ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নবজাতকের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করলেন শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা


নবজাতকের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করলেন শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে একটি নবজাতকের মাথার খুলির নিচের অংশ, মুখের তালু, উপরের চোয়াল ও ঠোঁটের বিরল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে। এই অস্ত্রোপচারটি হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান পরিচালনা করেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নবজাতকের নাম মো. সাইমন এবং তার বয়স ২৪ দিন। গত ১৪ অক্টোবর, ২০ দিন বয়সী শিশুটিকে তার মা-বাবা বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: ইউজিসির দুই বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা

শিশুটির মা-বাবা জানান, জন্মের পরপরই তারা শিশুটির মুখের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা হাতের মতো দেখতে একটি টিউমার দেখতে পান। এই টিউমারটি শিশুর তালু, ওপরের চোয়াল ও ঠোঁটের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

টিউমারটির কারণে শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। মুখের টিউমারের ফাঁকে সামান্য জায়গা দিয়ে চামচের সাহায্যে তাকে খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল। পাশাপাশি, টিউমারটি শিশুটির স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসেও বাধা সৃষ্টি করছিল।

এই সমস্যার সমাধানের জন্য শিশুটির পরিবার প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে যান। পরে শিশুটিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টিউমারটির বিরল প্রকৃতি, অস্ত্রোপচারের জটিলতা এবং শিশুটির অতি অল্প বয়স বিবেচনায় তাকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়।

নবজাতককে শিশু হাসপাতালে আনার পর, নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শিশুটির কম বয়স এবং টিউমারটি মুখের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে থাকায় অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান ডা. আখতার হোসেন লোবানের সঙ্গে পরামর্শ করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় মাথার খুলির নিচের অংশ থেকে উৎপন্ন হয়ে মুখের তালু ভেদ করে উপরের চোয়াল ও ঠোঁটের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাতসদৃশ টিউমারটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়। শিশুটির ঠোঁটের দুই পাশের বিভক্ত অংশও জোড়া লাগানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অনলাইনে ঋণ দেওয়ার নামে তথ্য চুরির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা

অধ্যাপক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং চিকিৎসা প্রক্রিয়া ছিল। আমাদের চিকিৎসক দল, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।’

শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টিউমারটি মুখের অধিকাংশ স্থান দখল করে থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে শ্বাসনালি ব্যবস্থাপনা করা কঠিন ছিল। অস্ত্রোপচার শেষে অ্যানেস্থেশিয়াজনিত কোনো জটিলতা ছাড়াই শিশুটিকে অজ্ঞান অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে শিশুটি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর অপসারিত টিউমারটি হিস্টোপ্যাথোলজি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর টিউমারের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের জলবায়ু প্যানেল বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ নির্ধারণে একমত হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


জাতিসংঘের জলবায়ু প্যানেল বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ নির্ধারণে একমত হয়নি

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনা শেষে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন ফরাসি সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি বেনোয়া ফারাকো।

ফারাকো উল্লেখ করেন, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ২০২৮ সালে আইপিসিসি’র পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে থাকলেও কিছু দেশ তা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি প্যারিস থেকে এই খবরটি জানায়।

ফারাকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে একটি পোস্টে বলেন, ‘এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনার পর পাঁচ মহাদেশের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি বিস্তৃত জোট বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত সময়সীমার পক্ষে ঐকমত্যে ছিল। প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর করতে চাওয়া কয়েকটি দেশের চাপ তারা মোকাবিলা করতে পেরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরণের অচলাবস্থা নতুন নয়। তবে এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আইপিসি জলবায়ুবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রধান কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃত। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা সামনে রেখে অনেক দেশ ২০২৮ সালে সংস্থাটির পরবর্তী বড় প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে ছিল।

তবে সৌদি আরব, ভারত ও চীনসহ কিছু দেশ বলেছে, যদি আইপিসিসি’র সপ্তম মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৯ সালে প্রকাশিত হয়, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর ফলাফল বুঝে নেওয়ার জন্য আরও সময় পাবে।

সোমবার আদ্দিস আবাবায় আইপিসিসি’র বৈঠক শুরু হলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া দেশগুলোকে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সাংগঠনিক ও সুনামের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

গত সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে ‘যাদের স্বার্থ গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’—তাদের সমালোচনা করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে আইপিসিসি’র দেওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ থেকে বিচ্ছিন্ন করলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়বে।’

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের ৩৫ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ইউরোপের দেশ ও অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। বিশ্বের ৪৪টি দরিদ্র দেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানও এতে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ছোট দ্বীপরাষ্ট্র ও অনেক উদীয়মান অর্থনীতির দেশের মন্ত্রীরাও চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ুবিষয়ক দূত টিনা স্টেগে বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ আইপিসিসি’র প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব ঘটিয়ে চলেছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। নিজ দেশে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় আমাদের যে বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রয়োজন, এসব প্রতিবেদনেই তা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ করতে এসেছিলাম। কিন্তু অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিকল্পনায় বিজ্ঞানের প্রাসঙ্গিকতা এবং পরবর্তী বৈশ্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় তথ্যপ্রমাণের প্রয়োজনীয়তা—প্রতিটি বিষয়ে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অগ্রগতি আটকে দেওয়া হয়েছে। সময় নষ্ট করার এই লজ্জাজনক কৌশল এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন নষ্ট করার মতো সময় আর নেই।’

ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্কের শ্রীশান ভেঙ্কটেশ এ ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য পক্ষগুলোর হাতে যথেষ্ট সময় ছিল।’

তিনি যত দ্রুত সম্ভব আইপিসিসি’র আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান।

ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব বৈঠক পুনরায় আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বিশ্ব প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। সংকট সৃষ্টিতে যাদের দায় সবচেয়ে কম, সেই জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়গুলোই বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

আইপিসিসির প্রতিবেদন সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর পর প্রকাশিত হয়। সংস্থাটির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২১ সালে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মা ইলিশ শিকার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


ভোলায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মা ইলিশ শিকার, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে নদীর অভয়াশ্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা চলতে থাকায় এবং প্রশাসনের 'ঢিলেঢালা' ভূমিকার কারণে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের দায়ে ভোলা জেলায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় অর্ধশতাধিক জেলেকে আটক করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ৩৫ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিছু জেলেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু নৌকা আটক করে নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।

এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। ভোলা সদর উপজেলায় ১৭ জন জেলেকে আটক করা হয়, যাঁদের পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয় এবং ৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়; এ সময় ৩টি নৌকা, ১০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। দৌলতখান উপজেলায় ৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলেকে মুচলেকা দিয়ে মুক্ত করার পাশাপাশি ১টি নৌকা, ১৫ কেজি ইলিশ ও ১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলায় ১০ জন জেলেকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাঁদের কাছ থেকে ২টি নৌকা, ৬ কেজি মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলায় আটক ৮ জনের মধ্যে ৬ জনকে কারাদণ্ড এবং ২ জনকে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে; এ সময় ১০ কেজি ইলিশ ও ২২ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করে পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাতটি উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। তবে এ বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের জন্য ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪ টন খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলাওয়ারী বরাদ্দের মধ্যে ভোলা সদরে ৫২৫ টন, দৌলতখানে ৫০০ টন, বোরহানউদ্দিনে ৪৩০ টন, তজুমদ্দিনে ৪৩২ দশমিক ৫ টন, লালমোহনে ৫২৫ টন, চরফ্যাশনে ৮৯১ দশমিক ৪ টন ও মনপুরা উপজেলায় ২৮৭ দশমিক ৫ টন চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলে ২৫ কেজি করে চাল পেলেও নিবন্ধিত থেকেও সরকারি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ২৩ হাজার ৬৫৬ জন জেলে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দকৃত চালের ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার নদী পরিবেষ্টিত এলাকায় মাছ শিকার করে প্রায় ৩ লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করলেও নিবন্ধনের খাতায় আছেন কেবল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১২ জন। উপজেলাভিত্তিক হিসেবে ভোলা সদরে ২২ হাজার ২৫২ জন, দৌলতখানে ২১ হাজার ৫০২ জন, বোরহানউদ্দিনে ১৯ হাজার ৩৫০ জন, তজুমদ্দিনে ১৮ হাজার ৭১৭ জন, মনপুরায় ১৬ হাজার ৪০০ জন, লালমোহনে ২৪ হাজার ৮০৬ জন এবং চরফ্যাশনে ৪৪ হাজার ২৮৫ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন।

স্থানীয় মাঝিরা জানান, সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা বন্ধের যে নির্দেশ দেয়, জেলেরা কষ্ট হলেও তা মেনে চলে। কিন্তু জেলেদের কষ্টের কথা কেউ ভাবেন না। অনেক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ৪-৫ বছর আগে জেলে কার্ড পেয়েও এখনো সরকারি চাল জোটেনি তাঁদের ভাগ্যে। প্রতি বছর চাল পাওয়ার আশায় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় তাঁদের। পরিষদ থেকে জানানো হয় সবার নামে বরাদ্দ আসেনি। ফলে বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে পরিবার চালাতে হয় জেলেদের।

পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের জংষন গ্রামের জেলে আবুল কালাম মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন কোনো আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার কীভাবে চলবে এবং ব্যাংক বা এনজিওর কিস্তি কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা। প্রতিটি জেলেই এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা কিনেছেন। এ কারণে ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময় এনজিও ও ব্যাংকের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বছর দ্রুত সময়ের মধ্যে চাল বিতরণের কাজ করা হচ্ছে। কোনো জেলে যেন ওজনে চাল কম না পান সে জন্য মৎস্য বিভাগের কঠোর নজরদারি রয়েছে। একই সঙ্গে ২২ দিনের জন্য এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। মৎস্য অভিযানে জনবল ও প্রয়োজনীয় সহায়তার কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইলিশের প্রজনন সফল করতে সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, যেন আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সীমান্তে আগ্রাসন সহ্য করবে না পাকিস্তান’: জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


‘সীমান্তে আগ্রাসন সহ্য করবে না পাকিস্তান’: জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা

পাকিস্তানের সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রদানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের (সিএনএসসি) প্রধান জেনারেল সৈয়দ আমির রাজা।

শনিবার কাকুলে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির (পিএমএ) পাসিং আউট অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পাকিস্তানের অবস্থান আপসহীন। পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে সংঘাতের কোনো সুযোগ নেই। তবে যদি কোনো পক্ষ ভুল হিসাব করে, তাহলে তার পরিণতি হবে কল্পনাতীত।

জেনারেল রাজা আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার যুদ্ধের ধরনকে পরিবর্তন করেছে। এই বাস্তবতায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বহুমাত্রিক রূপান্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অপারেশন সিন্দুরে ব্যর্থতার পর প্রতিপক্ষ প্রক্সি সন্ত্রাসবাদ, অপপ্রচার এবং প্রচলিত যুদ্ধের বাইরের কৌশলের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান শান্তি, সংলাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয় বলেও তিনি জানান। শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

সূত্র: জিও নিউজ

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুতিনকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন পোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুতিনকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন পোপ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও, যিনি ফুসফুসের ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই সময় তিনি ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার দখলে থাকা একটি শহরে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভ্যাটিকান সূত্রে জানা যায়, পোপ চতুর্দশ লিও খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরের গুরুতর মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভ্যাটিকানের আকস্মিক ঘোষণায় বোঝা যায়, ডান ফুসফুস থেকে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যেও পোপ তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার তার ওই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওলেশকি শহরের বাসিন্দারা ক্রমেই ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়ছেন।

রুশ ও ইউক্রেনীয় সেনাদের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে শহরটিতে খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক শুক্রবার শহরটির পরিস্থিতিকে ‘মরিয়া অবস্থার’ সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বেসামরিক নাগরিকদের শহরটি থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।

ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে পুতিন ও পোপের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ওলেশকির কঠিন মানবিক পরিস্থিতির জন্য ‘কিয়েভের শাসকগোষ্ঠীর দায়দায়িত্ব’ সম্পর্কে পুতিন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

ক্রেমলিন আরও জানায়, পুতিন পোপের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পাশাপাশি অভিন্ন আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রসারে রাশিয়া ও ভ্যাটিকানের সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%