০৭:২৩ পি.এম
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তেহরান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘আমরা মনে করি, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তাতে কেবল ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থাই লাভবান হবে। আমরা চাই না, দুটি মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা চলতে থাকুক। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কারণে পুরো অঞ্চল আগে থেকেই উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।’
ইরানের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের জনগণের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ থেকে মুক্ত থাকার অধিকারও তাদের রয়েছে। বাঘাই বলেন, ‘গত ১০ থেকে ১২ বছরে ইয়েমেনের জনগণ যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে, ইসলামের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন, উভয়ের দৃষ্টিতেই তা কোনোভাবেই ন্যায্যতা পেতে পারে না।’
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
সৌদি আরবকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান
ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইরান সৌদি আরবকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এই আহ্বান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর পর আঞ্চলিক সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের পর টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, সামরিক পন্থার ওপর জোর দিয়ে রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তিনি মন্তব্য করেন, এ অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
আরাঘচি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতার মধ্যেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি করে। এর পর দুই দেশের দূতাবাস পুনরায় চালু হয় এবং এখনো কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এর আগে সাত বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের সমর্থিত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা আর কত দিন সহ্য করা হবে, তার সীমা রয়েছে। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন