১১:৪৬ পি.এম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা অঞ্চলের আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের ৬০টি পরিত্যক্ত ঘর বর্তমানে মাদকসেবী এবং মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই এসব পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসে। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত এই মাদক সেবন ও লেনদেন চলতে থাকে। স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাদের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে তবে দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবী লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ দ্বারাই নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। নদী-সংলগ্ন অঞ্চলের কারণে নৌকাযোগে সহজেই মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, ট্রলার বা স্পিডবোটের মাধ্যমে নদীপথে পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা এবং গাঁজা সেবন করা হচ্ছে। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইচাহাক শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যান। ভয় এবং নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চান না। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা কুলছুম বেগম জানান, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়ে বাইরে যেতে পারছে না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক। আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলছেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, এই ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন