ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাদমান রহমান নাবিলের


মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে আর ফেরা হলো না শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাদমান রহমান নাবিলের

সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সাদমান রহমান নাবিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাদমানের বাড়ি রাজবাড়ীর মধ্য ভবানীপুর এলাকায় অবস্থিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন টিলারগাঁও এলাকার একটি মেসে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ, আহত দুই শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে সাদমান মোটরসাইকেল নিয়ে মদিনা মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে মহাসড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা লেগে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা সাদমানের সহপাঠী ও ক্যাম্পাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ফোন করে ঘটনাটি জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদমানকে প্রথমে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমানের বরাতে জানা গেছে, সাদমানের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

জালালাবাদ থানার ওসি মুজাহিদুল ইসলাম জানান, স্পিডব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন: অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্স কলেজের অধ্যক্ষ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ.লীগের সময় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে চায় সংসদীয় কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


আ.লীগের সময় নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে চায় সংসদীয় কমিটি

সংসদীয় কমিটি জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, যা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া ‘অপ্রয়োজনীয়’ ও ‘দুর্নীতির উদ্দেশ্যে’ গ্রহণ করা প্রকল্প বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে, উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিব সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

কমিটির সভাপতি বলেন, “জনগণের স্বার্থে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়ন করা এবং বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির জন্য যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে জনগণের স্বার্থে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা গুরুত্বারোপ করেছি। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং পদায়নের জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।”

উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সেলিম রেজা হাবিব বলেন, “আমরা বলেছি, যেন সব কাজ টেকসই হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে যা-ই নির্মাণ করা হোক, এগুলোর গুণগত মান যেন ঠিক থাকে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন, যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজ সমাপ্তির পরে তিন বছর সেই বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে মেরামতের দায়িত্ব নিতে হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে গুণগত মান ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বাহিনী এখনো মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে কমিটি মনে করে। এ কারণে কিছুটা সময় নিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। তবে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের কথাও বলেছে কমিটি। আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সারা দেশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রতি শনিবার দক্ষিণ প্লাজা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। সারা দেশে এ কর্মসূচি চলছে। তিনি বলেন, “এবার কিন্তু যেভাবে প্রতিবছর মশার যে পরিমাণ উপদ্রব ছিল, এবার কিন্তু সেটি ওইভাবে নেই। কিন্তু ডেঙ্গু কেন যেন এই মাত্রাটা অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটার জন্য বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। কারণটা কী? অতীতে ছিল যে মশার তাড়নায় কেউ ঘুমাতে পারেনি। কিন্তু এখন মশা নিয়ে এ রকম কোনো পত্রিকায় আমরা লেখালেখি দেখি না। কিন্তু ডেঙ্গু যাদের হচ্ছে, তাদের মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এটির ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আশা করি, এগুলোর সমাধান হবে।”

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম রেজা হাবিবের সভাপতিত্বে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম এবং রফিকুল ইসলাম খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাজারো কৃষকের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন নানা পাটেকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


হাজারো কৃষকের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন নানা পাটেকর

বলিউডের তারকাদের উপস্থিতির তুলনায় কৃষকদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকরের শেষবিদায়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। যদিও তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় চলচ্চিত্রের অনেক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন না, সেখানে হাজির ছিলেন কয়েক হাজার কৃষক। এই বিষয়টি মারাঠি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রবীণ তার্ডেকে আবেগাপ্লুত করেছে।

৮ অক্টোবর গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। পরে পুনের কাছে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। জ্যাকি শ্রফ, সুরেশ ওয়াড়কর, আনিস বাজমি ও সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার মতো কিছু পরিচিত মুখ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, তবে বলিউডের অনেক তারকার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নির্মাতা প্রবীণ তার্ডে এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, যারা নানা পাটেকরকে বন্ধু বলে পরিচয় দিতেন, তাঁদের অন্তত শেষবিদায়ের সময়ে পাশে থাকা উচিত ছিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তারকাদের অনুপস্থিতি দিয়ে এই অভিনেতার জীবনের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।

প্রবীণ তার্ডে বলেন, "বলিউডের মানুষজন উপস্থিত না থাকলেও নানার মহানুভবতা কমে যায় না।" তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কৃষকদের উপস্থিতি উল্লেখ করে নির্মাতা বলেন, "মাটির সঙ্গে মিশে থাকা এই মানুষদের ভালোবাসা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।" তিনি আরও বলেন, পর্দার খ্যাতির চেয়ে মানুষের জন্য কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনয়ের পাশাপাশি কৃষকদের কল্যাণে নানা পাটেকরের ভূমিকা তাঁকে বহু মানুষের শ্রদ্ধা অর্জনে সহায়তা করেছে। কৃষকদের দুর্দশা, ঋণের বোঝা ও আত্মহত্যার ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ কারণে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

নানা পাটেকরের শেষবিদায়ে কৃষকদের উপস্থিতি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় কেবল তাঁর অভিনয় কিংবা তারকাখ্যাতিতে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের জীবনে তাঁর অবদান ও ভালোবাসার বন্ধনও তাঁকে স্মরণীয় করে রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ এশিয়াকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে—নাহিদের সমর্থন ভারতীয় জেন-জি আন্দোলনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


দক্ষিণ এশিয়াকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে—নাহিদের সমর্থন ভারতীয় জেন-জি আন্দোলনে

ভারতের ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম ভারতীয় তরুণদের পাশে রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের প্রতি তাঁরা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এ ধরনের দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি।’ তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মিল তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে তৎকালীন সরকারের বাহিনী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা যে সংহতি জানিয়েছিলেন, তা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ ও সম্মান করে বাংলাদেশ।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সমৃদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখসারিতে উঠে এসেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণির ভিত্তিতে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সে সমাজ কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

বিবৃতিতে শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত সরকার তাঁদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রেখেছে। তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভারতের আন্দোলনকারী তরুণ ও রাজনৈতিক বন্দিদের সহযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন।

বিবৃতির শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার। তাঁরা এমন একটি দক্ষিণ এশিয়া দেখতে চান, যেখানে রাষ্ট্রগুলো একে অপরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৫২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৫২ জন

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের ফলস্বরূপ গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৩২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এই তথ্য প্রকাশ করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ২৫ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৫৩ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৬৬ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৬০ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১১৪ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৫ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে ১ টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ১ টি অবিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, ৯০ গ্রাম গাঁজা, ৫৯৩১ পিস ইয়াবা, ১৪৪ বোতল দেশী মদ, ১ টি ক্যার্ভাডভ্যান, ২ টি লাইটার, ২ টি কাঁচি, ৬ টি মোবাইল ফোন, ১ টি মোটরসাইকেল, ১ টি চাপাতি, ১ টি সিএনজি, ১ টি ট্রাবল ব্যাগ এবং একজন ভিকটিম।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%