ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০টি ঘরে সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আসর


গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ৬০টি ঘরে সন্ধ্যার পর বসে মাদকের আসর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা অঞ্চলের আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের ৬০টি পরিত্যক্ত ঘর বর্তমানে মাদকসেবী এবং মাদক কারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিদিন সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথেই এসব পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসে। রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত এই মাদক সেবন ও লেনদেন চলতে থাকে। স্থানীয় মাদক কারবারিরা তাদের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে ভয়ের কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে মোট ১৬০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে তবে দীর্ঘদিন ধরে ৬০টি ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবী লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ দ্বারাই নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে অনেকের যাতায়াত রয়েছে। নদী-সংলগ্ন অঞ্চলের কারণে নৌকাযোগে সহজেই মাদকদ্রব্য আনা-নেওয়া করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, ট্রলার বা স্পিডবোটের মাধ্যমে নদীপথে পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকদ্রব্য এই অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। এসব আসরে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা এবং গাঁজা সেবন করা হচ্ছে। এতে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি, মারামারি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইচাহাক শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে ঢুকে মাদক সেবন করে। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যান। ভয় এবং নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ সন্ধ্যার পর ওই দিকটায় যেতে চান না। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা কুলছুম বেগম জানান, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। ছেলে-মেয়ে বাইরে যেতে পারছে না। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই মাদকের আসর বন্ধ করুক। আকোটের চর ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী বলছেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে কয়েকবার বলেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, এই ধরনের অভিযোগ পেলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে শেষ মুহূর্তে স্থগিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ পি.এম


প্যারিসে শেষ মুহূর্তে স্থগিত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ফ্রান্স সফরের সময় ফ্রান্স বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক আগ্রহ সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত না হওয়ায় প্রবাসী মহলে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে।

আয়োজকরা বলছেন, মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি এবং তীব্র দাবদাহের জন্য অনুষ্ঠানটি স্থগিত হয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানাচ্ছে যে, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলোকেও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংबর্ধনা এবং প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্যারিসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিএনপির নেতাকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগে অনুষ্ঠানটি স্থগিতের ঘোষণা আসে।

ফ্রান্স বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি সফরসূচি এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে চলমান প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে অনুষ্ঠান আয়োজন সংক্রান্ত সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও বাস্তবতা পর্যালোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার খেয়াল রেখে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুষ্ঠানটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ অনৈক্য এবং নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা অনুষ্ঠান আয়োজনকে জটিল করে তুলেছে। বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে বলেও তাদের অভিমত।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের জানান, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ছিলেন। কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। কিন্তু মন্ত্রীর ব্যস্ত সরকারি কর্মসূচি ও চলমান দাবদাহের কারণে সময়মতো অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী সফরের সময় নির্ধারিত হোটেলের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়তি উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি বিরূপ হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর একজন মন্ত্রীর আগমন স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। তবে হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে অতিরিক্ত ভিড় ক্ষতিকর ছিল।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব আলম রাঙ্গা জানান, অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে নেওয়া হয়েছে, যদিও হল বুকিং এবং অতিথি আমন্ত্রণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল।

বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার সফরের সময় বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয় এবং বাংলাদেশ-ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

সূত্রটি আরও জানাচ্ছে যে, কমিউনিটির উদ্যোগে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের বা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ আয়োজকদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। যদিও কমিউনিটির ভেতরে অনুষ্ঠানের ব্যাপক আগ্রহ ছিল, শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্স বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একাংশ মনে করেন, এমন একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করার সুযোগ কেবল তাঁরই রয়েছে বলে তারা মত দেন।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ জানান, মন্ত্রী মহোদয় সফর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত আছেন। সেখানে মন্ত্রীর নিজ এলাকার কিছু লোকজনের উপস্থিতিতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এটি তিনি ভালোভাবে নেননি। আমাদের মধ্যেও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। এককেন্দ্রিক নেতৃত্ব আজকের পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা এই পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদি সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তবে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই একটি কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় এই কারণে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিসা চালুর ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ পি.এম


ভিসা চালুর ঘোষণাকে স্বাগত জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির বিধায়করা।

পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘এটা দুই দেশের বিষয়। ভারত সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে চেষ্টা করে। বিগত সময়ে যেটি হয়েছে, আমি আশা করব সেটা আর হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই।’

রাজ্যের সংসদীয় ও পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, ‘আমি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করব, পর্যটন এবং অন্যান্য শিল্প এর ফলে উপকৃত হবে।’

অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর বিধানসভা আসনের বিজেপি বিধায়ক অরুন হালদার বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। দুই দেশের মানুষের প্রচুর আত্মীয়-পরিজন উভয় দেশে বসবাস করেন। ভারত সরকারের নির্দেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের মানুষের আবেগকে মর্যাদা দিয়েছেন। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে, সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে, এতে উভয় দেশেরই মঙ্গল হবে।

এদিকে, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালু করায় খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার নিউমার্কেট এবং পেট্রাপোল স্থলবন্দরে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নতুন গোয়েন্দা সতর্কতা

ন্যাটোর ঐক্যের পরীক্ষায় ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:০২ এম


ন্যাটোর ঐক্যের পরীক্ষায় ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ শঙ্কা

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে বাল্টিক রাষ্ট্র এবং পোল্যান্ডের মধ্যে অন্তত দুটি দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া ‘উসকানিমূলক’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে, এই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা গোয়েন্দারা। তাদের মতে, ক্রেমলিন নতুন কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করতে পারে, কারণ ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে চাপ বাড়তে থাকছে।

গত সোমবার লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, বাল্টিক অঞ্চল বা পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উসকানির প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তাদের মূল্যায়ন অনুসারে, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদও গত সপ্তাহে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কিছু পরিকল্পনা করছেন।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যখন ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা দৃঢ়—তা যাচাই করতে ন্যাটোর তুলনামূলক ছোট সদস্য রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তার মতে, পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে এটি পুতিনের শেষ দিকের একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাজি’ হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি গদানস্কে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক সম্মেলন শেষে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর একটি জোট হিসেবে আমরা প্রস্তুতি নিতে চাই।’

লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার এখনই দ্বিতীয় কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধফ্রন্ট খোলার সক্ষমতা নেই। তবে তারা ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্যান্য সীমিত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতি বার্তা দেওয়া—‘ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করুন, নইলে আপনাদেরও নিজেদের সমস্যা তৈরি হবে।’

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধ প্রস্তুতিতে ৫ লাখ সেনার হাতে ড্রোন দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৭ এম


যুদ্ধ প্রস্তুতিতে ৫ লাখ সেনার হাতে ড্রোন দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়া দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বাড়তে থাকা ড্রোনের গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন উদ্যোগের আওতায় সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যেন তারা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতোই সহজে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।

শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষিত করা হবে।

আন গিউ ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের ধরন পাল্টে দিচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের যুদ্ধের বাস্তবতা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী কে লুকাস ড্রোনের উৎপাদনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তির ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হবে।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন যখন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। ওই ঘটনার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিশ্লেষকেরা মত প্রকাশ করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিক্ষা লাভ করছে।

এদিকে শুক্রবার উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষাও তদারক করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%