বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:০৮ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন ছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার একটি মিডিয়া গ্রুপের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান।
তিনি সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম শিল্পের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর না হলে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অপসাংবাদিকতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রকৃত ও মেধাবী সাংবাদিকদের এই পেশায় ধরে রাখতে হলে সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এটি নিশ্চিত করা গেলেই সাংবাদিকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশে স্বাধীনভাবে মেধা, সৃজনশীলতা ও পেশাগত দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে এমন নীতিগত সহায়তা দিতে হবে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকে।
জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের লক্ষ্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে।
তিনি যোগ করেন, প্রচলিত গণমাধ্যম বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের উত্থানের কারণে বিজ্ঞাপনের বৃহৎ অংশ ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তাই মূলধারার গণমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এ সময় তিনি সরকারি বিজ্ঞাপনের বিষয়ে দর্শক ও পাঠক সংখ্যাকেই গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড নিরূপণের মূল ভিত্তি হিসাবে উল্লেখ করে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, নিউজ ২৪ এর বার্তা প্রধান শরিফুল ইসলাম খান, বাংলা নিউজ ২৪ ডটকম এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ কে এম মনজুরুল ইসলাম মনজু এবং কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে খাল পুনর্খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদার, স্থানীয় যুবদল নেতা ও কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে উপজেলার জারিরদোনা শাখা খাল পুনর্খননে এমন অনিয়ম করা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠেছে, এ খাল পুনর্খনন প্রকল্পটিতে প্রায় এক কোটি চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাত্র ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে মানা হয়নি প্রকল্পের প্রাক্কলনের কোনো শর্ত। যে কারণে স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ খাল পুনর্খনন প্রকল্পে পুকুর নয়, যেন সাগর চুরি হয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় কমলনগর উপজেলার জারিরদোনা শাখা খালের হাজিরহাট মেঘনা সিনেমা হল প্রান্ত থেকে দক্ষিণ দিকে পাঁচ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার পুনর্খনেনর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘মেসার্স নীলিমা ট্রেডার্স’ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক কোটি তিন লাখ ৯৬ হাজার টাকায় প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশে খালটির উপর অংশে ১৫ মিটার ও নিচের অংশে দুই দশমিক ৫মিটার প্রস্থ এবং খালটির গভীরে ১০ মিটার খনন করার পাশাপাশি ১৩টি স্পটে রেফারেন্স বেড ব্লক ও ২৬টি টিবিএম নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা নিশ্চিত করা হয়নি। কোথাও খালের পরিবর্তে নালার মতো মাটি কেটে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার এলাকাবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। তাছাড়া খাল পুনর্খননের প্রস্থ ও গভীরতা নিশ্চিতকরণ ও শনাক্তকরণের লক্ষে ১৩টি স্পটে রেফারেন্স বেড ব্লক ও ২৬টি টিবিএম নির্মাণের কথা থাকলেও সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নীলিমা ট্রেডার্স’র সত্ত্বাধিকারী রামগতি পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি অপরূপ দাস থেকে ২৩ লাখ টাকা দিয়ে কাজটি কিনে নেন। এর পর তারা এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মালিকের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা চুক্তির মাধ্যমে কাজটি নামে মাত্র সম্পন্ন করেন। এক্ষেত্রে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী মোট কাজের অন্তত ৩০ শতাংশ শ্রমিক ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোনো শ্রমিক ব্যবহার করা হয় নাই। এছাড়া খালের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ না করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মাঝখান থেকে সীমিত পরিসরে মাটি কেটে খনন কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। ফলে পর্যাপ্ত মাটি দুই পাড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। এতে খালের গাইডওয়াল ধসে পড়ছে এবং পাড়সংলগ্ন সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন খাল খনন প্রকল্পটি যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়। এলাকাবাসী যেন এর সুফল ভোগ করতে পারেন। তাই তারা কোটি টাকার এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় সে দাবিও করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এটি একটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প। কিন্তু দায়সারাভাবে কাজ করে প্রকল্পটির অধিকাংশ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ যেন সাগর চুরি। ঠিকাদার ও যুবদলের নেতারা অফিসারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এমনটি করেছেন। তাই পুরো বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।
পাটারীরহাট ইউনিয়ন বিএনপিার সদস্য শঙ্কর মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাবাসী সুফল পাওয়ার কথা থাকলেও উল্টোটা হয়েছে। কাজের অনিয়মের কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জানতে চাইলে হাজিরহাট ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, নীলিমা ট্রেডার্স থেকে নিয়ে তারা কয়েকজন মিলে কাজটি করেছেন। প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ীই এটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম করা হয়নি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নীলিমা ট্রেডার্স’র সত্ত্বাধিকারী রামগতি পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি অপরূপ দাস বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। এর বেশি কিছু জানতে হলে আপনারা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে দেখা করেন।
প্রকল্পটির তদারকি কর্মকর্তা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ছিদ্দিকী প্রকল্পে কোনো শ্রমিক ব্যবহার না করার কথা স্বীকার করে বলেন, ভেকু মেশিন দিয়ে হলেওতো কাজ করা হয়েছে। আমি কাজটি পরিদর্শনের জন্য দুইদিন গিয়েছি। তখন অন্য সব কিছু ঠিক পেয়েছি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উত্তোলন করে নিয়েছেন। তবে, রেফারেন্স বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের অস্তিত্ব না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
এব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। এব্যাপারে তিনি পরে কথা বলবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম, শান্ত, ওমর ফারুকসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয়। এ সময় তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুধীজন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘জুলাই শহিদ দিবস’কে কেন্দ্র করে বৃক্ষরোপণ, পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আনাস হল চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. এম. এয়াকুব আলী।
উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের সকল শিক্ষার্থী-জনতা এবং পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। বাংলাদেশকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে শহিদ আবু সাঈদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। জুলাই শহিদদের স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজকের এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শহিদ আবু সাঈদসহ জুলাই অভ্যুত্থানে যারা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তাঁদের প্রতি ভাইস চ্যান্সেলর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অভ্যুত্থানে যারা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন তিনি তাঁদের প্রতি সমবেদনা এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার এবং আহতরা পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সহযোগিতা পাবেন, এ বিশ্বাস ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই-আগস্ট-২০২৪ ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস শাহীদ মিয়ার সঞ্চালনায় এ সময় সেখানে শহিদ আনাস হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের, আইআইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুজ্জামান, বিএনসিসির প্রধান সমন্বয়কারী কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বারী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদ আবু সাঈদ সহ জুলাই অভ্যুত্থানে সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আশরাফ উদ্দীন খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের চীন সফরের পরও কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, উত্তরঞ্চলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চল বাজেট বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় কৃষক শক্তির উদ্যোগে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বহু বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য অন্যতম বড় প্রত্যাশা। কিন্তু নানা আলোচনা এবং বিদেশ সফরের পরও প্রকল্পটির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের প্রত্যাশা বারবার ভেঙে পড়ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক বিবেচনায় উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দে অবহেলা করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি বঞ্চনা আরও গভীর হবে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে বুলেট গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের যাত্রা শুরু করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। এ অঞ্চলে যারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই কৃষক পরিবারের মানুষ।"
কৃষকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল সংগ্রহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ক্রমশ সংকটে পড়ছেন। কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, নারী শক্তির আহ্বায়ক নাসিরা খন্দকার নিসাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সার ও বীজের সহজলভ্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ