রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০৩:০২ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে প্রায় ৫৭ বছর ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে। টিনের ছাদের অসংখ্য ছিদ্র, কাদামাটির মেঝে, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং অনুপযোগী খেলার মাঠ নিয়ে শিক্ষাকাজ চলছে চরম দুর্ভোগে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনের চালায় মরিচা ধরে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি পড়লেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। মাটির মেঝেতে কাদা পড়ে থাকে, ফলে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গরমের দিনে টিনশেড কক্ষে অসহনীয় তাপমাত্রা থাকায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। আশেপাশের নিচু খেলার মাঠে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গিয়ে সেটিও এখন খেলাধুলার উপযোগী নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছে, তারা অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো আধুনিক পাকা ভবনে বসে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাঁদনী ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলভি রহমান বলেছেন, "বৃষ্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের দিনে টিনশেড কক্ষে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর। আমরা দ্রুত একটি পাকা ভবন চাই।"
বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে শাহাবুদ্দিন তালুকদারের উদ্যোগে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত হয়ে বর্তমানে জরাজীর্ণ সাতটি কক্ষে ১৭০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহানারা আক্তার মন্তব্য করেছেন, "আমরা জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম ঝুঁকিতে আছি। বর্ষা কিংবা ঝড়ের সময় আতঙ্ক দেখা দেয়। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের প্রয়োজন।"
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেছেন, "উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়ে আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার প্রয়োজনীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হলে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, "শিক্ষার্থীদের নিরাপদ এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। উত্তর নীলতি সমতট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ফেনী আগমনের শতবর্ষ পূর্তি এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী নজরুল মেলা আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার ফেনী সাহিত্য সভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু।
এর আগে, সকাল ১০টায় শহরের মিজান রোডের গ্র্যান্ড হক টাওয়ারে নজরুল ম্যূরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মাধ্যমে দিনটির উদ্বোধন করা হয়। পরে, ১১টায় নবীন চন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টারে মেলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা।
ফেনী সাহিত্য সভার আহবায়ক কবি শাবিহ মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার, সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী বরাত এবং নজরুল গবেষক অধ্যাপক গাউছুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘কাজী নজরুল সর্বগুণে গুণান্বিত একজন ব্যক্তি। তার সকল ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে। যেখানে অন্যায় ও নির্যাতন হতো সেখানে তিনি বিদ্রোহী হয়ে হাজির হতেন। নজরুল ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণা। নজরুলের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করি। তিনি আমাদের ধর্মে সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি শিখিয়েছেন সকল ধর্ম ঐক্যবদ্ধ থেকে কিভাবে যার যার ধর্ম পালন করা যায়।’
মজনু আরো বলেন, ‘গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদ আমাদের কিভাবে গ্রাস করেছে, কিভাবে জুলুম-নির্যাতন করেছে তা আমরা দেখেছি। আমার মনে হয়, যদি নজরুল বেঁচে থাকতেন তাহলে তার লেখনির মাধ্যমে আরো আগে ফ্যাসিবাদের পতন হয়ে যেতো। নজরুলের লেখনি আমাদের সবসময়ে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’
ফাতিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা যে নারী জাগরণের কথা এখন চিন্তা করি, সেটা কাজী নজরুল আরো একশ’ বছর আগে চিন্তা করে গেছেন। নজরুল আমাদের গর্ব। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নজরুলদের মাধ্যমে এগিয়েছি। নজরুলদের অনুপ্রেরণার ফল ৭১ ও ২৪। নজরুলের যে কাজ, সেটা যেন আমাদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ জেলায় জন্ম নিয়েছে অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি। এখানে কবি ও লেখক অনেক। এ জন্য ফেনীতে নজরুল প্রাসঙ্গিক। এখানে নজরুল নিয়ে আলোচনা হয়।’
আয়োজনে ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, নজরুলের ছবি প্রদর্শন, নজরুল বিষয়ক স্মারক বক্তব্য, নজরুল সম্মাননা, নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠ, নাচ, গান ও আবৃত্তি।
এসময় নজরুল গবেষক আবু হেনা আব্দুল আউয়াল ও গাউছুর রহমান কে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় মরক্কো থেকে হঠাৎ করে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় মাদ্রিদসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
সেউতার শীর্ষ কর্মকর্তা হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, মাত্র তিন দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ৮৪ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র থেকে জানানো হয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভিভাস বলেন, এ ঘটনার ব্যাপকতা ২০২১ সালের মে মাসের আগের একই ধরনের ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি। ওই সময় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিল।
উত্তর আফ্রিকার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা স্প্যানিশ সাংবাদিক ইগনাসিও সেমব্রেরো বলেন, বুধবার থেকে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী কার্যত নিষ্কৃয় অবস্থায় ছিল।
তিনি জানান, ‘সেউতা ও মরক্কোর সীমান্ত চিহ্নিত করা বাঁধে পৌঁছানোর পথে পুলিশ ও সহায়ক বাহিনীর কয়েকটি স্তরের অবস্থান থাকে। স্পষ্টতই তাদের পার হয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
এর একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা বলা হচ্ছে। এই রায়ে বলা হয়, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের অন্যদের মতো দ্রুত ফেরত পাঠানো যাবে না।
সেমব্রেরো বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ৮ জুলাইয়ের রায় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে, এত বড় মাত্রার সংগঠিত কার্যক্রমের ব্যাখ্যা একক ভাবে এটি হতে পারে না।’
কেউ কেউ মনে করছেন, স্পেন সরকারের তুলনামূলক উদার অভিবাসন নীতিও এই পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
মরক্কোর জন্য কি এটি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার?
কিছু বিশ্লেষকের মতে, মরক্কো কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি হাতিয়ার হিসেবে অভিবাসন ইস্যু ব্যবহার করছে।
১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই মরক্কো সেউতা ও মেলিয়ার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। তবে স্পেন এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সেমব্রেরো বলেন, স্পেনকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য মরক্কো ‘একটি সুযোগ দেখেছে।’
শুক্রবার ইতালি ঘোষণা করেছে, স্পেনের সঙ্গে অবাধ সীমান্ত চলাচল ব্যবস্থার শেনজেন নিয়ম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে।
এই নিয়ম ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। নির্দিষ্ট কিছু কারণেই কেবল সীমিত সময়ের জন্য এটি স্থগিত করা যায়।
ইতালির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে মাদ্রিদ। তবে, এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এএফপির সঙ্গে কথা বলা আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমান আইনি কাঠামোর আওতায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য স্পেনের প্রতি ‘সংহতি’ প্রকাশ করেছে।
তবে পরে ফ্রান্স জানায়, শনিবার স্পেন সীমান্তে পুলিশের সংখ্যা পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে।
পর্তুগালও বলেছে, তারা তাদের দক্ষিণাঞ্চলের স্থল ও সমুদ্র সীমান্তে নজরদারি জোরদার করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পেরু। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার এ তথ্য তুলে ধরেছেন।
রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি দায়িত্ব গ্রহণ করার কয়েক দিন পরেই এ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মাদক চক্রবিরোধী জোটে লাতিন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রপন্থি কয়েকটি দেশের সরকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও এল সালভাদর রয়েছে।
জোটভুক্ত দেশগুলো আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় তথ্য বিনিময় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে থাকে।
পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে গিয়ে কেইকো ফুজিমোরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়লাভ করেন। মঙ্গলবার দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
শুক্রবার লিমায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস এসপা বলেন, ‘আমরা ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ আমাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা অব্যাহত রাখব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কৌশলগত অংশীদার, মিত্র ও বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চমৎকার সম্পর্ক আরও গভীর করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের পেরু দূতাবাসে পূর্বে কাজ করা এসপা বলেন, অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কোকেন উৎপাদনকারী দেশ পেরুতে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া একটি বই, যা প্রায় দেড় শতক আগে নেওয়া হয়েছিল, অবশেষে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বইটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত অ্যান্টি-কুইটিজ অব অ্যাথেন্স নামে পরিচিত। বাড়ি সংস্কারের সময় এই বইটি একটি বন্ধ চিমনির ভেতরে লুকানো চায়ের কাঠের বাক্সে উদ্ধার করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জন্য তার উপর যে জরিমানা ছিল, সেটি বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা হতে পারত।
কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরি গত সপ্তাহে প্রায় ১৫০ বছর আগে ধার নেওয়া একটি বই ফিরিয়ে পেয়েছে। লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানায়, বইটি একজন ব্যক্তির বাড়ি সংস্কারের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। বইটি একটি ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া অগ্নিকুণ্ডের (ফায়ারপ্লেস) ভেতরের চায়ের কাঠের বাক্সে লুকানো ছিল।
কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন বলেন, লাইব্রেরির প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় ধরে ফেরত না দেওয়া বইটির জরিমানা, মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করে, প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে দাঁড়ায়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এত পুরোনো কোনো বই আমাদের কাছে আগে কখনও ফেরত আসেনি।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি যেসব লাইব্রেরিগুলিকে অনুসরণ করেন, সেখানে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর বই ফেরত আসার ঘটনা দেখা যায়।
এছাড়া, বইটি কে ধার নিয়েছিল, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার, যেখানে ধার নেওয়া বই ও ব্যাক্তির তথ্য ছিল, তা হারিয়ে গেছে। হাডসন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে সেই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগটি নেই। বইটির ভেতরেও সর্বশেষ কেউ এটি নিয়েছিলেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’
লাইব্রেরির তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী, ধার নেওয়া বই ফেরত না দিলে নতুন বই নেওয়া যেত না। যদি কোন পরিবারে অন্তত ছয়জন পড়তে জানতো, তারা সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারতো। মাতাল অবস্থায় কেউ আসলে তাকে বই দেওয়া হতো না।
লাইব্রেরির প্রাথমিক এক হাজার বইয়ের সংগ্রহে ৫০৬ নম্বর বইটি ছিল। দীর্ঘদিন চিমনির পাশে থাকায় বইটি পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাইব্রেরির ১৮৭২ সালে চালু হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই বইটি হারিয়ে যায়।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায়, বইটি এখন কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহে প্রদর্শন করা হবে। মিশেল হাডসন মজা করে বলেন, ‘এবার আর বইটি কাউকে ধার দেওয়া হবে না। আবার এটি ফেরত পেতে আমি আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ