মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি
০৬:০৯ পি.এম
জামালপুর সদর উপজেলার পশ্চিম ফুলবাড়ীয়া এলাকায় এক বৃদ্ধের বসতভিটা ও জমি দখলের চেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. কায়েম উদ্দিন (৭২) জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদী মো. ছাদেক আলী (৫৮), মো. আপেল আহমুদ (৩৫), মো. আব্দুল জলিল (৪৫), মোছা. সুলতানা বেগম (৪০), মো. মারুফ (২৫), মো. মেহেদী (২২), মো. নাঈম (২৭), মো. পারভেজ (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমিটি অর্জন করেন। পরে তিনি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করে নিজ নামে খারিজ সম্পন্ন করেন এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে বসতবাড়ি নির্মাণসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন। এ জমি নিয়ে পূর্বেও একাধিক মামলা হয়েছে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, সেসব মামলায় বিবাদীরা পরাজিত হন। এছাড়া একটি দেওয়ানি মামলায় আদালত কিছু বিবাদীর বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে মো. ছাদেক আলী, মো. আপেল আহমুদ ও মো. আব্দুল জলিল ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন ২০২৬ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে তারা ভুক্তভোগীকে মারধরের চেষ্টা করেন, ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যান। তবে যাওয়ার আগে দাবি করা চাঁদা না দিলে আরও লোকজন নিয়ে এসে জমি দখল এবং বাধা দিলে হত্যা-জখমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তদের কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং যে কোনো সময় তারা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. কায়েম উদ্দিন অভিযোগের তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুলিশের তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাতারের রাজধানী দোহায় এক ফিলিস্তিনি নারীর ব্যাগ চুরি করার পর, সেটি আবার সসম্মানে ফেরত দিয়ে গেছে এক চোর! ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে একটি ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি রেখে গেছে সে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ওই ফিলিস্তিনি নারী সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বাড়ির দরজার সামনে চুরি হওয়া ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগের ভেতরে থাকা ২৭৫ মার্কিন ডলার (নগদ অর্থ), গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং চিকিৎসার কাগজপত্র—সবকিছুই একদম ঠিকঠাক ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাগটি চুরি করার পর চোর যখন ভেতরের নথিপত্র এবং চিকিৎসার কাগজগুলো পরীক্ষা করছিল, তখন সে জানতে পারে ব্যাগের মালিক একজন ফিলিস্তিনি নারী এবং তিনি একটি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এই সত্যটি জানার পর চোরের বিবেক জাগ্রত হয় এবং সে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্যাগটির সাথে চোর একটি হাতে লেখা চিরকুট বা ক্ষমা প্রার্থনার নোট রেখে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই চিঠির একটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি জানতাম না যে আপনি একজন ফিলিস্তিনি। যদি আগে জানতাম, তবে আমি কখনই আপনার জিনিস চুরি করতাম না।”
চিঠির আরেকটি সংস্করণে লেখা ছিল, “আমাদের ক্ষমা করবেন। আপনি ফিলিস্তিনি তা জানা থাকলে আমরা কখনই এই কাজ করতাম না। আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
এই অদ্ভুত ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ রসাত্মক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই চোরের এই জাতীয়তাবোধ এবং সহানুভূতির প্রশংসা করে তাকে রসিকতার ছলে “নীতিবান চোর” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, চুরি অপরাধই, তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি এই চোরের আবেগ ও সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি সত্যিই বিরল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় একজন নারীর হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়ার অভিযোগে মনোয়ারা বেগমকে আদালত রিমান্ড শেষে কারাগারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ (২৮ জুন) পুলিশ তাকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। এরপর, মামলার তদন্ত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে তাকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেন। শুনানির ফলস্বরূপ, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম মামলায় মনোয়ারার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
মামলার অভিযোগ অনুসারে, ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নিবেদিতা আহমেদ তুলি নামে এক সরকারি চাকরিজীবী আদালতে মামলা করেন। মামলার জন্য ধার্য তারিখ ছিল ১৬ জুন। সেদিন অভিযোগে উল্লেখিত আসামি আদালতে উপস্থিত হননি। ঢাকা চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপি আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন, এবং পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয় ২০ আগস্ট।
দিও, ২৫ জুন আসামি নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। আদালতের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক হলে মনোয়ারাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় ঢাকা চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু গত বৃহস্পতিবার রাতে নাসরিন সিকদার, মনোয়ারা বেগম এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় দুই দফার ভূমিকম্পে অন্তত ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশের কর্তৃপক্ষ। এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বুধবার দেশে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুই দফা ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ওই ভূমিকম্পের ফলে দেশটির অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে। এর ফলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি হতে শুরু করে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তুপের মধ্যে তাদের স্বজনদের খুঁজছেন। ভেনেজুয়েলার উদ্ধার কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে আসা কর্মীরা উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করেছেন।
বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, রাজধানী কারাকাসসহ অন্যসব শহরের প্রতিটি স্থানে, যেখানে দৃষ্টিক্ষপাত করা যায়, সেখানেই ধ্বংসের ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মূল্যমানের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। রবিবার (২৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটকসহ ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মূল্যমানের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল এবং সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৩৩.৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস অবৈধ ওষুধ, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), আফিম তৈরির কেমিক্যালসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, যিনি মাদকদ্রব্য ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজিবি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকলের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ, পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ