মোঃ উজ্জ্বল মিয়া নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৮:০৯ পি.এম
নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদারের নির্দেশনায় আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম তালুকদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহিম তালুকদার বলেন, ডা. মোহাম্মদ আলী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্বধলা-ধোবাউড়া আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, ডা. মোহাম্মদ আলীর কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদারের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন ফকির, ছায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, সেলিম উদ্দিন, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতিউর রহমান রনক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ বাবু, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল হায়াত খান বাদশা, উপজেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও শামসুল হক মণ্ডল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী তুরাগ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির পাপ্পুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
আলোচনা সভা শেষে ডা. মোহাম্মদ আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. মুজিবর রহমান মণ্ডল।
এর আগে সকালে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডা. মোহাম্মদ আলীর কবর জিয়ারত করেন।
উল্লেখ্য, আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলী ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ৭০ বছর বয়সে মারা যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নারী ও শিশু পাচারসহ বিভিন্ন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। বিশেষ করে বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকার সংবেদনশীল সোমেশ্বরী নদীপথে অবৈধ পারাপার ঠেকাতে নদীর দুই পাড়ে সিসি ক্যামেরা, সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা ও হ্যালোজেন বাতি স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)।
মতবিনিময় সভায় বিজিবির অধিনায়ক বলেন, সীমান্তে অবৈধ চলাচল, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত নয় মাসে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে ৩১ বিজিবি। এসব পণ্যের মধ্যে মদ ও মাদকদ্রব্য, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, গবাদিপশু এবং অন্যান্য মালামাল রয়েছে। এ ছাড়া গত পাঁচ মাসে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় কয়লা ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে টহলের পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিজয়পুর ও ভবানীপুর এলাকায় সোমেশ্বরী নদীপথ দিয়ে অবৈধ পারাপার ও চোরাচালান ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা ও হ্যালোজেন বাতি স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চোরাচালানের উদ্দেশ্যে কেউ অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, আহত হওয়া কিংবা সীমান্তে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এলাকাবাসীকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজিবির অধিনায়ক আরও জানান, গত পাঁচ মাসে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, উঠান বৈঠক ও মাইকিং করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে সার, জ্বালানি তেল, পেঁয়াজ ও রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচার ঠেকাতেও নজরদারি রয়েছে বলে জানান তিনি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ রসুন জব্দ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সার বা জ্বালানি তেল পাচারের ঘটনা নেই বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতার আহ্বান জানান ৩১ বিজিবির অধিনায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকি’র অভিযোগ তুলেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটির একটি অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেছে। একই সঙ্গে দলের আরেকটি অংশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ-ঘরানার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা নিজের পক্ষে নিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন, যেসব ভোটকেন্দ্রে তার বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দিন তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
জমিয়ত নেতা বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কাজ করেছে। দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করলে জমিয়তের প্রার্থীও জয়ী হতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব পান ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট।
এদিকে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রসঙ্গে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। ওই প্ল্যাটফর্ম যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কোনো একক রাজনৈতিক দলের জোটে থাকা যাবে না, তাহলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া নারায়ণতলা এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় তৈরি ৯ দশমিক ২৫ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় মো. হেকিম মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের জন্য থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় হেকিম মিয়া বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএনসির এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় এএসআই মনিতা সিনহার নেতৃত্বে সিপাই টিপু কুমার চন্দ, বিশ্বজিৎ দাস ও মো. আশরাফুল ইসলাম রিফাতের সমন্বয়ে একটি রেইডিং টিম গঠন করা হয়। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে দলটি কান্দাপাড়া নারায়ণতলা এলাকায় হেকিম মিয়ার নিজ দখলীয় বসতঘরের সামনে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বসতঘরটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরের উত্তর পাশের কক্ষের উত্তর-পূর্ব কোণের মেঝেতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ভারতীয় তৈরি KINGFISHER STRONG SUPER PREMIUM BEER-এর ১৪টি ক্যান/বোতল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটির ধারণক্ষমতা ৫০০ মিলিলিটার হিসেবে মোট ৭ লিটার বিয়ার পাওয়া যায়।
একই বস্তা থেকে ভারতীয় তৈরি AC BLACK PURE GRAIN DELUXE WHISKY-এর ৬টি বোতল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বোতলে ৩৭৫ মিলিলিটার করে মোট ২ দশমিক ২৫ লিটার হুইস্কি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের পরিমাণ ৯ দশমিক ২৫ লিটার। জব্দকৃত আলামতের আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএনসি সূত্রে আরও জানা যায়, উদ্ধারকৃত আলামত থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য একটি KINGFISHER বিয়ার ও একটি AC BLACK হুইস্কির বোতল নমুনা হিসেবে পৃথকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। অবশিষ্ট আলামতও সিলগালা করে হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় জব্দতালিকা প্রস্তুত এবং উদ্ধারকৃত আলামতের স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়।
এ ঘটনায় মো. হেকিম মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(ক) ধারায় মামলা দায়েরের জন্য সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সুনামগঞ্জ তদন্ত করবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৪৫) আজও খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বামী মোঃ ইদ্রিস আলী খা (৬৫)। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও প্রিয় স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি ইদ্রিস আলী খা।
ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলী খা জানান,বিয়ের পর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে প্রায় তিন বছর সংসার করেন তিনি।একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মনোয়ারা এরপর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি।
স্ত্রীর খোঁজ নিতে তাঁর বাবার বাড়িতে যোগাযোগ করেন ইদ্রিস আলী খা।কিন্তু সেখানেও মনোয়ারাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মনোয়ারা মিরপুর-১ নম্বর লালকুঠি বড় মসজিদের পাশে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।
খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ইদ্রিস আলী খা।কিন্তু সেখানে গিয়েও স্ত্রীর দেখা পাননি তিনি। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন,মনোয়ারা ওই বাসা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেছেন।এরপর একের পর এক সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজ চালিয়েও স্ত্রী ও মেয়ের কোনো সন্ধান পাননি তিনি।
এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৫ বছর। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও স্ত্রী ও মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বদলায়নি ইদ্রিস আলী খার।দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে আজও তিনি পথ চেয়ে আছেন কখনো হয়তো স্ত্রী ও মেয়ের কোনো খবর আসবে।
ইদ্রিস আলী খা বলেন,দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমার স্ত্রী ও মেয়ের কোনো সন্ধান পাইনি।স্ত্রী-সন্তান ছাড়া আমি খুব অসহায়। তারা যেখানেই থাকুক,ভালো ও সুস্থ থাকুক আল্লাহর কাছে এটাই আমার প্রার্থনা।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং কেউ তাদের সন্ধান পেলে আমাকে জানিয়ে সহযোগিতা করবেন।
তিনি আরও বলেন,বয়স হয়ে গেছে।জীবনের শেষ সময়ে এসে শুধু স্ত্রী ও মেয়েটিকে একবার দেখতে চাই। তারা কোথায় আছে,কেমন আছে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,মনোয়ারা বেগমের বয়স বর্তমানে প্রায় ৪৫ বছর। তাঁর এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের নাম জানা যায়নি।নিখোঁজ হওয়ার আগে মনোয়ারা মিরপুর-১ নম্বর লালকুঠি বড় মসজিদের পাশে একটি বাসায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ মনোয়ারা বেগমের পরিচয়:
নাম:মনোয়ারা বেগম বয়স প্রায় ৪৫ বছর।এক কন্যাসন্তান রয়েছে। সর্বশেষ মিরপুর-১ নম্বর লালকুঠি বড় মসজিদের পাশে থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
স্বামী মোঃ ইদ্রিস আলী খার পরিচয়:
পিতা—মৃত মেছের আলী খা।
গ্রাম—কংশেরকুল।
ডাকঘর—বিরুনীয়া।
থানা—ভালুকা।
জেলা—ময়মনসিংহ।
মনোয়ারা বেগম ও তাঁর মেয়ের সন্ধান জানা থাকলে মোঃ ইদ্রিস আলী খাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ