০৭:৫২ পি.এম
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আস্কারপুর গ্রামে শেখ এবাদুল ইসলাম নামে এক ভুঁইফোড় ও ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে। চিকিৎসাসেবার নামে সাধারণ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে ওই তথাকথিত চিকিৎসকের আস্তানায় গিয়ে দেখা যায় এক আশঙ্কাজনক চিত্র। চেম্বারের বাইরে গাদাগাদি করে অপেক্ষা করছেন প্রায় ৫০ জন রোগী, যাদের অধিকাংশই অবুঝ শিশু এবং নারী। ডাক্তারের চটকদার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে তারা এসেছেন চিকিৎসা নিতে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা সবিতা রাণী নামের এক ভুক্তভোগী নারী আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি কিছু জটিল ও গোপনীয় রোগের চিকিৎসার জন্য এই ডাক্তারের কাছে আসছি। কিন্তু দিনের পর দিন টাকা ঢাললেও কোনো সুফল পাচ্ছি না, বরং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন নাগরিক জানান, নিজের নামের আগে ডাক্তার পদবি এবং প্যাডে বড় বড় ডিগ্রি ব্যবহার করলেও শেখ এবাদুল ইসলাম মূলত নিম্নমাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হতে পারেননি। নূন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া কীভাবে একজন ব্যক্তি মানুষের জীবন-মরণ নিয়ে এমন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ও শিশু কিংবা স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে হলে একজন চিকিৎসককে এমবিবিএস ডিগ্রির পর অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকলজি (প্রসূতিবিদ্যা ও স্ত্রীরোগবিদ্যা) বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। কিন্তু ভুয়া ডাক্তার এবাদুল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজেকে মহাখালী ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান আই,সি,ডি,ডি,আর,বি (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজি রিচার্জ, বাংলাদেশ) থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত বলে দাবি করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার এই দাবিকৃত ডিগ্রিও সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট। আই,সি,ডি,ডি,আর,বি-এর মতো নামকরা প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়া পরিচয়ে প্রেসক্রিপশন দিয়ে তিনি প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে অঙ্গহানি বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে চিকিৎসকদের পবিত্র পেশাকে চরমভাবে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথিত ডা. শেখ এবাদুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে নাম্বার টা বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) সনদ ব্যতীত নিজেকে ডাক্তার দাবি করা এবং প্রেসক্রিপশন দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। নিম্নমাধ্যমিক পাস কোনো ব্যক্তির পক্ষে চিকিৎসা দেওয়া মানে মানুষের জীবনকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। আই,সি,ডি,ডি,আর,বি-এর ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীদের প্রতারিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের ভুঁইফোড় ও ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেব না। খুব শীঘ্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তার চেম্বার সিলগালা করা হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ যখন এই ভুয়া ডাক্তারের শাস্তি দাবি করছেন, ঠিক তখন সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম উক্ত ভুয়া ডাক্তার শেখ এবাদুল ইসলামের পক্ষে সাফাই গেয়ে এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে পিয়ারুল সরদার নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা
তিনি শেখ এবাদুল ইসলামের পক্ষাবলম্বন করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেখুক বিষয়টা। তারপর না হয় আমি ব্যবস্থা নিব।
জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি হয়েও সিভিল সার্জন কীভাবে একজন ভুয়া ও নিম্নমাধ্যমিক পাস ব্যক্তির পক্ষে এমন প্রকাশ্য ও বিতর্কিত বক্তব্য দিতে পারেন, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ওপরের মহলের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণেই এসব ভুঁইফোড় চিকিৎসকরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আই,সি,ডি,ডি,আর,বি-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়া পরিচয়ে রোগীদের কাছ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই ভুয়া ডাক্তারের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: আমার দেখা মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রফিকুল ইসলাম জামাল ভাইয়ের অবিস্মরণীয় ও কালজয়ী রাজনৈতিক অধ্যায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন