০১:৪৯ পি.এম
সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক নেতৃত্বও পানি অধিকার রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রয়োজনে তারা ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধের’ পথে যাবে। এই উত্তেজনার সূত্রপাত গত বছর কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা থেকে। ওই হামলার জেরে ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দুই জাতি পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর সম্পর্ক সংকটের মুখে পড়েছে। ইসলামাবাদে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ২৭৬তম কোর কমান্ডার্স কনফারেন্সে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা পানি ইস্যুতে তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, দেশের ন্যায্য পানি অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈঠকে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) পূর্ববর্তী নির্দেশনার আলোকে কৌশলগত প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এনএসসি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, সিন্ধু নদ ব্যবস্থার পানি প্রবাহ বন্ধ করা বা অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো ভারতীয় পদক্ষেপকে তারা ‘যুদ্ধের শামিল’ হিসেবে গণ্য করবে। এদিকে এক জনসভায় বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে কোনো আপস হবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত পানি ইস্যুকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুদ্ধের মাধ্যমেই পাকিস্তান নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। পাশাপাশি, ওই বৈঠকে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উক্তির জবাব দিতে গিয়ে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের কারণে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক সমর্থন জানিয়ে তারা সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ থেকে স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আগের মতো ওই চুক্তি কার্যকর রাখা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির অধীনে রাভি, সুতলেজ ও বিয়াস নদীর পরিচালনা ভারতের অধীনে এবং সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। চুক্তির আওতায় ভারত বর্ষা মৌসুমে পাকিস্তানকে বন্যার সতর্কবার্তা প্রদান করত। তবে বর্তমানে চুক্তি স্থগিত থাকায় ভারত আর সেই তথ্য দিতে বাধ্য নয়। একই সাথে, সিন্ধু অববাহিকার সাওয়ালকোট, রাতলে, বুড়সার, পাকাল দুল, কাওয়ার, কিরু ও কিরথাইসহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্র প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশটির পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা মাত্র এক মাসের প্রবাহের সমান। তারবেলা ও মাংলা জলাধারের পানির স্তর কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তান গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো, জাতিসংঘে চিঠি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার মতো নানাবিধ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারত এবং পাকিস্তান উভয়পক্ষই পানি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন