০২:২৯ পি.এম
‘আসলেন দেখলেন জয় করলেন’— বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির কাহিনী এমন হলেও, আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয় জয় করা এই সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকার জন্য সহজ ছিল না। এক সময় তো তিনি দেশের সমর্থকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথাও বলেছিলেন এলএম-টেন। তবে যখন ভাগ্য বিধাতা শেষের গল্পটি রূপকথার মতো লেখেন, তখন মর্ত্যের মানুষের পক্ষে সেই গল্প বদলানো সম্ভব নয়।
মেসির বিদায়ি ম্যাচের আয়োজনই প্রমাণ করে যে, তিনি অবসর ভেঙে ফিরে এসে দেশের জন্য কত কিছু করেছেন। তিনি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালোসিমা এবং ফুটবলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের শিরোপা, বিশ্বকাপ।
এত কিছুর পরেও আর্জেন্টিনা ভক্তদের মনে হয়তো বাজছিল—‘এই পথ যদি না শেষ হয়…’। তবে সব পথেরই শেষ আছে। পাহাড় থেকে বয়ে চলা নদীও একসময় সাগরের বুকে মিলিত হয়। আর রোজারিওর মেসি আজ আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রেখে মহাকালের গল্পে মিশে যাবেন। সেই গল্পে রয়েছে উত্থান-পতন এবং ব্যর্থতার পর সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর কাহিনী।
আরও পড়ুন: হালান্ডের জোড়া গোলে সিটির ৩-২ জয়, মারেস্কার নতুন রেকর্ড
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে মেসি শেষবারের মতো মাঠে নামবেন। ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে লাখখানেক দর্শক উপস্থিত থাকবেন মেসির শেষ ম্যাচের সাক্ষী হতে। জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির বিদায়ি ম্যাচে এমন তিনটি স্টেডিয়ামের টিকিট সহজেই বিক্রি হয়ে যেত।
স্বপ্নের এই সমাপ্তির আগে, মেসির জন্মশহর রোজারিওর ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ মনুমেন্টে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেছেন রোজারিওবাসী। তারা বিশাল এক ১০ নাম্বার জার্সিতে সোনালি রঙে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ’।
মেসি আসলে আর্জেন্টিনাবাসীর জন্য যা করেছেন, তার জন্য আরও বড় করে ‘ধন্যবাদ’ লিখলেও তা কম হয়ে যায়। তবে দেশের ফুটবলের রাজাকে রাজকীয় বিদায় দেওয়ার বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দেশের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার আগে আবেগ ধরে রাখতে বেগ পাচ্ছেন মেসি, যিনি কঠিন মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক ডিফেন্ডারকে ধরাশায়ী করেছেন। আবেগ চেপে রাখতে না পেরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত, জানি এগুলো খুব মিস করব।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সফরের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কিমো পলের পরিবর্তে শামার স্প্রিঙ্গার
রেকর্ড ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারকেও যে ভক্তরা মিস করবেন, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। ইতিমধ্যে ভক্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বী সবার মনে বিষণ্ণতার কালো মেঘ জেঁকে বসেছে।
এ কারণে কেউ স্টেডিয়ামে, আবার কেউ টিভির পর্দায় অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে আগামীকাল ভোরে দেখতে বসবেন মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’। তাই স্বাভাবিক খেলার চেয়ে কাল আবেগই হয়তো বেশি ভেসে উঠবে মাঠে, যা ছড়িয়ে পড়বে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। সবাই তখন একসঙ্গে চিৎকার করে উঠবে—‘গ্রাসিয়াস মেসি’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন