় বাড়ি নামক চৌধুরী বাড়িতে সামান্য জমির জটিলতায় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি চরমে। যে বাড়িটা নলতা পাক রওজা শরীফের প্রয়াত খাদেম আনসার উদ্দিন আহমেদের বাড়ি নামে পরিচিত। অথচ ওয়ারেশ সূত্রে পৌনে ২ শতক জমির দ্বন্দ্ব নিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে মামলা-মকদ্দমা, অশান্তি, বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। আর এই অভিযোগগুলো উঠেছে ওই পরিবারের ভাবি আনজুমান আরার বিরুদ্ধে। তবে সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বের কিছুটা স্বস্তি মিলেছে সরকারি কর্মকর্তাদের তদন্ত রিপোর্টে।
অভিযোগপত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, মৃত এজাহার হোসেন এর ১মপুত্র ইলিয়াস হোসেন এর স্ত্রী আনজুমান আরা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৬৩/২৬ নং মোকাদ্দামায় ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটি করেন মৃত এজাহার হোসেনের অপর পুত্র এমদাদ, ইমরান ও চৌধুরী আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। মামলার অভিযোগ মূলত বাড়ির সামনে ১.৫০ বা প্রায় পৌনে ২ শতক জমির দখল নিয়ে।
আদালত তদন্তের নির্দেশ দিলে ১১ জুন২০২৬ ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ সরেজমিনে তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ২৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুল জলিল এবং অমলকান্তি ঘোষ সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তের সময় এলাকার গণ্যমান্য অনেক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮২ নম্বর পাইকারা মৌজার বিআরএস ৩৬১ ও খতিয়ান ২৫৭৩-৭৪ দাগ সহ অন্যান্য ৭টি দাগ মিলে বাদী আনজুমান আরা পাবেন পৌনে ২ শতক। কিন্তু সে দখল দেখাতে চায় বাড়ির পূর্ব পাশের অভিযুক্ত জায়গাটি। তবে তদন্ত রিপোর্টে আঞ্জুমান আরার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।
এদিকে আঞ্জুমান আরা দাবি করেন, অভিযুক্ত জায়গাটিতে তার একটি কাঠের ঘর ছিল। এবং বিবাদী পক্ষের দুইটি ঘর ছিল।
তবে সাক্ষীগন ও সরজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে অভিযুক্ত জায়গাটিতে কোন পক্ষের কোন ঘরই নেই। উপস্থিত খড় বিক্রেতা আনারুলসহ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে জানা যায়, বিবাদী পক্ষের কাঠের ও খড়ের ঘর সেখানে ছিল। বর্তমান সেগুলো ভেঙে ইট ও টিনের ঘর বানানোর প্রস্তুতি চলছে বিবাদীদের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস কর্মকর্তা আব্দুল জলিলের সারেজমিনে তদন্তের দিন বাদিপক্ষ আনজুমান আরাসহ তার লোকজন ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তা বাদীপক্ষকে বারবার ফোন দিলেও তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি।
স্থানীয়দের অভিমত- যেহেতু আঞ্জুমান আরা দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া অর্থাৎ এখানে বসবাস করেন না সেহেতু তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দ্বন্দ্ব সংঘাতের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করে বড় বাড়ির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ যে, মামলার বাদী আঞ্জুমান আরার স্বামী ইলিয়াস হোসেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২০০১ সালে। তারপর থেকে আঞ্জুমান আরা ওই বাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসে অর্থাৎ নলতায় বসবাস করে এবং নলতা কেজি স্কুলে চাকরি শুরু করে। চাকরির সুবাদে সোনাটিকারি গ্রামের আমির আলীর সাথে পরিচয় হয় আঞ্জুমান আরার। এবং তাদের মধ্যে পুনরায় বিয়ে হয় ২০১০ সালে। বিয়ের পর আমির আলীর গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরি হয় এবং চাকরির সুবাদে সে নলতার বাইরে চলে যায়। এদিকে আনজুমান আরার একমাত্র শিশুসন্তান ইশতিয়াক আহসানকে লালন পালন করে চাচা আমজাদ চৌধুরী ও তার পরিবার। আমির আলীর সাথে আনজুমান আরার বিয়ের পর গ্রামীণ ব্যাংকে চাকরির সুবাদে খুলনায় বসবাস করে তারা। কিন্তু সেখান থেকে আঞ্জুমান আরা চলে আসে পাইকগাছায় আত্মীয়ের বাড়িতে। পাইকগাছায় কোর্টের মাধ্যমে আমির আলীকে ডিভোর্স দেয় আঞ্জুমানারা। এভাবে প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর আঞ্জুমান আরার বাকি জীবন কেটে যায় বাড়ি বা এলাকার বাইরে বাইরে।
যে কারণে অভিযুক্ত জায়গাটিতে আঞ্জুমান আরার যে একটি কাঠের ঘর ছিল এটি উপস্থিত সাক্ষীগন স্পষ্ট বলতে পারেননি। একই সাথে আমজাদ হোসেন সহ বিবাদীগণ অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত স্থানটিতে আঞ্জুমান আরার কখনোই কোন কাঠের ঘর বা কোন ঘর ছিল না। সে চক্রান্ত করে আমাদেরকে হয়রানি করছে এবং এই বাড়ির সম্মান মর্যাদা নষ্ট করে বেড়াচ্ছে।
এজন্য স্থানীয় ও সচেতন মহল মনে করেন সরজমিন ও তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী দ্রুত বিবাদকৃত বা অভিযুক্ত জায়গাটির সুষ্ঠু বিচার বা সুরহা করে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটির মর্যাদা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন