ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল


শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নেসা প্রকাশ ইরা মনি হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় পেছানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে অথবা সম্ভাব্য আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন। তবে অনিবার্য কারণে রায় ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার

আব্বাস হোসেন জানিয়েছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে অথবা সম্ভাব্য বৃহস্পতিবার নতুন তারিখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত বসলে দুপুরে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

মামলার একমাত্র আসামি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবু শেখ (৪৫)। তিনি গত ৩০ জুন আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে ছয় কার্যদিবসে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

অভিযোগপত্র দাখিলের পর মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বাবু শেখ। পরে সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইরা মনিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ইরা মনির মা সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের পর ২১ জুন থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ভারতের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের

সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক নেতৃত্বও পানি অধিকার রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রয়োজনে তারা ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধের’ পথে যাবে। এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা থেকে। ওই হামলার জেরে ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দুই জাতি পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর সম্পর্ক সংকটের মুখে পড়েছে। ইসলামাবাদে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ২৭৬তম কোর কমান্ডার্স কনফারেন্সে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা পানি ইস্যুতে তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, দেশের ন্যায্য পানি অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে কৌশলগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এনএসসি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, সিন্ধু নদ ব্যবস্থার পানি প্রবাহ বন্ধ করা বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো ভারতীয় পদক্ষেপকে তারা ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে গণ্য করবে। এদিকে এক জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে কোনো আপস হবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পানি ইস্যুকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুদ্ধের মাধ্যমেই পাকিস্তান নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। পাশাপাশি, ওই বৈঠকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উক্তির জবাব দিতে গিয়ে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের কারণে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক সমর্থন জানিয়ে তারা সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আগের মতো ওই চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির অধীনে রাভি, সুতলেজ ও বিয়াস নদীর পরিচালনা ভারতের অধীনে এবং সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। চুক্তির আওতায় ভারত বর্ষা মৌসুমে পাকিস্তানকে বন্যার সতর্কবার্তা প্রদান করত। তবে বর্তমানে চুক্তি স্থগিত থাকায় ভারত আর সেই তথ্য দিতে বাধ্য নয়। একই সাথে, সিন্ধু অববাহিকার সাওয়ালকোট, রাতলে, বুড়সার, পাকাল দুল, কাওয়ার, কিরু ও কিরথাইসহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্র প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশটির পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা মাত্র এক মাসের প্রবাহের সমান। তারবেলা ও মাংলা জলাধারের পানির স্তর কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তান গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো, জাতিসংঘে চিঠি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার মতো নানাবিধ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়পক্ষই পানি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির আফগানিস্তানের গাড়ির যন্ত্রাংশ বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির আফগানিস্তানের গাড়ির যন্ত্রাংশ বাণিজ্য

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে দূর-দূরান্ত থেকে আমদানি করা গাড়ির যন্ত্রাংশের একসময়কার জমজমাট বাণিজ্য বর্তমানে দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সংঘাতের কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

গাড়ির যন্ত্রাংশের বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার পেছনে রয়েছে সীমান্তওলোর সংঘাতের ফলে গভীর প্রভাব। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে সহিংসতার জেরে সীমান্ত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তখনই স্পিন বোলদাক বাজারে প্রথম বড় ধাক্কা আসে।

নিউজ এজেন্সি এএফপি জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল বাকি বিনা বলেছেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমরা অনেক কষ্টে ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দর দিয়েও পণ্য রপ্তানি করতাম। অন্তত তখনও একটি পথ খোলা ছিল।’

জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাকিস্তান হয়ে স্থলপথে স্পিন বোলদাকে আসা গাড়ির যন্ত্রাংশ পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে আনা শুরু হয়। যদিও পথটি ছিল দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল, তবুও অন্তত ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।

আবদুল বাকি বিনা আরও বলেন, ‘এ যুদ্ধ আফগানিস্তানের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’ এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। নৌপরিবহন কোম্পানিগুলোও সতর্ক করে জানায় যে, এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।

যুদ্ধের আগে স্পিন বোলদাকে পৌঁছানো যন্ত্রাংশ দিয়ে স্থানীয়ভাবে নতুন গাড়ি সংযোজন করা হতো অথবা সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে মেরামতের কাজে সরবরাহ করা হতো। দুবাই ও জাপান থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক আসাদুল্লাহ, যিনি এক নামেই পরিচিত, বলেন, কয়েক মাস ধরে এ সংঘাত ‘ব্যবসাকে পঙ্গু করে দিয়েছে’ এবং নিজের কার্যালয়ে একটি ঘূর্ণায়মান বৈদ্যুতিক পাখার পাশে বসে তিনি বলেন, ‘আগে প্রতিদিন আমাদের ইয়ার্ডে দুটি করে কনটেইনার খোলা হতো।’

একজন ৪০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একটি কনটেইনার পরিবহনের খরচ প্রায় ২ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ টাকা) থেকে বেড়ে ৮ হাজার মার্কিন ডলারে (প্রায় ৮ লাখ টাকা) পৌঁছেছে।

তিনি জানান, বর্তমানে তার ৩০টিরও বেশি কনটেইনার জাপান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে আছে, যার প্রধান কারণ দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা, যা আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থা বিশ্বব্যাংক মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আফগানিস্তানকে ‘বহিঃস্থ ধাক্কারের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হচ্ছে, ২০২৫ অর্থবছরে দেশটির আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান জিডিপির ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

জাপান থেকে যন্ত্রাংশ আমদানিকারক মাসুদ বলেন, ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তার কোনো ব্যবসাই হয়নি। একটি ক্যালকুলেটর ও হিসাবের খাতার পাশে বসে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আগে প্রতি মাসে কয়েক ডজন, এমনকি শত শত কনটেইনার আমদানি করতাম। এখন তা শূন্যে নেমে এসেছে।’

তিনি আরও জানান, তার কিছু কনটেইনার সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু গুদাম ভাড়ার খরচ বাড়তে থাকায় সেগুলো আবার জাপানে ফেরত পাঠাতে শুরু করেছেন। মাসুদ বলেন, ‘আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। অন্য কোনো পথও দেখছি না। এটি সম্পূর্ণ লোকসান।’

এ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্পিন বোলদাক বাজারে কর্মরত হাজারো মানুষের ওপর। তাদের একজন ক্রেনচালক ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নাঈম। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমাকে এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজ খুঁজতে হবে।’

যেসব অন্ধকার কর্মশালায় একসময় গাড়ি তৈরি হতো, সেখানে এখন কর্মীরা অলস বসে থাকেন। যন্ত্রপাতি ও গাড়ির চাকা ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়েছে। এক নাম ব্যবহারকারী ৩০ বছর বয়সী কর্মশালার মালিক সামিউল্লাহ বলেন, আগে তারা প্রতি সপ্তাহে পাঁচ থেকে সাতটি গাড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু নতুন যন্ত্রাংশ না আসায় সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আর কোনো কাজ থাকবে না। লোকসান দিন দিন বাড়তেই থাকবে।’ কারণ কাজ না থাকলেও তাকে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে।

বাজারের একটি গাড়ির শোরুমে জাপান থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি এক ডজন রঙিন গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে মালিক নূর আলী বলেন, ‘স্পিন বোলদাকে খুব কম কনটেইনার আসছে। ফলে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।’ তিনি জানান, এক মাস ধরে তিনি একটি গাড়িও বিক্রি করতে পারেননি। অবিক্রীত গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় চুম্বক কারখানা স্থাপনে লিনাস ও দক্ষিণ কোরিয়ার জেএস লিংকের চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


মালয়েশিয়ায় চুম্বক কারখানা স্থাপনে লিনাস ও দক্ষিণ কোরিয়ার জেএস লিংকের চুক্তি

অস্ট্রেলিয়ার বিরল খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান লিনাস মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার জেএস লিংকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে একটি স্থায়ী চুম্বক কারখানা নির্মাণের জন্য, যা মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে লিনাসের কাঁচামাল উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ার সংযুক্তি ঘটানো হবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

লিনাস জানিয়েছে, তারা কুয়ালালামপুর থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (১৬০ মাইল) পূর্বে কুয়ান্তানে নিজেদের কারখানার কাছে স্থাপন করতে যাওয়া এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

প্রস্তাবিত কারখানায় প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার টন চুম্বক উৎপাদন করা হবে, এবং এসব চুম্বক তৈরিতে বিরল খনিজ উপাদান নিওডিমিয়ামের সঙ্গে লোহা ও বোরন ব্যবহৃত হবে।

লিনাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব চুম্বক দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারে গাড়ি নির্মাণ, বায়ুশক্তি উৎপাদন এবং ইলেকট্রনিকস শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, লিনাস নতুন মালয়েশিয়ান কারখানার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়েসান এলাকায় জেএস লিংকের কারখানায় বিরল খনিজ উপাদান সরবরাহ করবে।

এই বিশেষ বাণিজ্যিক চুক্তিটি কার্যকর থাকবে ২০৩৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

এই প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১২ সাল থেকে চালু রয়েছে লিনাসের জেবেং কারখানা।

এখান থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন পণ্যে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহ করা হয়।

বিশ্বের বিরল খনিজ বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে লিনাস।

বাকি প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদন হয় চীনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫১ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


৫১ লাখ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেফতার

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান জালিয়াতি করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল বর্তমান ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। অপর দুইজন হলেন বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নূর ইসলাম। পার্থ সারথী পাল ফুলগাজীর ফতেহপুর গ্রামে, নূর ইসলাম উত্তর বরইয়া গ্রামে ও মো. ফিরোজ পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে বাড়ি করেন।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম। তিনি বিদায়ের আগে উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি অংশ) এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল ও অসঙ্গতি দেখতে পান।

গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে সরকারি অর্থ লোপাট করে আসছিল বলে জানা গেছে। সাধারণত ইউএনওর কাছ থেকে চেকে বৈধ স্বাক্ষর নেওয়ার পরে মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা বসিয়ে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিত তারা। চেকে টাকার বানানের অংশেও নিখুঁতভাবে পরিবর্তন করানো হতো। তবে চেকবইয়ের ভেতরের মুড়ি অংশে আসল হিসাবটি লেখা থাকত যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কারও সন্দেহ না হয়। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এভাবে টাকা তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। এরপর মার্চ মাসেই মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে গেলে এই জালিয়াতি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) ইউএনও ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন থানায় একটি জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আজ তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম ও বিদায়ী ইউএনও ফাহরিয়া ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'চেক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে, ও অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে। জালিয়াতি সংক্রান্ত ব্যাংকের নথিপত্র ও চেকগুলো আমরা নিবিড়ভাবে যাচাই করছি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%