মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
০২:০০ পি.এম
শেরপুরে আল হুফফাজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ‘জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ দেশসেরা হাফেজদের তালিকায় স্থান করে নিয়ে শেরপুরের নকলা উপজেলার সুনাম উজ্জ্বল করেছেন দুই কৃতি শিক্ষার্থী। এই সাফল্যে পৌরসভাধীন কলাপাড়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার পক্ষ থেকে এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওই দুই শিক্ষার্থীকে জমকালো সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার কলাপাড়া চেরুর বাজারে গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা জানানো হয়।
সংবর্ধিত কৃতি শিক্ষার্থীরা হলেন জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় সারা দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে সেরা ১০ম স্থান অর্জনকারী মুহাম্মদ সা'দ আহমাদ এবং ২১তম স্থান অর্জনকারী মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম। উভয়েই স্থানীয় কলাপাড়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র।
কলাপাড়া নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ময়নার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মোহাম্মদ শহিদুল আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাদরাসার উপদেষ্টা প্রকৌশলী খাইরুল আলম আজাদ, মাওলানা লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মনোয়ার হোসেন শাহাদাত, যুবদল নেতা দেওয়ান গোলাম মামুন, মাদরাসার সহসভাপতি আনিসুর রহমান, মুহতামিম হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কলাপাড়া বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ফখরুল আলম এবং তালীমুন নাজাত মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবু হানিফা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন কলাপাড়া গ্রাম, মাদরাসা ও নকলা উপজেলার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের এ অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পবিত্র কুরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করবে। তাঁরা কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং তাদের এই অর্জন আগামী দিনে এলাকার অন্যান্য শিক্ষার্থী ও তরুণদের পবিত্র কুরআন হিফজ ও দ্বীনি শিক্ষার প্রতি আরও বেশি আগ্রহী ও অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভেক্সন ফিড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আল আমিন সুমন, প্রেসক্লাব নকলার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে লিম এগ্রোভেট, ভেক্সন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সাত ভাই পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের পক্ষ থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। পরে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য পালাবদল ঘটে গেল গত ৪ঠা নভেম্বর। জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-র উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও জমকালো যোগদান অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন স্তরের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (NCP) যোগদান করেছেন। নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দলটির শক্তি আরও সুসংহত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সভাপতিত্ব ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি:
সুনামগঞ্জ সদর পৌর শহরের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-র আহ্বায়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত NCP ও এর অঙ্গসংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মী এবং স্থানীয় সুধী সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
ফুলের মালায় উষ্ণ অভ্যর্থনা:
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নবাগত নেতাকর্মীদের বরণ করে নেওয়ার পর্ব। গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে সুনামগঞ্জ জেলা NCP-র আহ্বায়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বরণ করে নেন। এ সময় পুরো মিলনায়তন প্রাঙ্গণ স্লোগানে ও তালিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে, যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা:
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী বলেন, "জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মনে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে জাতীয় নাগরিক পার্টি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জে আজ গণঅধিকার পরিষদের যেসব নেতাকর্মী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তারা মূলত সুশাসন, ন্যায়বিচার ও জনমুখী রাজনীতির পথকে আরও প্রশস্ত করলেন।"
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। নবাগত নেতাকর্মীরা দলে যোগ দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামে এই ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নবাগতদের প্রতিক্রিয়া:
যোগদানকারী কর্মীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, দেশের স্বার্থে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যয় থেকেই তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির আদর্শের প্রতি আস্থাশীল হয়ে এই দলটিতে ভিড়েছেন। তারা দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং দলীয় চেয়ারপারসনের হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত মোনাজাত ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক ভেজাল ওষুধসহ একটি ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারী চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে এসআরবি-২।
অভিযানে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভেজাল ওষুধ তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে এমন ভেজাল ওষুধের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় আটক ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া ওষুধের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এবং চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আইনি ও ডিজিটাল নানা ধরনের তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন সাংবাদিক শারীরিক হামলার শিকার হন।
আক্রান্ত সাংবাদিকরা হলেন:
* আহমদ সোহান সিরাজী (স্টার নিউজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট)
* রায়ান বিন আমিন (একাত্তর টিভির সাভার প্রতিনিধি)
* মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন (একাত্তর টিভির ক্যামেরা পারসন)
ঘটনার বিবরণ:
* সকালে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং কিছু শ্রমিকের বক্তব্য নেন।
* পরে ফুটেজ নেওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের ওপর লাঠিসোটা ও ইট নিয়ে হামলা চালায়।
* স্থানীয় কয়েকজন মানুষের হস্তক্ষেপে তারা রক্ষা পান। সাভার মডেল থানার পুলিশ এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন কর্তৃক জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া:
* ঘটনা: তাকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের জেরে গত শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে ফেলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া জানায়, প্রকাশিত সংবাদ, সম্পাদকীয় অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে কারো দ্বিমত বা আপত্তি থাকতেই পারে। গণতান্ত্রিক সমাজে সেই দ্বিমত প্রকাশ, সমালোচনা ও প্রতিবাদের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তবে মতপার্থক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা জরুরি।
সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির প্রকাশ্যে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তা যুক্তি, তথ্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকারও সবার রয়েছে। তবে কোনো পক্ষেরই এমন আচরণ করা উচিত নয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া আরও জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকা নয়; বরং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ, মতামত তুলে ধরা এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকেও সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত।
বিবৃতিতে ,সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মির্জা সোবেদ আলী রাজা বলেছেন, গণমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকার পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।এ ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের মতে, এ ধরনের কার্যকর প্রতিকারব্যবস্থা থাকলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশ কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক যাতে ভয়ভীতি, হামলা কিংবা চাপের মুখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত না হন,তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট ২৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৫১৮ জন সাংবাদিক assaulted (আক্রান্ত) বা হয়রানির শিকার হন এবং ২৯৭ জন সাংবাদিক শারীরিক আঘাত বা হামলার শিকার হন।
এছাড়াও আলাদা মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:
* অক্টোবর মাসে শুধু শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ১৮ জন সাংবাদিক (যাদের মধ্যে একজন প্রাণ হারিয়েছেন)।
* সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম নয় মাস পর্যন্ত মোট ২৯৭ জন সাংবাদিক শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন।
গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে অন্তত ২৮ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন হত্যার শিকার হয়েছেন। শারীরিক হামলা ও আঘাতের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। এ ছাড়া আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন ৯ জন।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ(জেপিসি)দের অক্টোবর মাসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার সংগঠনটি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য বিদায়ী অক্টোবর মাসে দেশের সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকেরা শারীরিক হামলা, গ্রেপ্তার, আইনি হয়রানি, হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনের নিজস্ব সূত্র থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর হামলায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নিহত হন। সহকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখির কারণে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
১৮ সাংবাদিকের ওপর শারীরিক হামলা
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক নেতা–কর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলায় চার সাংবাদিক আহত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে রামদা,চাপাতি, হকিস্টিক ও ব্যাট হাতে মিছিল থেকে আসা নেতা-কর্মীরা অস্ত্রের ভিডিও ধারণ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের মারধর করেন।এতে একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়।এ সময় আহত সাংবাদিকদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা অন্য সাংবাদিকদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সাংবাদিককে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। ওই সাংবাদিকের দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যান। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাজার বস্তির মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়।
আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৯ সাংবাদিক:
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর মাসে অন্তত ৯ জন সাংবাদিক আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন।এর মধ্যে ঝিনাইদহ কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন।সাংবাদিকদের অভিযোগ,কলেজের ইট বিক্রির অনিয়ম আড়াল করতে অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগত ব্যক্তিরা তাঁদের রড দিয়ে পেটান।পরে মিথ্যা মামলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদক-সংশ্লিষ্টতার সংবাদ প্রকাশের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে।
এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক সিলেট সাইবার নিরাপত্তা আদালতে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিক প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।ওই সাংবাদিকের করা জিডিতে মর্গের সাবেক এক সহকারীকে হুমকিদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী,তিনি ফোন করে ভয় দেখান এবং ‘কোর্টে দেখে নেওয়ার’ বার্তা পাঠান।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আইনি হয়রানির এসব ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ(জেপিসি)।সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কিংবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভূইঁয়া অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।গণতান্ত্রিক উত্তরণ সত্ত্বেও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্ম স্থান তৈরি হয়নি এটাই সবচেয়ে হতাশার। তাই সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের যে দাবি দাওয়া বতর্মান সরকারের কাছে পেশ করেছেন তা মেনে নিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা হউক।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া প্রধান ও চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শারীরিক আক্রমণ ও সহিংসতা
* ভৌত হামলা: দুর্নীতি, অনিয়ম, পরিবেশদূষণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সংবাদ প্রকাশ বা সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা স্থানে হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন।
* প্রতিবাদস্থলে ঝুঁকি: রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন বা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা বিক্ষোভকারী উভয় পক্ষ থেকেই অনেক সময় সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন।
২. আইনি ও বিচারিক হয়রানি (Lawfare)
* আইনের অপব্যবহার: মানহানি বা সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি ও গ্রেপতারের প্রবণতা দেখা যায়।
* বিচারহীনতা: অতীতে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া বেশিরভাগ হামলার বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
৩. ডিজিটাল ও অনলাইন ঝুঁকি
* সাইবার আক্রমণ: স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারি, হ্যাকিং এবং যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
* অনলাইন হেনস্থা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোলিং, সাইবার বুলিং, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও অনলাইন হুমকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. পেশাগত ও আর্থ-সামাজিক অনিশ্চয়তা
* ন্যায়সংগত পরিবেশের অভাব: অনেক সংবাদকর্মী বিশেষ করে মফস্বল বা জেলা-উপজেলায় পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, বিমা ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হন।
* আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-censorship): লাগাতার হুমকি, নিরাপত্তা হীনতা ও আইনি চাপের কারণে অনেক সময় সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের মাঝে এক ধরণের আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ভয় কাজ করে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রত্যাশা ও প্রচারণার মধ্যে মুক্তি পেয়েছে নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘রামায়ণ’। দীপাবলির প্রাক্কালে, গত ৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি, যেখানে রণবীর কাপুর ও সাই পল্লবী অভিনয় করেছেন। তবে মুক্তির প্রথম দিনে দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া সিনেমাটি আয়ের দিক থেকে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে সিনেমাটির আয় ১০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রথম দিনে সব ভাষা মিলিয়ে ভারতে সিনেমাটির নেট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৪ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
ভারতীয় বক্স অফিসের আয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে হিন্দি সংস্করণ, যা আয় করেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
ভাষাভিত্তিক আয়ের হিসাব
বক্স অফিস ট্র্যাকার স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ২৫ হাজার ২০০টি প্রদর্শনী থেকে ‘রামায়ণ’র নেট আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। ভাষাভিত্তিক আয়ের হিসাবে হিন্দির পর রয়েছে কন্নড় সংস্করণ, যা ১ হাজার ১৯৭টি প্রদর্শনী থেকে আয় করেছে ৭ কোটি ২৫ লাখ রুপি।
এছাড়া, ১ হাজার ৭৭৬টি প্রদর্শনী থেকে তেলুগু সংস্করণের আয় ৬ কোটি রুপি, ৯৯২টি প্রদর্শনী থেকে তামিল সংস্করণের আয় ২ কোটি ৬০ লাখ রুপি এবং ৫৫৭টি প্রদর্শনী থেকে মালয়ালম সংস্করণের আয় ১ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
সব মিলিয়ে ভারতে সিনেমাটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৫০ কোটি রুপি। ফলে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১২৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
রণবীর কাপুরের আগের সিনেমা ‘অ্যানিমেল’-এর প্রথম দিনের আয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়েছে ‘রামায়ণ’। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যানিমেল’ প্রথম দিনে ভারতে ৬৩ কোটি ৮০ লাখ রুপি আয় করেছিল। তবে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’-এর ৫৭ কোটি রুপি উদ্বোধনী আয় ছাড়িয়ে গেলেও ‘জওয়ান’-এর ৭৫ কোটি রুপি রেকর্ড ভাঙতে পারেনি সিনেমাটি।
সমালোচকদের চোখে ‘রামায়ণ’
মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। এনডিটিভির চলচ্চিত্র সমালোচক শৈবাল চট্টোপাধ্যায় তার পর্যালোচনায় সিনেমাটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, সিনেমার প্রতিটি দৃশ্য দর্শকদের মুগ্ধ করার মতো হলেও পরিচিত চরিত্রগুলোর উপস্থাপনায় প্রাণের অভাব রয়েছে।
সিনেমায় রাম ও রাবণের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে রণবীর কাপুর ও যশ। সমালোচকের মতে, রামের চরিত্রে রণবীরের অভিনয়ে আন্তরিকতা ও সংযম রয়েছে। অন্যদিকে, বলিউডে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করতে এসে রাবণের চরিত্রে যশ নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
চার হাজার কোটি রুপির বিশাল আয়োজন
প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘রামায়ণ’কে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রচারণাও চালিয়েছে সিনেমাটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। গত ২৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় সিনেমাটিতে রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশ ছাড়াও অভিনয় করেছেন সানি দেওল, রবি দুবে, লারা দত্তসহ আরও অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ