শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৭ এম
দুই বোন সেরেনা উইলিয়ামস ও ভেনাস উইলিয়ামস সেরা সময়ের অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছেন। তাদের অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিষয়টি ছিল। গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে দ্বৈত ইভেন্টে তারা সর্বশেষ ২০২২ সালে এই ইউএস ওপেনেই মাঠে নেমেছিলেন। চার বছর পর একই টুর্নামেন্টের দ্বৈত ইভেন্টে তাদের প্রত্যাবর্তনটি ভালো হয়নি। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দর্শকদের মধ্যে উন্মাদনা থাকলেও গতকাল রাতে তারা প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নিয়েছেন।
অবসর ভেঙে আবারও টেনিস র্যাকেট হাতে নিলেও এই খেলায় শক্তি ও শরীরের সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন তারা। সিনসিনাটি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেও বিদায় নিয়েছেন ভেনাস-সেরেনা জুটি। তবে হারার আগে তারা দারুণ লড়াই করেছেন।
তিন সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১০ পয়েন্টের টাইব্রেকারে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত চ্যান হাও-চিং ও মায়া জয়েন্ট জুটির কাছে ৬-৩, ৬-৭ (৬/৮), ৭-৬ (১০/৭) গেমে পরাজিত হন। দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকারে জয় লাভের পর তৃতীয় সেটে ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে উইলিয়ামস বোনরা সমতায় ফিরলেও শেষ দিকে এসে খেই হারিয়ে ফেলেন। ওপেন যুগে মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ৪৪ বছর বয়সী সেরেনা এ বছর টেনিসে ফিরে এসেছেন। সাতটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ভেনাস ৪৬ বছর বয়সেও ট্যুরে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্র্যান্ড স্লামে মেয়েদের দ্বৈত ইভেন্টে ১৪ শিরোপাজয়ী এই দুই বোন এবারের ইউএস ওপেনে সম্ভবত বয়সের কারণে সফল হতে পারেননি। পাশাপাশি, সেরেনা দীর্ঘ সময় খেলা থেকে বিরত ছিলেন এবং কোর্টের স্নায়ুচাপও তাদের উপর ছিল।
তৃতীয় সেটের শেষভাগে এবং টাইব্রেকারের প্রথম কয়েকটি পয়েন্টে দুর্দান্ত খেলার পর সেই টাইব্রেকারে দুজন ডাবল ফল্ট করে বসেন। দুই বোনের সম্মিলিত বয়স ৯০ বছর, অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষের সম্মিলিত বয়স ৫২ বছর। স্বাভাবিকভাবেই ফিটনেস এবং বয়সের ভারের প্রভাব তাদের খেলায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চলতি গ্রীষ্মে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়েন্টের কাছে হারলেন সেরেনা। উইম্বলডনের এককে তার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়ের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এরপর হাঁটুতে চোট পেয়ে ভেনাস ও সেরেনা—দুজনেই উইম্বলডনের দ্বৈত ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ান।
২০২২ ইউএস ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নেওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, সেটিই দুই বোনের জুটি বেঁধে শেষ দ্বৈত ম্যাচ। কারণ, সেরেনা সে বছরই টেনিসকে বিদায় জানান। তবে চলতি গ্রীষ্মে আবারও কোর্টে ফিরে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে দুটি ম্যাচে হারলেন সেরেনা। সিনসিনাটি ওপেনেও তারা ম্যাচের টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেন। ভেনাস এবার ইউএস ওপেনে মেয়েদের এককে প্রথম রাউন্ডে হেরে বিদায় নিয়েছেন। ২০১৮ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে তারা সর্বশেষ জুটি বেঁধে শিরোপা জেতেন।
সাদা পোশাকে দুই বোন কোর্টে নামার সময় গ্যালারির দর্শক তুমুল করতালিতে তাদের স্বাগত জানান। তবে তাদের হারিয়ে দর্শকের উন্মাদনায় খানিকটা জল ঢেলে দেন মায়া জয়েন্ট ও চ্যান হাও-চিং জুটি। জয়ের পর জয়েন্ট বলেন, “স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল রূপকথার মতো। এমন সব কিংবদন্তির বিপক্ষে খেলতে পারাটা বিশেষ কিছু।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতের ঘোষিত লংমার্চের ফলে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় এবং ১ লাখ লিটার তেল অপচয় হওয়ার কারণে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি শনিবার নিজের ভেরিফায়েড
-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান। রাশেদ খাঁন লেখেন, বিরোধীদলের নেতাদের মুখে হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের লংমার্চে দলের নেতাকর্মীদের বাইরে সাধারণ মানুষের কোন আগ্রহ বা অংশগ্রহণ নেই। তারা ধারণা করেছিল রাস্তার দুই ধারে জনতার ঢল নামবে, কিন্তু জামায়াতের আমিরের গাড়ি জনতার উপচেপড়া ভিড়ে যেতে পারবে না। তবে লংমার্চে এত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারেনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট, যেখানে ২টি দল জামায়াত জোট ছেড়ে গেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাস নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত। ৬ মাসের সরকারের ওপর ১৮-২০ বছরের সমস্যা, সংকট ও অব্যবস্থাপনার দায় চাপানোর চেষ্টা মূর্খতার শামিল। তিনি বলেন, সরকার স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংসদ (সনদ) বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, বিরোধীদলের ৬ দফায় জনগণের কোন আগ্রহ নেই। বরং রাস্তাঘাট বন্ধ রাখার ফলে এবং ১ লাখ লিটার তেল অপচয় করার কারণে জনভোগান্তি ও জ্বালানি সংকট আরও বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। জামায়াতের লংমার্চের কারণে এই গাড়িগুলো চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শেষে তিনি লেখেন, এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার লোকসান হবে। জামায়াত সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে এবং মিথ্যাচার ও প্রতারণাকে পুঁজি করে জনগণের ওপর একপ্রকার জোরপূর্বক লংমার্চ নামক আন্দোলন চাপিয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবার বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্থান করে নিয়েছে। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ নির্বাচিত হয়েছে ‘ওরিজন্তি’ প্রতিযোগিতা বিভাগে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইতালির লিডো দি ভেনেজিয়ায় ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা হয়েছে। এবারের আয়োজন ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশ্বের খ্যাতিমান তারকা, নির্মাতা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের এই অর্জন আলাদা করে নজর কাড়ছে। রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ উৎসবের ‘ওরিজন্তি’ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এই উৎসবেই সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২০১০ সালে ইশতিয়াক জিকোর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭২০ ডিগ্রি’ ভেনিসে নির্বাচিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা এবারই প্রথম উৎসবটির প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে স্থান পেল। তাই দেশের চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর এই অংশগ্রহণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি ঢাকার এক নববধূকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। বিয়ের প্রস্তুতির সময় সৌন্দর্যচর্চা, পারিবারিক প্রত্যাশা ও সামাজিক চাপের পাশাপাশি তার চরিত্র অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে থাকে। গল্পে বাস্তবতার সঙ্গে অতিপ্রাকৃত আবহও মিশে রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি এবারের ভেনিস উৎসব তারকাবহুল আয়োজনে শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে ব্রিটিশ নির্মাতা ড্যানি বয়েলের ‘ইঙ্ক’। রুপার্ট মারডকের সংবাদমাধ্যম সাম্রাজ্য ও এর প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার উদ্বোধনী রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ সম্মান পেয়েছেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি। অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি হিসেবে উৎসবের আজীবন সম্মাননা ‘গোল্ডেন লায়ন’ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক তারকাদের ঝলক ও জমকালো আয়োজনের ভিড়ে এবারের ভেনিসে বাংলাদেশের উপস্থিতিই দেশের দর্শকদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। ১২ সেপ্টেম্বর উৎসবের পর্দা নামার আগে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ঘিরে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘দিল চাহতা হ্যায়’ মুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও সম্পর্কের গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি আজও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করে আছে। এই বিশেষ উপলক্ষ্যে সিনেমাটির কলাকুশলী ও নির্মাতারা সম্প্রতি একটি আড্ডায় অংশগ্রহণ করে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। সেখানেই সিনেমার একটি দৃশ্যের পেছনের চমকপ্রদ ঘটনা সামনে এসেছে।
সিনেমাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে আমির খানের গালে অক্ষয় খান্নার চড় মারার দৃশ্য রয়েছে। তবে পর্দায় যে চড়টি দেখা যায়, সেটি অভিনয়ের অংশ নয়। দৃশ্যটি বাস্তবসম্মত করার জন্য অক্ষয় খান্না সত্যিই আমির খানকে চড় মেরেছিলেন। এটি একবার নয়, টানা ১৭ বার ঘটেছিল।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আমির খান বলেন, দৃশ্যটির জন্য তিনি বারবার চড় খেতে প্রস্তুত ছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে বাস্তব চড়ের অনুভূতি দৃশ্যটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
ঘটনাটি সম্পর্কে সাইফ আলি খান জানতে চান, চড়গুলো কি সত্যিই মারা হয়েছিল। এ বিষয়ে পরিচালক ফারহান আখতার জানান, অক্ষয়কে সত্যিকারের চড় মারার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দৃশ্যটিকে আরও আকস্মিক ও বাস্তবসম্মত করতে সংলাপ শেষ হওয়ার আগেই চড় মারার পরিকল্পনা করা হয়।
ফারহানের বক্তব্য অনুযায়ী, আমিরকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল যে চড়টি সত্যি হবে এবং আমিরও এতে সম্মতি দেন। বরং তিনি বারবার চড় খাওয়ার জন্য নিজেই জোর করছিলেন। কারণ এতে চরিত্রটির প্রয়োজনীয় মানসিক অবস্থায় পৌঁছাতে তার সুবিধা হচ্ছিল।
শুধু তাই নয়, শুটিং শেষে আমিরের মুখের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফারহান আখতার জানান, তার মুখের এক পাশে চড়ের দাগ পড়ে গিয়েছিল এবং অংশটি প্রায় ফুলে উঠেছিল।
আমিরও পরে স্বীকার করেন, বাস্তবে চড় মারার বিষয়টি দৃশ্যটিকে আরও কার্যকর করেছে। ক্যামেরার কোণ ও অভিনয়ের সঙ্গে বাস্তব প্রতিক্রিয়া মিলে যাওয়ায় দৃশ্যটি পর্দায় আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল।
২৫ বছর পর ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর সেই দৃশ্যের পেছনের গল্প প্রকাশ্যে আসায় সিনেমাটির নির্মাণের নানা অজানা অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র :
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা আর কোনো শ্রমিকের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নেই, এমন তথ্য দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। শুক্রবার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে তল্লাশি চালিয়ে দুই শ্রমিককে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, সুড়ঙ্গের ভেতরে আর কোনো জীবিত বা মৃত শ্রমিকের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই অবস্থায় সুড়ঙ্গটির উদ্ধার অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্য অম্বর মহাত জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের প্রায় পুরো অংশই কাদা, মাটি ও পাথরে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও ওপরের কংক্রিটের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা হামাগুড়ি দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান। কিন্তু কোথাও আর কোনো মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর আগে ৯ দিন পর শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওই সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় দুই শ্রমিক—সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজনকে উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয় আরও এক শ্রমিকের মরদেহ। দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারের সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে আরও মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছিল। এতে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। তবে পরে উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় সেই আশা শেষ হয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযানে থাকা ভূতাত্ত্বিক প্রকৌশলী উদয় নেউপানে জানিয়েছেন, বন্যার দুই দিন পর থেকেই সুড়ঙ্গের ভেতরে উদ্ধারকাজ চলছিল। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ অংশে কিছু ফাঁকা জায়গা থাকায় সঞ্জয় ও কবীর সেখানে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান আঘাত হানে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক আটকা পড়েন।
নেপালের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার ভোর পর্যন্ত হড়পা বানে দেশটিতে ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের প্রধান অভাস ওঝা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়েও আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ