০৯:৫৩ এম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় চরাঞ্চলের নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় টেটাঁবিদ্ধ অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যার নাম কাউছার মিয়া।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে, মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার ফলে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
নিহত কাউছার মিয়া (৩৫) নিলক্ষা ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে টেঁটাবিদ্ধ করার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে পানির স্রোতে তার মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে উঠে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় মরদেহটি রায়পুরা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঐ ঘটনায় রায়পুরা থানার মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তাদেরই গ্রহণ করতে হবে।
এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জবা ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের মধ্যে মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী হত্যার পর দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা হত্যা মামলার আসামী জবা মেম্বার এবং সহযোগী আলাল মুন্সিসহ তাদের গ্রুপের সদস্যরা এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিল।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা গত মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় প্রতিপক্ষের ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফা সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো পরে দুজনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন