১১:১৮ এম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্বাধীনতা চত্বরের নিকটে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বাস্কেটবল কোর্ট। এই কোর্টটি ১৯৬৮ সালে নির্মিত হয় এবং দীর্ঘ ৫৮ বছরের মধ্যে আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
দীর্ঘকাল ধরে জরাজীর্ণ থাকার পর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মাঠটি ৩ লাখ ১ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। কিন্তু সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কোর্টের বিভিন্ন স্থানের উপরিভাগের সিমেন্টের স্তর উঠে যেতে শুরু করে।
বর্তমানে উপরের স্তর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কোর্টটি কার্যত খেলার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বাস্কেটবল মাঠ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা এবং নিয়মিত অনুশীলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস বলেন, "সাদামাটা সংস্কারের পর আমরা কিছুটা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে ফ্লোর উঠে যাচ্ছে। এতে খেলার সময় পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বর্তমানে পুরো মাঠের আস্তরনের যে অবস্থা, সেখানে খেলার মতো পরিবেশ নেই। উল্টো সংস্কারের পূর্বেই মাঠটি খেলার উপযোগী ছিলো।"
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর রবিউল হোসেন জানান, "আমাদের এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সিকিউরিটি বিল বাদে বাকি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই কাজে আমাদের সঙ্গে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল, তা হতে দুই দিন পরে কাজ শুরু করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ চলাকালে বৃষ্টির কারণে চূড়ান্ত ফিনিশিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার চার-পাঁচ দিন পর রোদ উঠলে আমরা চূড়ান্ত ফিনিশিং দিই, কিন্তু ততদিনে নিচের ঢালাই শক্ত হয়ে যায়। আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাই যে এই ঢালাই টিকবে না। তখন তারা আমাদেরকে আরো কিছু সংস্কারের কথা বললে সেগুলো সম্পন্ন করে রং করার কাজ করেছি এবং তারা এই কাজ বুঝে নিয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেকুল আলম বলেন, "বৃষ্টির কারণে নিট সিমেন্ট ফিনিশিং (এনসিএফ) এর কাজটি সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটি টেকসই হয়নি। এই বাস্কেটবল কোর্টটি ১৯৬৮ সালের। সেই হিসাবে এর লাইফটাইমও পার হয়ে গেছে। এটিকে এখন এভাবে সংস্কার না করে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আমরা সম্প্রতি নতুন একটি বাস্কেটবল মাঠের নকশা করে ফেলেছি। সামনে অর্থবছরে বাজেট পেলেই আমরা এটির কাজ শুরু করব।"
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন