বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ পি.এম
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিরাপদ রাখতে অত্যন্ত গোপনীয় এক বিমান পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে, ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তাও জানতেন না, প্রেসিডেন্ট যে বিমানে উঠেছিলেন বলে তারা মনে করছেন, সেটিতে তিনি আদৌ ছিলেন না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই রাতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার বিমানবন্দরে এই গোপন অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করার পর বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তার নির্ধারিত বিমান থেকে গোপনে নামিয়ে একটি সাধারণ ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয়। পরে ওই ট্রাকের মাধ্যমে তাকে পাশের একটি সামরিক উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে আলাদা বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প নিজেও বিমানের গোপন পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শেই তাকে অন্য বিমানে যেতে হয়েছিল।
মাত্র ৬০ সেকেন্ডে পুরো অভিযান। প্রতিবেদনের মতে, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৮ মিনিটে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে নামানো হয়। এর কিছুক্ষণ আগেই তাকে ওই বিমানটিতে উঠতে দেখা গিয়েছিল।
এরপর মাত্র প্রায় এক মিনিটের মধ্যে ট্রাম্প এবং তার সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিমানের পাশে থাকা খাবার ও পানীয় সরবরাহের ক্যাটারিং ট্রাকে উঠে পড়েন। ট্রাকটি তাদের নিয়ে দ্রুত রানওয়ের অন্য প্রান্তে অপেক্ষমাণ একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানের কাছে যায়।
সেখান থেকে ট্রাম্প ও তার দলকে বিমানে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয়, যাতে বিমানবন্দরে থাকা সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা কোনও অস্বাভাবিকতা টের না পান।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা দলের এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিকর বিমান হিসেবে রেখে দেওয়া এবং প্রেসিডেন্টকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন কারা? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বিমানে ওঠা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তার নির্বাহী সহকারী নাটালি হার্প এবং ওভাল অফিসের কার্যক্রমবিষয়ক পরিচালক ওয়াল্ট নাউটা।
অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনোও ওই তিন সদস্যের দলে ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিবেদনে। একটি সূত্র তাকে প্রেসিডেন্টের ‘সংযোগের সেতু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আরেক সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বিমানে যাওয়ার জন্য হার্পই ছিলেন প্রেসিডেন্টের ‘প্রথম পছন্দ’।
হার্পকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘মানব প্রিন্টার’ বলেও ডাকা হয়। কারণ প্রেসিডেন্ট যে সংবাদ প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্যান্য লেখা পড়তে চান, সেগুলোর প্রিন্ট কপি তিনি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগী- হার্প, নাউটা ও স্ক্যাভিনোকে একটি সূত্র ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ বা ‘তিন তলোয়ারধারী’ বলেও উল্লেখ করেছে।
কেন এই তিনজনকে নেওয়া হয়েছিল? একটি সূত্রের ভাষ্য, ট্রাম্পের খুব কাছের হলেও হার্প, নাউটা ও স্ক্যাভিনো এমন পর্যায়ের কর্মকর্তা নন, যাদের প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্রটির ভাষ্যায়, তারা প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তার কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পাশাপাশি তারা এমন পর্যায়ের নন, যাদের সবাইকে একসঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে রাখলে প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে না গিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থেকে যাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এবং রাষ্ট্রদূত মনিকা ক্রাউলি।
তাদের বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মাইল্ডেনহল ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা যায়।
সবাই কি জানতেন ট্রাম্প বিমানে নেই? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গোপন বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনের খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা জানতেন।
শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রিসভা সদস্য- বিশেষ করে রুবিও-বিকল্প পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি। তবে বিমানে থাকা অপেক্ষাকৃত নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা জানতেন না যে, তারা আসলে একটি ‘ডিকয়’ বিমানে অবস্থান করছেন।
রুবিওর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, পরিকল্পনার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও যুক্ত ছিলেন এবং নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে জানার পর খুব দ্রুত পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়।
সূত্রটির ভাষ্য, ট্রাম্প প্রতিদিন যাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের কয়েকজনই ওই বিমানে ছিলেন। ফলে কারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকবেন আর কারা মূল বিমানে থাকবেন- এ তথ্য খুব সীমিত পর্যায়ে রাখা হয়েছিল।
জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন কিছু কর্মকর্তা। রুবিওর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আরও দাবি করেছে, কিছু মন্ত্রিসভা সদস্য প্রেসিডেন্টের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন।
সূত্রটির বক্তব্যের সারমর্ম হলো, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গোপন বিমানে না গিয়ে মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই হয়তো জানতেন না যে, তারা সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প বা ‘ডিকয়’ বিমানে পরিণত হয়েছেন।
তবে কারা পুরো পরিকল্পনা জানতেন এবং কারা জানতেন না- এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা দেওয়া হয়নি।
কী ছিল ইরানের হুমকি? প্রতিবেদনে অনুযায়ী, তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের শেষ দিনে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
এর পরই ট্রাম্পের জন্য বিকল্প বিমান ও রুট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রকে সাধারণত ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস) বলা হয়। এগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট ও বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, যা নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত উড়োজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নির্দিষ্ট হুমকির উৎস, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার মাত্রা কিংবা ইরানের কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী হামলার পরিকল্পনা করেছিল কি না- এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আমি শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কথা মেনে চলি: ট্রাম্প। ঘটনাটি নিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ট্রাম্প নিজেই গোপনে বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য বিমানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল এবং তিনি তাদের নির্দেশ মেনে চলেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, তিনি নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শ অনুযায়ী অন্য ফ্লাইটে যান। তার ধারণা, যে বিমানে তিনি প্রথমে উঠেছিলেন, সেটিই হয়তো ইরানের সম্ভাব্য হামলার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
কারণ শত্রুপক্ষ যদি হামলা চালাত, তাহলে সেটিকে প্রেসিডেন্টের বিমান হিসেবেই চিহ্নিত করার সম্ভাবনা বেশি ছিল বলে তিনি মনে করেন।
‘ঘোস্ট ফ্লাইট’ কৌশল নতুন নয়। ট্রাম্পের বিদেশ সফর সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ‘ঘোস্ট ফ্লাইট’ বা বিভ্রান্তিকর বিমান ব্যবহারের কৌশল নতুন নয়।
সূত্রটির দাবি, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও নিরাপত্তা হুমকি থাকলে ট্রাম্পের জন্য একাধিক বিমান ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন বিমানে ভিন্ন ভিন্ন কর্মী রাখা হতো, যাতে সম্ভাব্য হামলাকারীরা ট্রাম্পের অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারে।
তবে এর আগে ঠিক কোন কোন ঘটনায় এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সূত্রটি বিস্তারিত জানায়নি।
এক মাস গোপন রাখা হয়েছিল ঘটনা। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এই গোপন বিমান বদলের ঘটনা এক মাসেরও বেশি সময় গোপন রাখতে সক্ষম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের অনেকেই তখন মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গেই একই বিমানে রয়েছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসের সফরসঙ্গী অনেক কর্মীও বিষয়টি জানতেন না বলে সূত্রের দাবি।
ফলে ট্রাম্পকে ক্যাটারিং ট্রাকে করে সামরিক বিমানে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে গোপন রাখা সম্ভব হয়। সূত্র: ডেইলি মেইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে আসলে কেউ জয়ী হচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে উভয় পক্ষের জন্য এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। আর এই অচলাবস্থার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র নিঃশব্দে তাদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে যেন ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত থাকতে পারে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাইকেল স্টিফেন্স জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের নতুনভাবে ডাকা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখানে সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়াচ্ছে, যা স্পষ্টতই নতুন সামরিক প্রস্তুতির একটি লক্ষণ।
তবে, এই সেনা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য কী, তা এখনও অস্বচ্ছ। স্টিফেন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে কোন ধরনের আক্রমণ চালিয়ে সাফল্য লাভের আশা করতে পারে না। এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এখন পর্যন্ত পুরোপুরি স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালানোর সময়, এই সংঘাতের প্রভাব অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ পরিবর্তন করছে। এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদের উদ্দেশ্যে সফর করেছে ইরাকের একটি শীর্ষ নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল। ইরাকি নিউজ এজেন্সির সূত্রানুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করেতেই তাদের এই সফর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের সময় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবে কয়েকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি গত সপ্তাহে জোর দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য দেশে হামলার উদ্দেশ্যে বাগদাদ কাউকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কার্যালয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারির নেতৃত্বে এই শীর্ষ নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলে দেশটির গোয়েন্দা ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও আছেন। সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের আলোচনায় সাম্প্রতিক হামলা, সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি এবং দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে কত অদ্ভুত ঘটনাই না ঘটে। তবে স্পেনের মালাগায় কস্তা দেল সল ট্রফির প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচে যা ঘটল, তা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন দৃশ্য হয়ে থাকবে। প্রতিপক্ষ ইংলিশ ক্লাব ফুলহ্যাম মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায়, কোনো গোলরক্ষক বা খেলোয়াড় ছাড়াই ফাঁকা জালে পেনাল্টি মেরে ট্রফি জয় উদ্যাপন করেছে স্বাগতিক মালাগা সিএফ। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে ২-২ গোলে সমতা থাকার পর এই অদ্ভুত নাটকের অবতারণা হয়। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে ফুলহ্যামের ডিফেন্ডার কেলভিন বাসি হ্যান্ডবল করায় মালাগার পক্ষে বিতর্কিত পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করে মালাগাকে ২-২ সমতায় ফেরান এনেকো জাউরেগি। এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় ফুলহ্যামের ম্যানেজার আলভারো আরবেলোয়াকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ম্যাচ ড্র হওয়ার পর ট্রফি নির্ধারণের জন্য রেফারি পেনাল্টি শুটআউটের নির্দেশ দেন। আর এখানেই বাধে বিপত্তি। মালাগার দাবি অনুযায়ী, ম্যাচ টাই হলে শুটআউট হবে—এমনটিই নিয়ম ছিল। কিন্তু ফুলহ্যামের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, প্রাক-মৌসুম চুক্তিতে কোনো পেনাল্টি শুটআউটের কথা উল্লেখ ছিল না। পাশাপাশি ফুলহ্যামের খেলোয়াড়দের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের নির্ধারিত ফিরতি ফ্লাইট। শুটআউটে অংশ নিলে ফ্লাইট মিস করার বড় ঝুঁকি তৈরি হতো। ফলে কোনো রকম আলোচনা না বাড়িয়ে ফুলহ্যামের পুরো দল মাঠ ছেড়ে সরাসরি টানেল দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রতিপক্ষ মাঠ ছাড়লেও মাঠ ছাড়েনি মালাগা। রেফারি ও অফিশিয়ালদের উপস্থিতিতেই এক আজব কাণ্ড ঘটে। ফুলহ্যামের কোনো গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডার মাঠে না থাকা সত্ত্বেও মালাগার স্ট্রাইকার এনেকো জাউরেগি ফাঁকা গোলপোস্টে পেনাল্টি কিক নেন। বল জালে জড়ানোর পর গ্যালারিতে উপস্থিত হোম সমর্থকদের সামনে ট্রফি উঁচিয়ে জয় উদ্যাপন করে স্প্যানিশ ক্লাবটি। ম্যাচ শেষে স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে দুই ক্লাবই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বিবৃতি দেয়। ফুলহ্যাম জানিয়েছে, ম্যাচের আগে উভয় দলই লিখিতভাবে সম্মত হয়েছিল, খেলা ড্র হলে কোনো পেনাল্টি শুটআউট হবে না। আমাদের খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভ্রমণের সময়সূচির কারণেই আমরা মাঠ ছেড়েছি। এনিয়ে মালাগার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে পেনাল্টি শুটআউট নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও, ফুলহ্যাম চুক্তির অজুহাত দেখিয়ে মাঠ ত্যাগ করেছে। ফুটবল ভক্তদের মাঝে এই ঘটনাটি ব্যাপক হাসির খোরাক জুগিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিতর্কিত ইতুরুপ দ্বীপে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের প্রতিবাদে জাপানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাই স্তানিস্লাভোভিচ নোজদ্রেভকে টোকিও তলব করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মস্কোর দিকে থেকে তাকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ জাপানের প্রতিবাদ জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে আন্দালু এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে সফরের সময় পুতিন হোক্কাইডোর কাছে অবস্থিত বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের একটি, ইতুরুপে পা রাখেন। এ দ্বীপটিতে এটি তাঁর প্রথম সফর।
টোকিও দেড়শ’ বছর আগে যাওয়ার সময়ে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ নামে পরিচিত ইতুরুপ, কুনাশিরি, শিকোতান এবং হাবোমাই দ্বীপগুলোর। জাপানের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট আত্মসমর্পণের পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বীপগুলো ‘অবৈধভাবে’ দখল করে নেয়।
অন্যদিকে, রাশিয়া দ্বীপগুলোকে ‘সাউদার্ন কুরিলস’ হিসেবে অভিহিত করে সেগুলোর দখলকে বৈধ মনে করে। দ্বীপগুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জাপান মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা বেড়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় নিষেধাজ্ঞা করা আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট জমা দেওয়ার জন্য নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষার শেষ হওয়ার পর প্রতিদিনের উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট নিরাপত্তার সাথে একই দিনে নির্ধারিত কেন্দ্রে বোর্ডের প্রতিনিধির কাছে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রেরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলার কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার স্থগিতকৃত ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষা আগামী ২০ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পুলিশ এসকর্টের সহযোগিতায় প্রতিদিনের উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট চট্টগ্রামের দারুল উলুম কামিল মাদরাসা, চন্দনপুরা, চকবাজার, চট্টগ্রাম, (কেন্দ্র কোড-৫৮৬) কেন্দ্রে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি নিকট জমা দিতে হবে।
এ বিষয়ে সহায়তা প্রদান করবেন দারুল উলুম কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বোর্ডের নির্দেশনায় উত্তরপত্র ও ওএমআর শিটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে উত্তরপত্র ও ওএমআর যথাযথভাবে গ্রহণ করে বোর্ডের প্রতিনিধির কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্যও বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ