প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুর সদর উপজেলার পশ্চিম ফুলবাড়ীয়া এলাকায় এক বৃদ্ধের বসতভিটা ও জমি দখলের চেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. কায়েম উদ্দিন (৭২) জামালপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদী মো. ছাদেক আলী (৫৮), মো. আপেল আহমুদ (৩৫), মো. আব্দুল জলিল (৪৫), মোছা. সুলতানা বেগম (৪০), মো. মারুফ (২৫), মো. মেহেদী (২২), মো. নাঈম (২৭), মো. পারভেজ (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর মা বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে জমিটি অর্জন করেন। পরে তিনি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা লাভ করে নিজ নামে খারিজ সম্পন্ন করেন এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে বসতবাড়ি নির্মাণসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন। এ জমি নিয়ে পূর্বেও একাধিক মামলা হয়েছে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, সেসব মামলায় বিবাদীরা পরাজিত হন। এছাড়া একটি দেওয়ানি মামলায় আদালত কিছু বিবাদীর বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে মো. ছাদেক আলী, মো. আপেল আহমুদ ও মো. আব্দুল জলিল ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন ২০২৬ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জমি দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে তারা ভুক্তভোগীকে মারধরের চেষ্টা করেন, ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যান। তবে যাওয়ার আগে দাবি করা চাঁদা না দিলে আরও লোকজন নিয়ে এসে জমি দখল এবং বাধা দিলে হত্যা-জখমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তদের কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং যে কোনো সময় তারা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করতে পারেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. কায়েম উদ্দিন অভিযোগের তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুলিশের তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন